

Published on: ডিসে ১৯, ২০২৫ at ১৮:০০
এসপিটি নিউজ, ঢাকা , ১৯ ডিসেম্বর : জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারীর যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নজিরবিহীন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার শোক ও কড়া হুঁশিয়ারি
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক জরুরি টেলিভিশন ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। হাদিকে ‘শহীদ’ এবং ‘পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “হত্যাকারীদের প্রতি কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না। প্রতিটি নৃশংস অপরাধের বিচার করা হবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নতুন বাংলাদেশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।”
গণমাধ্যম ও কূটনীতিক আবাসে নজিরবিহীন হামলা
হাদির মৃত্যুর সংবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই দৈনিক—প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা ভবন দুটিতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রবেশপথ ও বিভিন্ন তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সাংবাদিক ও কর্মীরা ভেতরে আটকা পড়লে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় রাত ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সহিংসতার আঁচ লাগে কূটনৈতিক এলাকাতেও। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বাসভবনে পাথর নিক্ষেপ এবং ঢাকায় ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই সংবাদপত্রগুলো ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগসূত্র রয়েছে।
ময়মনসিংহে হত্যাকাণ্ড ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
অস্থিরতার সুযোগে ময়মনসিংহে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সব ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সম্পত্তির ধ্বংসের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাচ্ছি।”
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন বিলম্বিত করতেই ইউনূস সরকার পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে। তিনি হাদির মৃত্যুকে ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল’ বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ‘মৌলবাদের ক্যান্সার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বর্তমান অবস্থা
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে হাদির স্মরণে স্লোগান দেয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনের ধ্বংসাবশেষে পুনরায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, একটি ক্ষুদ্র উগ্র গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে এবং এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।আজ বিকেলে হাদীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Published on: ডিসে ১৯, ২০২৫ at ১৮:০০



