

Published on: ফেব্রু ৩, ২০২৬ at ১৮:৫৫
এসপিটি ডিজিটাল নিউজ ডেস্ক : গতকালের এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ (ভিটি-এএনএক্স) বিমান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর দাবির প্রেক্ষিতে আজ বিস্তারিত প্রেস রিলিজ প্রকাশ করল ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিমানের ফুয়েল কাট-অফ সুইচে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াগত ভুল ব্যাখ্যার ফল।
ডিজিসিএ জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লন্ডন থেকে বেঙ্গালুরুগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৩২ ফ্লাইটের ইঞ্জিন স্টার্টের সময় ক্রু লক্ষ্য করেন যে হালকা চাপ প্রয়োগে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ‘RUN’ অবস্থায় ঠিকভাবে লক হচ্ছিল না। তবে তৃতীয় চেষ্টায় সুইচটি সঠিকভাবে ‘RUN’ অবস্থায় স্থির হয় এবং পরবর্তী সময়ে আর কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। ইঞ্জিনের সব প্যারামিটার স্বাভাবিক ছিল, কোনও সতর্কতা বা ত্রুটির বার্তাও আসেনি। সতর্কতামূলকভাবে ক্রু ওই সুইচে অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ এড়িয়ে চলেন এবং পুরো ফ্লাইট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
বেঙ্গালুরুতে অবতরণের পর বিষয়টি পাইলট ডিফেক্ট রিপোর্টে (PDR) নথিভুক্ত করা হয়। এরপর এয়ার ইন্ডিয়া নির্মাতা সংস্থা বোয়িং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। বোয়িং-এর সুপারিশ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, বাম ও ডান—উভয় ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচই সম্পূর্ণ কার্যক্ষম অবস্থায় রয়েছে। সঠিক দিক থেকে পূর্ণ চাপ প্রয়োগ করলে সুইচ ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’-এ সরে যায়নি। তবে ভুল কোণ বা অনুপযুক্ত দিক থেকে আঙুল বা বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিলে কোণাকৃতির বেস প্লেটের কারণে সুইচ সরে যেতে পারে—যা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ভুল প্রয়োগের ফল।
এছাড়াও, বোয়িং-এর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী ‘পুল-টু-আনলক’ ফোর্স পরীক্ষা করা হয় সংশ্লিষ্ট বিমানের পাশাপাশি আরও একটি বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল ইউনিটে। ডিজিসিএ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে করা সব পরীক্ষাতেই মান নির্ধারিত সীমার মধ্যেই পাওয়া গেছে।
ডিজিসিএ আরও জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখানো পদ্ধতি বোয়িং-এর নির্ধারিত অপারেটিং প্রোসিজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই ওই ভিডিও বিভ্রান্তিকর।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বোয়িং-এর সুপারিশকৃত সঠিক পদ্ধতি ফের একবার সব ক্রু সদস্যদের মধ্যে প্রচার করতে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি না তৈরি হয়। ডিজিসিএ-র স্পষ্ট বার্তা—যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পরিষেবাযোগ্য ছিল।
Published on: ফেব্রু ৩, ২০২৬ at ১৮:৫৫



