সাতই ডিসেম্বরের বিশেষ দিন: ব্রিগেড গীতা পাঠের মাঝে বেলঘরিয়ায় ‘গোপাল মহোৎসব’

Main দেশ ধর্ম ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

বেলঘরিয়ায় লোকনাথ ভক্ত ও কৃষ্ণপ্রেমী গৃহী বাসুদেব বাবাজির বাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো এক মহৎ ‘গোপাল মহোৎসব
বাসুদেব বাবাজির বাড়ি যেন এক অন্য ‘বৃন্দাবনে’ পরিণত হলো

Published on: ডিসে ৮, ২০২৫ at ১৬:৪৭

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৭ ডিসেম্বর:  একদিকে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পাঁচ লক্ষেরও বেশি সনাতনী হিন্দুদের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অমূল্য বাণী, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটালো। আর সেই একই দিনে, কলকাতার উপকণ্ঠে বেলঘরিয়ায় লোকনাথ ভক্ত ও কৃষ্ণপ্রেমী গৃহী বাসুদেব বাবাজির বাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো এক মহৎ ‘গোপাল মহোৎসব, যেখানে ভক্তদের ঢল নেমেছিল এবং বাসুদেব বাবাজির বাড়ি যেন এক অন্য ‘বৃন্দাবনে’ পরিণত হলো।

বাসুদেব বাবাজির গৃহে ‘বৃন্দাবন’

বেলঘরিয়া স্টেশন থেকে অল্প দূরে পাটনা নব্রুন সঙ্ঘের পাশে বাসুদেব বাবাজির বাসভবন। পেশায় গৃহী হলেও আধ্যাত্মিক চেতনায় তিনি কোনও সন্ন্যাসী বা সাধুর চেয়ে কম নন। জটধারী এই মানুষটি প্রতি বছর তাঁর বাসভবনে নিষ্ঠাভরে গোপালের সেবা এবং মহোৎসবের আয়োজন করেন। এই বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সনাতনী মা-বোনেরা তাঁদের বাড়ির গোপালকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন এই মিলন উৎসবে।

বাসুদেব বাবাজির সহধর্মিণী গীতা মা জানান, কয়েক বছর আগে শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা থেকেই এই গোপাল উৎসবের সূচনা। এরপর থেকে এটি প্রতি বছরের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি গোপালকে নিজের সন্তান হিসেবেই দেখেন।

আধ্যাত্মিক চেতনা এবং শিশুরাই ভবিষ্যৎ

উৎসব উপলক্ষে বাসুদেব বাবাজি আগামী প্রজন্ম অর্থাৎ শিশুদের আধ্যাত্মিক চেতনার মাধ্যমে ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিজের প্রথম গুরু মা-বাবাকে সম্মান জানাতে ভুলে গেছি। আধ্যাত্মিক চেতনাকে অনেকে হালকাভাবে নিচ্ছেন, যা সবচেয়ে বড় নেগেটিভ দিক।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ধ্যানযোগ অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকের অর্থ তুলে ধরে তিনি কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে কর্তব্য কর্ম করার বার্তা দেন:

“পরমেশ্বর ভগবান বললেন- যিনি অগ্নহোত্রাদি কর্ম ত্যাগ করেছেন এবং দৈহিক চেষ্টাশূন্য তিনি সন্ন্যাসী বা যোগী নন। যিনি কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে তাঁর কর্তব্য কর্ম করেন, তিনিই যথার্থ সন্ন্যাসী বা যোগী।”

চাকলাধামের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি

এই মহোৎসবে উপস্থিত ছিলেন বাবা লোকনাথের জন্মস্থান চাকলাধামের প্রেসিডেন্ট নবকুমার দাস। তিনি বাসুদেব বাবাজির এই আয়োজনের প্রশংসা করেন। ব্রিগেডের ডাক থাকা সত্ত্বেও বাসুদেব বাবাজির গোপাল মহোৎসবের ডাককে তিনি তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেন।

নবকুমার দাস বলেন, বাসুদেব বাবাজি যদি মনে করেন, তবে তিনি পাঁচ হাজার সাধুকে একত্রিত করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এই উৎসবে গোপাল খেলা করছে এবং বাবা লোকনাথ উপর থেকে হাসছেন—এটাই তাঁর কাছে বড় পাওয়া। তিনি আনন্দকেই মহৎ তত্ত্ব বলে উল্লেখ করেন।

ভক্তদের একান্ত বিশ্বাস ও অনুভূতি

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এই উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন।

  • নিমতার সবিতা ঘোষের মেয়ে জানান, ২০১৩ সাল থেকে সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। কিন্তু বাবার (বাসুদেব বাবা) আশীর্বাদে সম্প্রতি পিএসসি-র প্রিলিমিনারিতে পাশ করেছেন এবং মূল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
  • ঘোলা থেকে মিঠু মিস্ত্রী এবং বেলঘরিয়ার স্বাগতা সাহা সহ বহু ভক্ত এই মিলনক্ষেত্রে এসে মনের শান্তি পাওয়ার কথা জানান।
  • বেলঘরিয়ার বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষ স্বল্প পরিসরের মধ্যে এত মানুষকে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করার জন্য বাসুদেব বাবাজির ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
উৎসবের সমাপ্তি: ভোগ প্রসাদ বিতরণ

দিনের শেষে শিশু, যুবা, বৃদ্ধ সকলের মধ্যে একসাথে ভোগ প্রসাদ বিতরণ এবং সাধু ভোজনের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এই আনন্দময় গোপাল মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। এই মহোৎসব শুধুমাত্র ভক্তি ও আনন্দের এক অনন্য মিলনক্ষেত্রই নয়, এটি সনাতনী সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধকে আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এক মহৎ প্রয়াস।

Published on: ডিসে ৮, ২০২৫ at ১৬:৪৭

 


শেয়ার করুন