
Published on: আগ ২৬, ২০২৫ at ২৩:৫২
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৬ আগস্ট : গতকালই শেষ হল রাঁচি ট্রাভেল মার্ট। অংশ নিয়েছিল কলকাতা থেকে ট্রাভেল অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা TOWA । ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ কর্মকার তোয়া’র এক্মাত্র প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাভেল মার্টে অংশগ্রহণকারী হিসাবে কলকাতার এই ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনকে মেমেন্টো দিয়ে সম্বর্ধিত করা হয়। গ্রহণ করেন বিশ্বজিৎ কর্মকার। টানা ২২ বছর ধরে তিনি ঝাড়খণ্ড পর্যটনকে দারুনভাবে তুলে ধরছেন। নদী-পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা এই রাজ্যটির সাথে ২২ বছর ধরে পর্যটনের প্রসারে কাজ করে চলেছেন তিনি। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দ্রষ্টব্য স্থানগুলি সম্পর্কে জানালেন তোয়া’র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
গত ২৩ আগস্ট রাঁচি ক্লাবে শুরু হয় রাঁচি ট্রাভেল মার্ট। ব্যবস্থাপনায় ছিল ট্যুরিজম শেল্টার। অংশ নিয়েছিল সিকিম, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড পর্যটন সংস্থা। ছিল ইন্ডিয়া ট্যুরিজমও। এছাড়াও স্থানীয় ট্যুর অপারেটর থেকে হোটেলিয়ার্স, হোম-স্টে মালিক, ট্রাভেল এজেন্ট্রা অংশ নিয়েছিল। অংশ নিয়েছিল ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনগুলিও। অংশ নিয়েছিল রাঁচির হোটেল বিএনআর চাণক্য হোটেল।ঝাড়খণ্ড পর্যটনের ডিরেক্টর মার্টের উদ্বোধন করেন। তিনদিন রাঁচিতে ভারী বর্ষার ফলে দর্শক তেমন ছিল না। তবে, এই বৃষ্টির জন্য প্রত্যেক ভিজিটারকে একটি করে ছাতা দি
ট্রাভেল অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা TOWA তাদের প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছিল বিশ্বজিৎ কর্মকারকে। বিশ্বজিৎ টানা ২২ বছর ধরে ঝাড়খন্ড পর্যটনের সাথে যুক্ত আছে। ঝাড়খন্ডকে হাতের তালুর মতো চেনে সে। বাংলার যুবক নিজের রাজ্যের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডকেও সমানভাবে তুলে ধরছেন। এ জন্যই বিশ্বজিৎকেই প্রতিনিধি করে পাঠানো হয়েছিল।
সংবাদ প্রভাকর টাইমস-এর সাথে বিশ্বজিৎ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। তার আগে অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মদন আগওয়াল জানিয়েছেন – তাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ কর্মকার রাঁচি ট্রাভেল মার্টে তাদের প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন। ঝাড়খণ্ডকে এত ভালো করে চেনা ও জানার জন্য বিশ্বজিৎ হলেন সঠিক ব্যক্তি। তিনি ঝাড়খণ্ড পর্যটনের অথোরাইজড এজেন্ট।বিশ্বজিৎ জানালেন ঝাড়খণ্ড পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
বিশ্বজিৎ বলেন- ঝাড়খণ্ড পর্যটন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ২২ বছর আগে ঝাড়খণ্ডে ভ্রমণের কথা কেউ ভাবতেই পারত না। মাওবাদী অধ্যুষিত বলে পরিচিত ছিল পশ্চিমবঙ্গের পাশের এই রাজ্যটি। এখন এখানে মাওবাদী শূন্য। সোলো ট্রাভেলিং বা একাকি ভ্রমণ, গ্রুপ ট্রাভেলিং কিংবা কাস্টমাইজড ট্রাভেলিং-এর জন্য ঝাড়খণ্ড এখন দেশের অন্য রাজ্যের সঙ্গে সমান তালে পর্যটনের ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। নদী-পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা ঝাড়খণ্ডের অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের নজর কেড়েছে।
প্রথমেই আসছে নদী ভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র
বেতলা কেচকি রিভার : এখানে অরণ্যের দিনরাত্রি সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল। মনোরম পরিবেশে ঘেরা এই স্থাওনটি পর্যটকদের কাছে খুবই উপভোগ্য। এখানে কলকাতা সিইএসসি-র তিনিটি রুম আছে। ঝাড়খণ্ড ফরেস্ট ডিপার্ট্মেন্টের ১২টি রুম আছে। এখানে যেতে হলে কলকাতা থেকে হাওড়া স্টেশন থেকে শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেস ধরে ডালটনগঞ্জ যেতে হবে। সেখানে নেমে ১৫ কিমি দূরেই এই স্থান।
রাজরাপ্পা মন্দির : দামোদর ও ভৈরবী নদীর ধারে আছে শক্তিপীঠ রাজরাপ্পা মন্দির। রামগড় জেলায় অবস্থিত। রাঁচি থেকে দূরত্ব ৮৬ কিমি। রামগড় থেকে মাত্র ২৫ কিমি।
এরপর আছে জঙ্গলে ঘেরা পর্যটন কেন্দ্র
কিরিবুরু-মেঘাটাবুরু অরণ্য: কিরিবুরু-মেঘাটাবুরু বন মূলত ভারতের ঝাড়খণ্ডের সারান্দা বন, যা “সাতশো পাহাড়ের ভূমি” নামে পরিচিত এবং কিরিবুরু এবং মেঘাটাবুরু লৌহ আকরিক খনির আবাসস্থল । কিরিবুরু শব্দের অর্থ ” হাতির বন ” , যা এই অঞ্চলে হাতির প্রাচুর্যকে বোঝায়। গরমের সময় বেশি হাতি দেখা যায়। অন্যদিকে মেঘাটাবুরু উচ্চ বৃষ্টিপাতের জন্য পরিচিত, প্রায় একটি ছোট চেরাপুঞ্জির মতো। এই অঞ্চলটি দর্শনীয় স্থান, জলপ্রপাত সহ মনোরম সৌন্দর্যে ভরপুর এবং প্রকৃতি প্রেমী এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অদ্ভুত গন্তব্য।এশিয়ার সবচেয়ে বড় শালবন। ৩৭ কিমি জুড়ে এই শালবন।এটি পশ্চিম সিংভূম জেলায় অবস্থিত। এখানে আসার জন্য হাওড়া থেকে দুটি ট্রেন আছে। একটি বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। এই ট্রেনে চেপে আপনাকে বান্রাজংদা স্টেশনে নামতে হবে। দূরত্ব ২৭ কিমি। অপর ট্রেনটি হাওড়া ইস্পাত এক্সপ্রেস। এই ট্রেনে করে এসে মনোহরপুর নামতে হবে। কিরিবুরু দূরত্ব ৬০ কিমি।
বেতলা ফরেস্ট: যাকে পালামৌ ফরেস্ট বলা হয়ে থাকে। বেতলা জাতীয় উদ্যান হল ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের লাতেহার জেলার ছোট নাগপুর মালভূমিতে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানে বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণী রয়েছে। ডালটনগঞ্জ থেকে দূরত্ব ১৫ কিমি। রাঁচি থেকে ১৮৬ কিমি। ন্যাশনাল পার্ক। জিপ সাফারির ব্যবস্থা আছে। এখানে এক ঘণ্টায় ছ’জন। গাড়ি প্রতি খরচ ১৭০০ টাকা। ফরেস্ট বাংলো আছে। বাঘ প্রকল্পের অধীনে ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যানগুলির মধ্যে একটি ছিল বেতলা। পার্কটি বন বিভাগের অধীনে।
হাজারিবাগ ন্যাশনাল পার্ক: হাজারিবাগ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হল রাঁচির প্রায় 55 মাইল উত্তরে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এটি 1955 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি হরিণ, বানর এবং পাখি সহ অনেক বন্য প্রাণীর আবাসস্থল। হাওড়া থেকে মুম্বই মেলে চেপে হাজারিবাগ স্টেশন রোড নামতে হবে। এই স্টেশন থেকে দূরত্ব ৭৫ কিমি। রাঁচি থেকে ১১৫ কিমি। এখানে বন বিভাগের বাংলো আছে।
দলমা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি
দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হল ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এটি 1975 সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং এটি ভারতীয় হাতির জনসংখ্যার জন্য আবাসস্থল সরবরাহ করে। দলমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দলমা পাহাড়ের চারপাশে অবস্থিত। চান্ডিল থেকে শুরু করে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে ডালমা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অনেক বড় এলাকা। এই অভয়ারণ্যটি প্রায় 195 বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।
এটি রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় 100 কিলোমিটার এবং ইস্পাত শহর জামশেদপুর থেকে 15 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 915 মিটার উঁচু পাহাড় সহ জাতীয় সড়ক-18 এর সমান্তরালে অবস্থিত। দলমা অভয়ারণ্যটি ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পূর্ব সিংভূম এবং সরাইকেলা-খরসাওয়ান জেলার ১৯৩ বর্গকিলোমিটার বনভূমি জুড়ে বিস্তৃত। ডালমার বন “শুষ্ক উপদ্বীপীয় শাল” এবং “উত্তর শুষ্ক মিশ্র পর্ণমোচী বন” বিভাগে আসে। দলমার বনের বেশিরভাগ অংশ গ্রীষ্মকালে পাতা ঝরে পড়ে এবং বর্ষার শুরুতে পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়।
সবশেষে হিলস্টেশন বা পার্বত্য অঞ্চল
নেতারহাট : নেতারহাট লাতেহার থেকে 75 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 1128 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ি এলাকাটি ছোটনাগপুর মালভূমির সর্বোচ্চ স্থানগুলির মধ্যে একটি। এই স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। নেতারহাট বিশেষ করে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অত্যাশ্চর্য দৃশ্যের জন্য পরিচিত এবং ছোটনাগপুরের রানী নামে পরিচিত। নেতারহাট কম পরিচিত পর্যটন স্থানের তকমায় আসে। কম পরিচিত হওয়ায় পর্যটকরা অবাক হয়ে ওঠেন, নেতারহাটের সবচেয়ে সুন্দর দিক হল এর কাঁচাভাব, এর কঠোরতার মধ্যে একটি সৌন্দর্য রয়েছে, কেবল উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দূর-দূরান্তের সবুজ জঙ্গল দেখার মধ্যে। নেতারহাট থেকে 10 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, ম্যাগনোলিয়া সানসেট পয়েন্ট নেতারহাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। গন্তব্যস্থলের অন্যান্য জনপ্রিয় আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে পাইন ফরেস্ট ভিউ পয়েন্ট, সূর্যোদয় ভিউ পয়েন্ট, আপার ঘাগরি জলপ্রপাত এবং লোয়ার ঘাগরি জলপ্রপাত। উচ্চ ঘাগরি জলপ্রপাত নেতারহাট থেকে প্রায় 4 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে নিম্ন ঘাগরি জলপ্রপাত গন্তব্যস্থল থেকে প্রায় 10 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এছাড়াও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – রাঁচিতে হুড্রু, জোনা , সীতা এবং দশম ফলস আছে। ধোনির ফার্ম হাউস, রক গার্ডেন। কাকে ড্যাম। পাহাড়ি মন্দির। টেগোর হিল। জগন্নাথ মন্দির। রাঁচি মিউজিয়াম। ধুর্বা ড্যাম। রুক্মিনীর মন্দির।
তোয়া’র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন- ঝাড়খন্ড ট্যুরিজমের সাথে আমার ২২ বছরের সম্পর্ক। আমার একটি ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা ডিএমসি আছে। মোবাইল প্লাজা ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস। রাঁচিতেও অফিস আছে। ডিএমসি। প্রথমে যখন কাজ করতে শুরু করেছিলাম তখন অনেক বাধা ছিল। এখন অনেক পালটে গিয়েছে। এখন অনেক সেফ।



Published on: আগ ২৬, ২০২৫ at ২৩:৫২



