

Published on: মে ১৬, ২০২৬ at ২২:৫৬
এসপিটি নিউজ, তারাপীঠ, ১৬ মে: তারাপীঠ মন্দির–এ শনিবার ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে ভোর থেকেই উপচে পড়ল ভক্তদের ঢল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এদিন তারামায়ের দর্শন ও পুজো দিতে তারাপীঠে ভিড় জমান। বিশেষ তিথিতে মা কালীকে শ্রীশ্রী ফলহারিণী কালীরূপে আরাধনা করা হয়। সেই প্রথা মেনেই তারাপীঠেও এদিন দেবী মাতারাকে ফলহারিণী রূপে পুজো করা হয়।
মন্দির চত্বরে সকাল থেকেই ছিল দীর্ঘ লাইন। ভক্তদের হাতে ছিল ফুল, ফল, মিষ্টি ও পুজোর উপকরণ। বহু ভক্ত উপবাস পালন করে মাতারানির পুজোয় অংশ নেন। পুণ্যার্থীদের বিশ্বাস, ফলহারিণী অমাবস্যায় আন্তরিক ভক্তিভরে পুজো দিলে “চতুর্বর্গ ফল” লাভ হয়।
শাস্ত্রমতে, চতুর্বর্গ বা চার পুরুষার্থ হল ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। অর্থাৎ ন্যায় ও ধর্মের পথে চলা, জীবনে সমৃদ্ধি অর্জন, সুখ ও মানসিক তৃপ্তি লাভ এবং শেষ পর্যন্ত আত্মিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়াই হল চতুর্বর্গ ফলের মূল তাৎপর্য। ভক্তদের বিশ্বাস, মা ফলহারিণী কালীর কৃপায় এই চার পুরুষার্থের আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব।
তারাপীঠে বারো মাসে তেরো পার্বণের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, সরস্বতী, লক্ষ্মী–সহ বিভিন্ন দেবীর আরাধনা এখানে তারামায়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। গবেষক ও লেখক প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘তীর্থভূমি তারাপীঠ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তারাপীঠের সেবাইতদের বিশ্বাস— তারামায়ের মধ্যেই সমস্ত দেবীশক্তির অবস্থান রয়েছে। চণ্ডীর একাদশ অধ্যায়ের শ্লোক “সর্ব স্বরূপে সর্বেশে সর্বশক্তি সমন্বিতে…” সেই বিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করে।
গবেষক, লেখক ও তারাপীঠের সেবাইত প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সাধক মোক্ষদানন্দবাবা দেবী তারামায়ের উপর কালিকা পুজো পদ্ধতি চালু করেছিলেন। সেই ধারাই আজও সমানভাবে পালিত হয়ে আসছে। তাঁর কথায়, ফলহারিণী অমাবস্যায় পুজো দিলে ভক্তরা চতুর্বর্গ ফল লাভ করেন বলে বিশ্বাস করেন।
ফলহারিণী অমাবস্যা জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে পালিত এক গুরুত্বপূর্ণ শাক্ত উৎসব। “ফলহারিণী” শব্দের অর্থ— যিনি জীবনের অশুভ কর্মফল দূর করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মা কালী ভক্তদের পাপ, দুঃখ ও নেতিবাচক শক্তি হরণ করেন। তাই এই তিথি শাক্ত সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মা কালীর আরাধনা করলে জীবনের বাধা দূর হয়, মানসিক শান্তি আসে, সংসারে সুখ–সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়।
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস–এর জীবনেও ফলহারিণী কালীপূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই তিথিতেই তিনি শ্রীশারদা দেবী–কে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়, যা রামকৃষ্ণ ভাবধারায় এক ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
Published on: মে ১৬, ২০২৬ at ২২:৫৬



