

Published on: জুন ১১, ২০২৫ at ২৩:৫৬
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১১ জুন : কলকাতাকে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়। এখন যদি এই তিলোত্তমা নগরীকে দেশের পর্যটন শিল্পের রাজধানী বলা যায় তাতে খুব মনে হয় খুব একটা ভুল বলা হবে না। কেননা, এই মহানগরীতে দেশ-বিদেশের একাধিক পর্যটন বোর্ড থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠান করে গিয়েছে কিংবা করে চলেছে। সকলেরই লক্ষ্য একটাই- বাঙালি পর্যটককে নিজের কাছে টেনে নেওয়া। আর সেই উদ্দেশ্যে এখানে সারা বছর ধরেই চলে একাধিক পর্যটন মেলা। নানা সংগঠন থেকে শুরু করে মিডিয়া হাউস সকলেই আয়োজন করে এই পর্যটন মেলার। কিন্তু সব কটি পর্যটন মেলাকে পিছনে ফেলে দিয়ে আজ সেরার জায়গা করে নিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল বা এটিএসপিবি আয়োজিত বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট – পর্যটন মেলা। আর মাত্র একদিন বাদেই কলকাতায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তিনদিনের এই সর্ববৃহৎপর্যটন মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
এই পর্যটন মেলাকে সফল করে তুলতে গোটা এটিএসপিবি-র টিম দিন-রাত এক করে কাজ করে চলেছে। এই কাজে সবার আগে যার নাম করতে হয় তিনি হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ। আছেন সভাপতি সাগর গুহ, যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য, তারক সাহা। এছাড়াও কনভেনর হিসাবে রয়েছেন সোমনাথ ঘোষাল এবং শ্যাম সাহা। এদের সঙ্গে রয়েছেন এটিএসপিবি-র গোটা পরিবার।
সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে সমর ঘোষ বলেন- ইতিমধ্যেই আমাদের এই পর্যটন মেলায় ১১০টি স্টল যোগ দিয়েছে। এরপরেও সমানে ফোনে নতুন করে আরও স্টলের অনুমোদনের জন্য অনুরোধ আসছে। কিন্তু জায়গার অভাবে আমরা তা প্রত্যাখান করছি। আসলে, আমাদের এই মেলার উদ্দেশ্য লাভ নয়, উপার্জিত আয় থেকে সামাজিক সেবা করা। তাই আমরা খুবই স্বল্প মূল্যে আমরা এখানে স্টলের জায়গা দিচ্ছি। এর পাশাপাশি, আমরা প্রতিটি স্টলের জন্য খাবারের প্যাকেট, জলের বোতল, মেমেন্টো, গিফট থাকছে। এগুলি অন্যান্য কোনও পর্যটন মেলায় দেওয়া হয় না। এমনকি, স্টলগুলিতে কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা তাও আমরা নিয়মিত খোঁজ নিয়ে থাকি। এটাই আমাদের বিটিএফ-এর মুখ্য বৈশিষ্ট্য।
যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন- “ আমাদের প্রস্তুতি একেবারে সম্পূর্ণ। বিভিন্ন রাজ্য থেকে অংশগ্রহণকারীরা আসতে শুরু করে দিয়েছে। মেলার আয়োজন একেবারে শেষ পর্যায়ে। ১৩ জুন মেলা উদ্বোধন হবে। চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের আঞ্চলিক অধিকর্তা প্রণব প্রকাশ (পূর্ব ভারত), বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন বিধায়ক অশোক দেব এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রবীর ঘোষাল। এছাড়া সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, দমকল বিভাগের মন্ত্রী সুজিত বসু, তিনজন বিধায়ক মদন মিত্র, তাপস চ্যাটার্জি এবং রানা চ্যাটার্জি। থাকছেন ত্রিপুরা ট্যুরিজমের জয়েন্ট ডাইরেক্টর অনিরুদ্ধ রায়, তামিল্বাড়ু ট্যুরিজমের ট্যুরিস্ট অফিসার সেল্ভারাজু থাঙ্গাভেলু , বোরোল্যান্ড ট্যুরিজমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অফিসার ভুমা রানি বরগোয়ারি, দিল্লি ট্যুরিজমের ট্যুরিস্ট অফিসার যতীন চৌধুরী।
এটিএসপি বি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে জানিয়েছেন- “আমাদের লক্ষ্য হল- মানুষের সেবা করা। এখান থেকে যে লভ্যাংশ ওঠে তার বেশিরভাগটাই আমরা সমাজসেবামূলক কাজে খরচ করে থাকি। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা অনেক দিক থেকে বঞ্চিত। তাদের সাহায্যের খুব প্রয়োজন। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই। এবার যেমন গরমের হাত থেকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা করেছি। এখানেই আমরা থেমে না থেকে আগামী পুজোর সময় দুঃস্থ মানুষদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যার মধ্যে কিছু মানুষকে নতুন বস্ত্র দান করছি। একই সঙ্গে পুজোর সময় প্যান্ডেলে কাজ করতে গিয়ে যারা অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা যে সমস্ত শ্রমিক অসুস্থ তাদের চিকিৎসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সাহায্যের সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।{“
“আমাদের সংগঠন ছোট –বড় বিভিন্ন ধরনের ট্রাভেল এজেন্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেলিয়ার্স থেকে ভ্রমণ ব্যবসার সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত থাকা মানুষদের কথা ভেবে এধরনের পর্যটন মেলার আয়োজন করে, ঠিক তেমনই এই মেলা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকে সমাজের দুঃস্থ মানুষদের নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। এটাই আমাদের সংগঠনের বিশেষত্ব।“ বলছিলেন এটিএসপিবি-র প্রেসিডেন্ট সাগর গুহ।
অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য ও তারক সাহাও জানালেন তাদের এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের কথা।তারা বলেন- এই অ্যাসোসিয়েশন কলকাতায় অনেক পুরনো। আমাদের এখানে সারা ভারতের ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট থেকে শুরু করে হোটেলিয়ার্স, হোম-স্টে মালিক, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী সকলেই আছেন। আমরা শুধু পর্যটন মেলাই করি না এই মেলার থেকে উপার্জিত লভ্যাংশ দিয়ে কিভাবে সমাজের মানুষের উপকার করা যায় সেই কথাও ভাবি। আর তা করেও থাকি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ জানালেন- এবার তাদের পর্যটন মেলা বিটিএফ আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, সংলগ্ন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে এই পর্যটন মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। এবার তাদের এই পর্যটন মেলায় ১১০টি স্টল অংশ নিতে চলেছে। এছাড়াও রাজ্য পর্যটন বোর্ডের বিশেষ স্টল দেখা যাবে। এবার দিল্লি, তামিলানাড়ু, বোরোল্যান্ড, মেঘালয়, ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, আসাম ট্যুরিজম অংশ নিচ্ছে । পর্যটনপ্রেমী মানুষদের একটাই বার্তা দিতে চাই- আপনারা এই সুযোগ ছাড়বেন না। এখানে কোনও প্রবেশের জন্য কোনও ডিজিটাল রেজস্টেশন করতে হবে না। পয়সা দিয়ে টিকিট কিনতে হবে না। আসবেন। আর প্রবেশ করবেন। যতজন খুশি , যতক্ষন খুশি (নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) আপনারা এখানে পর্যটনের আনন্দ নিতে পারেন।
Published on: জুন ১১, ২০২৫ at ২৩:৫৬



