

Published on: জুন ৪, ২০২৬ at ১১:৩৪
নয়াদিল্লি: ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ১০ জুন তিনি দেশের দীর্ঘতম সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নজির গড়তে চলেছেন। এই দিনে তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু-র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা দায়িত্ব পালনের রেকর্ড অতিক্রম করবেন।
২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোটকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে তিনি পরপর তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর প্রভাব অটুট রয়েছে। ১০ জুন তাঁর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা দায়িত্ব পালনের সময়কাল দাঁড়াবে ৪,৩৯৯ দিনে। এর ফলে তিনি জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ডকে অতিক্রম করবেন।
তবে এই রেকর্ডের হিসাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহের পাশাপাশি কিছু আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে। কারণ নেহরু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু বর্তমান তুলনায় তাঁর ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সালের সময়কাল ধরা হয়নি। এর কারণ, সেই সময় পর্যন্ত দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়ার পর যে মেয়াদ শুরু হয়েছিল, সেই সময়কালকেই এখানে গণনা করা হয়েছে। সেই নিরিখে মোদি এখন নেহরুর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা দায়িত্ব পালনের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারীদের তালিকায় জওহরলাল নেহরু দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষস্থানে ছিলেন। স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠনের প্রথম পর্বে তিনি দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, পররাষ্ট্রনীতি, পরিকল্পিত অর্থনীতি এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদির আমলে ডিজিটাল প্রশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের সক্রিয় উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বিস্তার বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। ফলে দুই প্রধানমন্ত্রীর সময়কাল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও তাঁদের নাম একই ঐতিহাসিক আলোচনায় উঠে আসছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই ২০২৫ সালে মোদি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করেছিলেন। সেই সময় তিনি দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এবার তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুর রেকর্ডও পেরিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই রেকর্ড কেবল সময়ের পরিমাপ নয়, বরং ভারতের ভোটারদের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনেরও প্রতিফলন। স্বাধীনতার পর বহু নেতা দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, কিন্তু টানা তিনটি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের শাসনভার ধরে রাখার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে ভারতের মতো বহুদলীয়, বহুভাষিক এবং বহুসাংস্কৃতিক গণতন্ত্রে এই ধরনের ধারাবাহিকতা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও নেতার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যেমন একটি রাজনৈতিক সাফল্য, তেমনই সরকারের কাজের মূল্যায়নও শেষ পর্যন্ত জনগণের হাতেই থাকে। তাই এই রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়।
তবে মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। কারণ সেদিন নরেন্দ্র মোদি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড ভেঙে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন। দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে স্থান পাবে।
Published on: জুন ৪, ২০২৬ at ১১:৩৪



