
Published on: ডিসে ৭, ২০২৫ at ২৩:১১
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৭ ডিসেম্বর: কলকাতার ভ্রমণ সংস্থাগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ স্থান করে নেওয়া ‘ট্রাভেলাইটস’ সম্প্রতি তাদের সাফল্যের সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই উপলক্ষে কলকাতায় এক বর্ণাঢ্য ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট অতিথিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০১৮ সালে পথচলা শুরু করে এই ভ্রমণ সংস্থাটি আজ ভ্রমণপিয়াসীদের মনে আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা করে নিয়েছে, নিজেদেরকে নিছক একটি ট্রাভেল এজেন্সি নয়, বরং ভ্রমণপ্রেমীদের ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
ক্রুজ ট্যুরিজমের আনুষ্ঠানিক সূচনা এবং নতুন রিসর্ট
বর্ষপূর্তির এই বিশেষ দিনে ট্রাভেলাইটস তাদের নতুন ‘ক্রুজ পর্যটন’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করে। এই নতুন পরিষেবাটির মাধ্যমে ভ্রমণপ্রেমীরা গ্রিস, সৌদি আরব এবং এমনকি আন্টার্কাটিকা ভ্রমণের মতো ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পাবেন। এই ক্রুজ ট্যুরের সুযোগগুলি কীভাবে গ্রহণ করা যাবে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গে ট্রাভেলাইটস-এর নয়া রিসর্ট ‘হিল স্টে’-এর ওপরও আলোকপাত করা হয়। পাহাড়ে ঘেরা প্রকৃতির কোলে এক অপূর্ব নৈসর্গিক পরিবেশে অবস্থিত এই রিসর্টটি প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে ইতোমধ্যে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছে।
‘ভবঘুরের দিনলিপি’ – এক শিক্ষকের জীবন-পথিকের গল্প
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গৌতম ভট্টাচার্যের লেখা বই ‘ভবঘুরের দিনলিপি’-এর প্রকাশ। বইটি একজন শিক্ষক-পথিকের জীবনের গল্পকে তুলে ধরেছে। লেখক গৌতম ভট্টাচার্য হলেন ট্রাভেলাইটস-এর অন্যতম কর্ণধার সোহম ভট্টাচার্যের বাবা। প্রয়াত লেখকের লেখাগুলিকে একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশের এই মহৎ উদ্যোগ সফল করেছেন সোহম ও তাঁর স্ত্রী অর্পিতা রায়যৌধুরী।
বই প্রকাশের সূচনায় সোহম ভট্টাচার্য তাঁর বাবার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, “’ভবঘুরের দিনলিপি’- নামেই যেন ধরা আছে এক অদম্য পথিকের আত্মকথা। এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় আমার বাবা ফুটিয়ে তুলেছেন প্রকৃতির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। চিরাচরিত নাস্তিক হয়েও জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি যেন নতুনভাবে খুঁজে পেয়েছিলেন জীবনের অর্থ—গ্রামবাংলার নিভৃত মন্দিরে, অজানা পথে, সাধারণ মানুষের হাসিতে।”
বরেণ্য অতিথিদের উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা
এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বেঙ্গল থিওজফিক্যাল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গোতম দে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাঙালির ভ্রমণপ্রবণতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বাঙালি মাত্রই ভ্রমণ পিয়াসী। আজ দেখা যায় ভারতে সবথেকে বেশি ভ্রমণ করে কিন্তু বাঙালিরা। এখন বাঙালি মধ্যবিত্তের পকেটে টাকা এসেছে। আগে তারা ভারতের নানা জায়গায় ঘুরতেন, এখন তারা বিদেশ ভ্রমণ করছেন।… আমার মনে হয়, যতক্ষণ আপনার শরীর সুস্থ আছে ভ্রমণ করুন।”
ট্রাভেলাইটস-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “কলকাতায় এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রাভেল এজেন্সি হয়েছে। তাদের পরিকল্পনা দ্রুত পরিগণিত হবে। তাদের অনেক ভালো পরিকল্পনা আছে। আমি চাই আরও বেশি করে বাঙালি উদ্যোগপতি তৈরি হোক এই ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল লাইনে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এভারেস্ট জয়ী দেবরাজ দত্ত। তিনি ট্রাভেলাইটস-এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “বাঙালির পায়ে সর্ষে। আপনি সারা ভারতবর্ষের যে কোনও জায়গায় যান না কেন একজন বাঙালিকে পাবেনই। ট্রাভেলাইটস যেভাবে ডোমেস্টিক ট্যুর থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিকভাবে এই স্বপ্নপূরণে সহায়তা করছে, তার জন্য ট্রাভেলাইটসকে ধন্যবাদ জানাই।”
অভিনেত্রী তনুকা চ্যাটার্জি এবং চলচ্চিত্র পরিচালক-অভিনেতা অনিন্দ্য সরকার-ও অনুষ্ঠানে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনিন্দ্য সরকার ট্রাভেলাইটস-এর আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে বলেন, “একটা ট্রাভেল এজেন্সি যে এমন একটা অনুষ্ঠান করতে পারে, এটা আমার কল্পনার অতীত ছিল। এটা শুধুমাত্র একটা অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে।… আমার অত্যন্ত ভালো লাগছে। এবার ট্রাভেলাইটস-এর সাথে যোগাযোগ করে যাব। সেখানে হয়তো অনেকটা অর্গানাইজড হবে, এই গাইডেন্সটা খুব দরকার।”

ট্রাভেলাইটস-এর কর্ণধাররা কি বলছেন
ট্রাভেলাইটস-এর অন্যতম কর্ণধার সায়ন্তনী সেনগুপ্ত বলেন- “আমরা শুরু করেছিলাম কাস্টমাইজড ট্যুর বেশি হত। ধীরে ধীরে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যটনে প্রবেশ করেছি । তারপর ডোমেস্টিক এখন ইভেন্ট- একটার পর একটা স্টেপ আমরা এগোচ্ছি। এখন বেশ কিছু কর্পোরেট আমরা করছি। আমাদের এখন যা পরিস্থিতি তাতে দাঁড়িয়ে এটা বলতে পারি পর্যটনে সুযোগ আছে ট্যুরিজম কোম্পানির এগিয়ে যাওয়ার অনেক রাস্তা আছে। যদি সুন্দরভাবে কাজ করা যায়। তাহলে প্রতিতা কোম্পানি নিজের মতো করে ট্যুরিস্ট পাবে। আমাদের যারা দেস্টাছে তারা আমাদের সাথেই ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন। আমাদের ছেরে অন্য কোথাও যেতে পছন্দ করেন না। সেই বিশ্বাসের জায়গাটা অর্জন করতে হবে। আর সেটা করতে পারলে অনেকতাই এগিয়ে যেতে পারব।“
আর এক কর্ণধার অর্পিতা রায়চৌধুরী উত্তরবঙ্গে তাদের ‘হিল স্টে’ রিসর্ট নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন-“ উউতরবঙ্গের কার্শেং বলে একটি জ্যাগায় আমাদের নয়া ভ্রমণ আবাস করি। এটা পুরোটাই অফবিট। এটি কালিম্পং থেকে ২৫ কিলোমিটার যেতে হয়। সেখানে গেলে পর্যতকরা সব কিছুই পাবেন। তার সাথে যে আতিথয়তা অর্থাৎ বাড়িতে থাকার একতা পারিবারিক আনুগত্য সেতাও তারা পাবেন। সেই মতো করেই আমরা জায়গাটাকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছি।“
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিল্পী জয়িতা ঘোষালের বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে। এরপর প্রখ্যাত শিল্পী সলিল চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাউথ অর্গানের সাহায্যে শ্রদ্ধা জানান শিল্পী দেবাশীষ পাত্র, এবং গান গেয়ে শ্রদ্ধা জানান শিল্পী ঋত্বিক দত্ত। প্রদীপ প্রজ্জ্বলেনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পিএনবি স্টাফ ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপাল শোভন সেনগুপ্ত, নর্থ সিটি হসপিটালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. অরিন্দম পোদ্দার, নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার ও বুদ্ধিস্ট স্কলার মধুশ্রী চৌধুরী, ভ্রমণ লেখক সন্দীপন মজুমদার এবং ট্রাভেল ব্লগার অভিব্রত ভক্ত।
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষে কেক কেটে ট্রাভেলাইটস-এর সপ্তম বর্ষপূর্তিকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সংস্থার নতুন উদ্যোগগুলির ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত হয়।


Published on: ডিসে ৭, ২০২৫ at ২৩:১১



