দায়িত্ব নিয়েই বড় বার্তা শংকর ঘোষের, বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাকে তুলে ধরাই লক্ষ্য

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ১২, ২০২৬ at ১৮:২৭

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১২ জুন: পশ্চিমবঙ্গের নতুন পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন . শংকর ঘোষ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, পর্যটনকে শুধু ভ্রমণ দর্শনীয় স্থানের প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এদিন উপস্থিত ছিলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।  

দায়িত্ব গ্রহণের দিন নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে মন্ত্রী লেখেন, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি পর্যটনের অসীম সম্ভাবনাকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে নিষ্ঠা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। মানুষের আশাআকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে উন্নয়নের এই যাত্রায় এগিয়ে চলাই আমাদের লক্ষ্য। সকলের আশীর্বাদ শুভেচ্ছা প্রার্থনা করি।

দফতরে পুজো দিয়ে ঈশ্বরের আশীর্বাদ গ্রহণের পর পর্যটনমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন তিনি। প্রথম দিন থেকেই তাঁর সক্রিয়তা এবং পর্যটনকে ঘিরে সুদূরপ্রসারী ভাবনা পর্যটন মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

. ঘোষ জানিয়েছেন, পর্যটন দফতরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরির আগে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য, পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পের বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাঁর কথায়, “পর্যটন নিয়ে আমাদের সরকার কী করবে, তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা আমরা সকলের মতামত নিয়ে তৈরি করব।

পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই খাত রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হতে পারে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের পর্যটকদের পশ্চিমবঙ্গে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান।

শুধু বিদেশি পর্যটকই নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেও তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর মতে, পর্যটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই এই খাতকে আরও শক্তিশালী করে তোলার মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া সম্ভব।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে চান নতুন পর্যটনমন্ত্রী। তিনিপ্রকৃতি বান্ধব পর্যটন’-এর উপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, এমন পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যা প্রকৃতি পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানে বিকশিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে রাজ্যের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে . ঘোষ বলেন, “এই রাজ্যে পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, অরণ্য আছে। পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ধর্মীয় ঐতিহাসিক গন্তব্য। এই বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।

জি২০ সম্মেলনের সময় দার্জিলিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আগমনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছে। আগামী দিনে সেই সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

দার্জিলিং কালিম্পংয়ের পাহাড়ি সৌন্দর্য, সুন্দরবনের বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দীঘামন্দারমণির সমুদ্রসৈকত, ডুয়ার্সের সবুজ বন্যপ্রকৃতি এবং তারাপীঠ, মায়াপুর, কালীঘাটের মতো ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রসব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ভাণ্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সেই সম্ভাবনাকেই আগামী দিনের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে চান নতুন পর্যটনমন্ত্রী।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পর্যটনকে শুধুমাত্র বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং বাংলার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য। পর্যটন মহলের মতে, নতুন মন্ত্রীর এই ইতিবাচক দূরদর্শী ভাবনা আগামী দিনে বাংলার পর্যটন শিল্পে নতুন গতি এনে দিতে পারে।

Published on: জুন ১২, ২০২৬ at ১৮:২৭


শেয়ার করুন