শেষের শুরু-বলছেন মমতা, উত্তরপ্রদেশ-বিহারের উপ-নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় কি তারই ইঙ্গিত

দেশ
শেয়ার করুন

 

Published on: মার্চ ১৪, ২০১৮ @ ২০:৫১

এসপিটি নিউজ ডেস্কঃ গোটা দেশ জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে একজোট হতে বারবার বলে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। রাজনৈতিক সমীকরন সেরকমই হতে চলেছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে। আর তার আগে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে চারটি আসনে উপ-নির্বাচনে বিজেপি যে ধাক্কা খেল তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্যুইট করে তিনি অখিলেশ যাদব, মায়াবতী ও লালুপ্রসাদ যাদবকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বলছেন, এটা আপনাদের বিরাট জয়। একই সঙ্গে মমতা বিজেপির নাম না করে লিখেছেন, এটা সবে শেষের শুরু।

সাম্প্রতিক কালে দেখা গেছে, বিজেপি শাসিত উপ-নির্বাচনে শাসক দল গো-হারা হেরেছে। সেই তালিকায়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ছিল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরও দুটি রাজ্য-যে রাজ্যগুলি দেশের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই উত্তরপ্রদেশ থেকে গোরখপুর ও ফুলপুর বিধানসভা এবং বিহার থেকে অরোরিয়া লোকসভা ও জাহানাবাদ বিধানসভা উপনির্বাচনে যথাক্রমে সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার খবর মিলেছে।এই আসনগুলিতে মূল লড়াই ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে।তবে বিহারের ভাভুয়া বিধানসভা উপ-নির্বাচনে জিতে মুখ রক্ষা হয়েছে বিজেপির।

উত্তরপ্রদেশের দুটি আসনে বিজেপির পরাজয় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কারণ, গোরখপুর ও ফুলপুর কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্য্যর নাম।  গোরখপুর আসনটি যে লোকসভার অন্তর্গত সেই আসন থেকে জিতেছিলেন যোগী্জি। আর ফুলপুর আসনটি থেকে জিতেছিলেন কেশবজি। তিনি বিধান পরিষদের সদস্য হওয়ায় আসনটি থেকে ইস্তফা দেওয়ায় সেখানে উপ-নির্বাচন হয়। কিন্তু এবার সেই আসন হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় রাজ্য বিজেপি শুধু নয় দিল্লিতেও বিজেপি নেতাদের কপালে বড় ধরনের ভাঁজ পড়েছে।

তবে বিজেপিকে হারানোর জন্য দেশজুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আওয়াজ তুলেছিলেন সেই আওয়াজে সুর মিলিয়ে এবার কিন্তু বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমো মায়াবতীজি হাত মিলিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে।যার ফল হাতেনাতে পেয়েছে বিজেপি। তবে, বিহারের অরোরিয়া লোকসভা কেন্দ্রে ও জাহানাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে বিজেপিকে যে ধাক্কা দিয়েছে লালুপ্রসাদের আরজেডি তা নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তো বলেই দিয়েছেন এ তো শেষের শুরু।

আসলে নোটবন্দির সময় থেকে গোটা দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক দল সবচেয়ে আগে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল সেই দল হল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র নেত্রী যিনি সেইসময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সভা করেছিলেন। এখনও তিনি আকটা কথাই বলে আসছে, ভেদাভেদের রাজনীতি, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করে রাজনীতি বেশিদিনের জন্য নয়। এর শেষ হবেই। আর সেই সময় আসন্ন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় উপনির্বাচঙ্গুলিতে বিজেপির পরাজয় কি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে? উত্তরের অপেক্ষায় দেশবাসী।

Published on: মার্চ ১৪, ২০১৮ @ ২০:৫১

 


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

65 + = 75