

Published on: জুলা ১২, ২০২৬ at ২৩:৩০
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১২ জুলাই: ৩৭ বছরের ঐতিহ্যকে আরও একবার সার্থক করে সফলভাবে শেষ হলো পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রদর্শনী টিটিএফ (TTF) কলকাতা ২০২৬। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে দেশ-বিদেশের পর্যটন সংস্থা, ট্রাভেল ট্রেড, হোটেল ও আতিথেয়তা শিল্পের প্রতিনিধিদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার ট্রেড ভিজিটরের সংখ্যা ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কলকাতার ক্রমবর্ধমান পর্যটন বাজার এবং পূর্ব ভারতের ট্রাভেল ট্রেডে এই মেলার গুরুত্বকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।
৩৭ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী টিটিএফ কলকাতা এ বছরও পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রাভেল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজের গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের ক্ষেত্রে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আধুনিক নীতি, আন্তঃরাজ্য সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পশ্চিমবঙ্গকে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ড সরকারের পর্যটনমন্ত্রী সতপাল মহারাজ, গোয়া সরকারের পর্যটনমন্ত্রী রোহন এ. খাউন্তে, কলকাতাস্থ থাইল্যান্ডের কনসাল জেনারেল খুন সিরিপর্ন তান্তিপান্যাথেপ-সহ দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট অতিথি।
৫০০-র বেশি প্রদর্শক, ২১টি রাজ্য ও ৬টি দেশের অংশগ্রহণ
এবারের টিটিএফ কলকাতায় ভারতের ২১টি রাজ্য এবং ৬টি দেশের অংশগ্রহণে ৫০০-রও বেশি প্রদর্শক নিজেদের পর্যটন আকর্ষণ, ভ্রমণ পরিষেবা, আতিথেয়তা শিল্প ও নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সম্ভার তুলে ধরেন।
মেলায় ৯,০০০-এরও বেশি ট্রাভেল ট্রেড ক্রেতা, যার মধ্যে ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, কর্পোরেট ট্রাভেল প্ল্যানার এবং এমআইসিই (MICE) বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে ব্যবসায়িক বৈঠক ও নেটওয়ার্কিং করেন। পাশাপাশি ১,৯০০-এরও বেশি সাধারণ দর্শনার্থী বিভিন্ন দেশ ও রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে আরও সমৃদ্ধ আয়োজন
পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আউটবাউন্ড ট্রাভেল মার্কেট হিসেবে কলকাতার গুরুত্বকে সামনে রেখে এ বছর থাইল্যান্ড ছিল ‘ফিচার্ড কান্ট্রি’। এছাড়াও নেপাল, ভুটান, ভিয়েতনাম এবং যুক্তরাষ্ট্র-সহ একাধিক দেশ অংশগ্রহণ করে নিজেদের পর্যটন গন্তব্যের প্রচার ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করে।
এবারের টিটিএফ-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল হোস্ট স্টেট হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যাবর্তন। এছাড়া ওডিশা, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, গোয়া, লাদাখ, পাঞ্জাব, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট পার্টনার স্টেট হিসেবে অংশ নেয়। ফিচার্ড স্টেট হিসেবে ছিল সিকিম, অসম, তামিলনাড়ু, দিল্লি এবং মেঘালয়।
বেসরকারি সংস্থারও নজরকাড়া উপস্থিতি
মেলায় অংশ নেয় KAO Tours, Radisson Hotel South Asia, Wyndham Hotels & Resorts, Ramoji Film City, Mahindra Holidays & Resorts India, CGH Earth, The Zuri Hotels & Resorts, Sumi Yashshree Hotels & Resorts-সহ বহু নামী পর্যটন ও আতিথেয়তা সংস্থা।
এছাড়া TAAI, TAFI, ETAA, ADTOI, IATO, SKAL International Kolkata, TAAB-সহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষ ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সংগঠন এই আয়োজনকে সমর্থন জানায়।
জ্ঞান-বিনিময়, পর্যটন উপস্থাপনা ও সচেতনতার বার্তা
ব্যবসায়িক বৈঠকের পাশাপাশি তিন দিনজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, নলেজ সেশন, পর্যটন বিষয়ক আলোচনা এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মসূচি।
প্রথম দিনে রয়্যাল থাই কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন, ছত্তিশগড় পর্যটনের বিশেষ উপস্থাপনা এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (ACT)-এর উদ্যোগে “সোনার বাংলা থেকে সবুজ বাংলা” পোস্টার প্রকাশ করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় থাইল্যান্ড ও পাঞ্জাব পর্যটনের বিশেষ উপস্থাপনা, থাইল্যান্ড ট্যুরিজম অথরিটির কুইজ প্রতিযোগিতা এবং “ভ্রমণ ও পর্যটনে সাইবার অপরাধ: সচেতনতা ও প্রতিরোধ” এবং “পশ্চিমবঙ্গে দায়িত্বশীল পর্যটন” শীর্ষক আলোচনা সভা।
শেষ দিনে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে সেরা প্রদর্শকদের সম্মান জানিয়ে ভ্যালেডিক্টরি অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রেড ভিজিটর বেড়েছে ২৮ শতাংশ
ফেয়ারফেস্ট মিডিয়ার চেয়ারম্যান ও সিইও সঞ্জীব আগরওয়াল বলেন, এবারের টিটিএফ কলকাতা পূর্ব ভারতের ট্রাভেল শিল্পের প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ট্রেড ভিজিটরের সংখ্যা ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটন বোর্ডের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উচ্চমানের ব্যবসায়িক যোগাযোগ কলকাতাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রাভেল গেটওয়ে হিসেবে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের হোস্ট স্টেট হিসেবে প্রত্যাবর্তন এবারের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পূর্ব ভারতের পর্যটন বাজারে কলকাতার গুরুত্ব আরও সুদৃঢ়
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, শক্তিশালী ট্রাভেল ট্রেড নেটওয়ার্ক এবং পরিবর্তিত পর্যটন প্রবণতার কারণে কলকাতা এখনও পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ভ্রমণ বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেই প্রেক্ষাপটে টিটিএফ কলকাতা পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশ-বিদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলির প্রচারে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে আবারও নিজের সাফল্যের স্বাক্ষর রাখল।
Published on: জুলা ১২, ২০২৬ at ২৩:৩০



