SIR ঘিরে রাজনীতি তুঙ্গে, দ্বিমুখী সংঘাতে মমতা–শুভেন্দু

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ৩, ২০২৬ at ১৭:৫৮

এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ৩ ফেব্রুয়ারি — ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আজ নতুন মাত্রা নিল। একদিকে রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের পর আজ বঙ্গভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে কলকাতায় রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন— একই দিনে দুই শহরে দুই বিপরীত রাজনৈতিক বয়ান স্পষ্ট করে দিল, SIR এখন শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে।

দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: “বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা”

আজ দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর বঙ্গভবনে দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি অভিযোগ করেন, SIR-এর নামে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ অনুযায়ী—বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক মানুষের নাম লক্ষ্য করে ছাঁটাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যদি বাংলার মানুষকে ভয় দেখানো হয়, তাহলে আমি চুপ করে থাকব না।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটবে।
দিল্লিতে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল— এই লড়াই তিনি দেখছেন গণতন্ত্র বনাম ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে।

কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারী: “ভোটার তালিকা নয়, জাতীয় নিরাপত্তাই আসল প্রশ্ন”

ঠিক একই দিনে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে আক্রমণ শানান রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী—SIR একটি সাংবিধানিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভুয়ো ভোটার জাতীয় নিরাপত্তার বড় হুমকি। মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছেন।

তিনি সরাসরি বলেন, “যারা জাতীয় সুরক্ষা প্রশ্নে আপস করছে, তারাই আজ ভোটার তালিকা নিয়ে নাটক করছে।” শুভেন্দু অভিযোগ করেন, তৃণমূল শাসনে রাজ্যে প্রশাসনিক ঢিলেমি ও সীমান্ত নিরাপত্তায় গাফিলতির ফলে ভুয়ো ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। তার দাবি, নির্বাচন কমিশন যদি কঠোর না হয়, তাহলে গণতন্ত্রই বিপন্ন হবে। মমতার দিল্লি সফর ও আজকের সাংবাদিক সম্মেলনকে তিনি “রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল” বলে কটাক্ষ করেন।

একই ইস্যু, দুই বিপরীত ব্যাখ্যা

আজকের দিনে স্পষ্ট হয়ে গেল—মমতার কাছে SIR মানে ভোটাধিকার রক্ষা ও কেন্দ্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই আর শুভেন্দুর কাছে SIR মানে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার প্রয়োজন। দিল্লি ও কলকাতা—দুই শহরে দুই মঞ্চ থেকে উচ্চারিত এই দুই বয়ানই ইঙ্গিত দিচ্ছে,
আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে SIR ইস্যুই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় সংঘাতের ক্ষেত্র।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আজকের এই দুই সাংবাদিক সম্মেলন কার্যত ২০২৬-এর রাজনৈতিক যুদ্ধের আগাম ইঙ্গিত— যেখানে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা ও গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নিয়েই মুখোমুখি হবে শাসক ও বিরোধী শিবির।

Published on: ফেব্রু ৩, ২০২৬ at ১৭:৫৮


শেয়ার করুন