তৃণমূল যাবে বিজেপি আসবে, দমদমে বললেন মোদি

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: আগ ২২, ২০২৫ at ২৩:৫৬
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২২ আগস্ট: আজ কলকাতায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের তৃণমূল শাসিত সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। একই সঙ্গে মোদি এদিন বাংলার মানুষের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেনযে বাংলার উন্নয়ন দেখতে হলে বিজেপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসুন। বিকশিত বাংলা গড়তে হলে বিজেপিকে আনতে হবে। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কার- তৃণমূল যাবে বিজেপি আসবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন কলকাতায় দমদমের পরিবর্তন সঙ্কল্প সভা থেকে একের পর এক তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে যান। মোদি বলেন- কেন্দ্র রাজ্যের উন্নয়নে যে টাকা রাজ্যকে দেয় সেই টাকা তারা খরচ করে না। তা তৃণমূলের ক্যাডারদের পিছনে খরচ করে। এবার তৃণমূল যাবে আর বিজেপি আসবে।

এই বাংলা সতীশ চন্দ্র দাশগুপ্ত, হরিনাথ দে, গোষ্ঠ পালের ভূমি । এই ভূমি পুনর্জাগরনের কেন্দ্র। এরপরেই মোদি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন- যতদিন এখানে তৃণমূল থাকবে ততদিন বাংলার উন্নয়ন থমকে থাকবে। তৃণমূল গেলে তবেই বাংলায় আসল পরিবর্তন আসবে। বাংলায় দরকার আসল পরিবর্তন। পরিবর্তন দরকার বাংলার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের। পরিবর্তন আসবে বাংলার কৃষকদের, তাদের সম্মানের। পরিবর্তন ঘটিয়ে অপরাধীদের জেলে ঢুকাতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে শিল্পায়নে। এই পরবর্তনই আনতে পারে বিজেপিকে। বাংলার কোনায় কোনায় তাই আজ একটাই স্লোগান ছড়িয়ে দিতে হবে- “বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই।“

এই সাল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী। তাঁর হাত ধরেই বিজেপি’র জন্ম হয়েছে। ভারতে নয়া শিল্পনীতি উনি বানিয়েছেন।আমার গর্ব হয় যে আমি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সৈনিক।

এরপর মোদি দেশের সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বলেন- আমাদের সেনারা জঙ্গীদের এমন শিক্ষা দিয়েছে যেখানে পাকিস্তানিদের ঘুম ছুটে গিয়েছে।

মোদি বলেন- ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে নিয়ে আসুন। আমরা বনাগ্লাতে উনয়ন করব। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে। দমদমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হবে। বিকশিত বাংলা মোদির গ্যারান্টি।

বাংলায় আইনের শাসন আসবে সেদিন যেদিন বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার আসবে। বিকশিত বাংলা হবে।  বাংলা ভাষাকে ধ্রপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার সৌভাগ্য মিলেছে।

বাংলার পর্যটন নিয়েও মুখ খোলেন মোদি। তিনি বলেন- বাংলায় হেরিটেজ ট্যুরিজম একটা বিরাট ব্যাপার। বিজেপি শাসন ক্ষমতায় এলে এই হেরিটেজ ট্যুরিজমকে তুলে ধরবে। এখানে ক্রুজ টুইজমের সম্ভাবনাও প্রবল। এই সব ক্ররযকর হলে বাংলার মানুষকে কাজের জন্য অন্যত্র যেতে হবে না। কলকাতার মানুষ সময়ের আগে ভাবে।

এরপর মোদির গলায় অনুপ্রবেশকারীদের বিষয় উঠে আসে। তিনি বলেন- বাংলায় অনুপ্রবেশকারী রুখতে হবে। এইসব অনুপ্রবেশকারীরা এখানে এসে এখানকার ছেলে-মেয়েদের চাকরি খেয়ে নিচ্ছে। এদের আমরা ভারতে থাকতে দেব না। এজন্য অভিযান শুরু হয়েছে। এরা পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক সংকট তৈরি করছে। এবার লালকেল্লা থেকে ডেমোগ্র্যাফিক অভিযান শুরু করার কথা ঘোষণা করেছি । যেসব অনুপ্রবেশকারী আমাদের রুটিরুজি ছিনিয়ে নিচ্ছে তাদের যেতেই হবে। এজন্য টিএমসিকেও যেতে হবে।

দুর্নীতি দমনে মোদি সরকার যে তৎপর তা এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই পরিষ্কার। তিনি বলেন- “কেন্দ্র অ্যান্টি করাপশান বিল এনেছে। যেখানে বলা হয়েছে- কোনও সরকারি কর্মী তাসে ক্যান্টিনের কর্মী, কিনবা ঝাড়ুদার, কিংবা সরকারি যে কোনও ধরনের কর্মী হতে পারে। তারা যদি কোনও মামলায় গ্রেফতার হয় , তাতে তাকে যদি ৫০ ঘণ্টা জেলে রাখা হয় তার মধ্যে যদি তার জামিন না হয় তাহলে সে স্বাভাবিক নিয়মে চাকরিচ্যুত হবে। তাহলে সাধারণ সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হলে মন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রীদের তা হবে না কেন? প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

Published on: আগ ২২, ২০২৫ at ২৩:৫৬


শেয়ার করুন