বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে নতুন ঠিকানা বাংলা, রূপরেখা দিলেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ

দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ১১, ২০২৬ at ২১:২৬

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১১ জুন: বাংলার পাহাড়ের কুয়াশা, সমুদ্রের গর্জন, অরণ্যের নিস্তব্ধতা আর শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এক অনন্য পর্যটনভূমি। এতদিন সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও এবার সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার স্পষ্ট রূপরেখার ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের নতুন পর্যটনমন্ত্রী ড. শংকর ঘোষ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পর্যটনকে ঘিরে তাঁর সক্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে পর্যটন মহলে। শুধু দর্শনীয় স্থান প্রচার নয়, পর্যটনকে তিনি দেখছেন কর্মসংস্থান, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে।

মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পর্যটন দফতরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরির আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে মন্ত্রিসভার সদস্য, পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

ড. ঘোষ বলেন, “আমি যে দফতর পেয়েছি সেটা নিয়ে বহু মানুষের আগ্রহ আছে। পর্যটন নিয়ে আমাদের সরকার কি করবে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ সহ আমাদের রাজ্যের মন্ত্রিসভা সহ পর্যটনের যারা বিশেষজ্ঞ মানুষ রয়েছেন, পর্যটনের যারা সমস্ত ধরনের স্টেক হোল্ডাররা রয়েছেন তাদের সাথে আলোচনা করে ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করব।”

পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “পর্যটন একটা বড় রাজস্ব আদায়ের জায়গা হতে পারে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করবার ক্ষেত্রেও পর্যটন একটা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। অর্থাৎ ইউরোপ সহ আমেরিকা বিভিন্ন উন্নত দেশ থেকে যাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পর্যটনের ক্ষেত্র হিসাবে তারা এখানে আসেন তার একটা চেষ্টা আমরা করব।”

শুধু বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেও তিনি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মন্ত্রী জানান, “স্থানীয় কর্মসংস্থান, তার উপর পর্যটনের বিষয় জড়িয়ে থাকে। তাই সেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাটাও আমাদের একটা লক্ষ্য বা তালিকার মধ্যে রয়েছে।”

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই দিকেও বিশেষ নজর দিতে চাইছে নতুন সরকার। ড. শংকর ঘোষ তাঁর বক্তব্যে ‘প্রকৃতি বান্ধব পর্যটন’-এর উপর বিশেষ জোর দেন।

তিনি বলেন, “প্রকৃতি বান্ধব পর্যটন। অর্থাৎ এমন পর্যটন যেটা প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সহচর্য রেখে করা হবে। এটাও আমাদের একটা প্রাথমিক ভাবনার মধ্যে রয়েছে।”

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পশ্চিমবঙ্গ হল সেই অনন্য রাজ্য যেখানে পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, অরণ্য আছে। আজ এই তিনটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান রয়েছে। এই তিন চারটি বিন্দুকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনের ডালি সারা বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরাটাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

বিশ্বমঞ্চে বাংলার পর্যটনের সম্ভাবনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জি-২০ সম্মেলনের সময় দার্জিলিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আগমনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

মন্ত্রী বলেন, “আপনাদের সবার মনে আছে, আমাদের যে জি-২০ যখন হয়েছিল সেই সময় পর্যটনকে সামনে রেখে আমাদের এই দার্জিলিঙে বিভিন্ন দেশের মানুষ তারা এখানে এসছিলেন। ফলে ভবিষ্যতে পর্যটন আমাদের পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা সবাই মিলে করব।”

বাংলার পর্যটন শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল সম্ভাবনার অধিকারী। হিমালয়ের কোলে দার্জিলিং ও কালিম্পং, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন, দীঘা-মন্দারমণির সমুদ্রসৈকত, ডুয়ার্সের বন্যপ্রকৃতি কিংবা তারাপীঠ, মায়াপুর, কালীঘাটের মতো ধর্মীয় গন্তব্য—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ।

নতুন পর্যটনমন্ত্রীর বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হলো—পর্যটনকে আর শুধুমাত্র বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য ও ঐতিহ্যের বাংলাকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে আরও উজ্জ্বলভাবে প্রতিষ্ঠিত করার দৌড়ে নামতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।

Published on: জুন ১১, ২০২৬ at ২১:২৬


শেয়ার করুন