দার্জিলিংয়ের ভাগ্যবদলের ডাক! পাহাড়ের জন্য উন্নয়নের ঝাঁপি খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

এসপিটি নিউজ, শিলিগুড়ি, ১৬ জুন: দার্জিলিং পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে উন্নয়নের নতুন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি একাধিক স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ে পানীয় জল, সড়ক, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নবান্নে দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্স এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই পাহাড়ের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে পাহাড় সফরের আগে ও পরে বিজেপি নেতৃত্বও দাবি করেছে যে উত্তরবঙ্গ বর্তমানে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল পাহাড়ে দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যার সমাধানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ। পাশাপাশি সিনকোনা চাষকে কেন্দ্র করে একটি ঔষধি ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকারের আশা।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক এবং শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করে একটি বৃহৎ “হিমালয়ান হিল সিটি” গড়ে তোলার ভাবনাও সামনে এসেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন পরিকাঠামো, নাগরিক পরিষেবা, স্যানিটেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

চা শিল্পকেও নতুন করে চাঙ্গা করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। পাহাড়ের চা-বাগান শ্রমিকদের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সহায়তায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি অংশ চলতি অর্থবর্ষেই খরচ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের নিযুক্ত পাহাড় বিষয়ক মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) নেতৃত্বের বৈঠক ইতিমধ্যেই হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়ন ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান— দুই পথেই এগোতে চাইছে সরকার।

এদিকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীও জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চা শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে একাধিক নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পাহাড় সফরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং, তরাই ও ডুয়ার্সকে কেন্দ্র করে যে নতুন উন্নয়ন-রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, তা উত্তরবঙ্গের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


শেয়ার করুন