টাফি’র কেক মিক্সিং অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট: এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর, আরপিও, টাফি’র প্রেসিডেন্ট

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: নভে ২৭, ২০২৫ at ২৩:৩৫
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৭ নভেম্বর : সর্বভারতীয় ট্রাভেল এজেন্টদের অ্যাসোসিয়েশনের তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছে ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া বা টাফি। শুধু ভারত নয় এশিয়া তথা সারা বিশ্বজুড়ে টাফি;র সুনাম আজ সর্ব্জনবিদিত। গত কয়েক বছর ধরেই তারা বড়দিনের আগে কেক মিক্সিং সারিমনি করে স্কলের নজর কেড়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার তাদের এই কেক মিক্সিং অনুষ্ঠানে রীতিমতো চাঁদের হাট বসেছিল। সেখানে হাজির ছিলেন কলকাতা এয়ারপোর্ট-এর ডিরেক্টর বিক্রম সিং, রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসার আশীষ মিধ্বা এবং টাফি’র প্রেসিডেন্ট আব্বাস মোইজ।

এদিন কলকাতায় ক্যানিলওয়ার্থ হোটেলে আয়োজিত টাফি’র এই কেক মিক্সিং অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে কলকাতা এয়ারপোর্ট-এর ডিরেক্টর বিক্রম সিং, রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসার আশীষ মিধ্বা এবং টাফি’র প্রেসিডেন্ট আব্বাস মোইজ এক বাক্যে স্বীকার করে নেন এটা খুবই গঠনমূলক ইভেন্ট। এর মাধ্যমে একতা শুভ বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে যায়।

এদিন মূল অনুষ্ঠানের শেষে টাফি’র সদস্য সহ উপস্থিত সকল অতিথিরাই হাজির হন কেক ্মিক্সিং অনুষ্ঠানে। সেখানে স্কলেই মাথাই টাফি’র লোগো লাগানো একটি সাদা রঙের শেফ ট্যুপি মাথায় পরে নেনে। এরপর হাতে গ্লাভস পরে কেক মিক্সিং-এ হাত লাগান।

কেক মিক্সিং সেরিমনি বা কেক মিক্সিং অনুষ্ঠান হলো একটি প্রথাগত উৎসব, যা সাধারণত বড়দিন (Christmas) উদযাপনের সূচনা হিসাবে পালন করা হয়। এটি মূলত ক্রিসমাস প্ল্যাম কেক বা ফ্রুট কেক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো একসাথে মেশানোর একটি অনুষ্ঠান।

কেক মিক্সিং সেরিমনি কি?

এটি ১৭শ শতকের ইউরোপ থেকে শুরু হওয়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য, যা এখন সারা বিশ্বে এবং ভারতেও বিশেষ করে হোটেল ও বেকারিতে জনপ্রিয় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে, এটি পারিবারিক মিলন এবং ফসল তোলার মরসুমের প্রাচুর্যকে চিহ্নিত করত। এই অনুষ্ঠানটি সাধারণত বড়দিনের কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস আগে (নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতে) অনুষ্ঠিত হয়।

এই অনুষ্ঠানটি মূলত একটি দলবদ্ধ কার্যকলাপ যা আনন্দ, সহাবস্থান এবং নতুন বছরে সমৃদ্ধি কামনার প্রতীক।

উপকরণের সমাহার: একটি বড় টেবিলের উপর বিভিন্ন শুকনো ফল (Dried Fruits), যেমন— কিশমিশ, চেরি, মোরব্বা, খোবানি, ডুমুর, টুটি-ফ্রুটি, কমলালেবুর খোসা, নানা ধরনের বাদাম, এবং সুগন্ধি মসলা (যেমন দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ) স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের অতিথিরা (গ্লাভস এবং শেফের টুপি পরে) একত্রে এই সমস্ত উপকরণ একটি বিশাল পাত্রে হাত দিয়ে মেশানোর কাজে যুক্ত হন। সেখানে দেখা যায় এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর বিক্রম সিং, আরপিও আশীষ মিধ্বাকে। ছিলেন টাফি’র প্রেসিদেন্ট আব্বাস মোইজকেও।

মেশানোর সময় এই শুকনো উপকরণগুলির উপর উদারভাবে রাম, ব্র্যান্ডি, হুইস্কি বা ওয়াইন ঢালা হয়। অ্যালকোহল মেশানো হয় প্রধানত সংরক্ষণের জন্য এবং কেকের স্বাদকে আরও গভীর ও সুগন্ধি করার জন্য। এই মিশ্রণটিকে এরপর জারে ভরে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়। এই সময়ে ফলগুলি অ্যালকোহলে ভিজে নরম হয় এবং ফ্লেভারগুলো ভালোভাবে মিশে কেক তৈরির জন্য একটি সমৃদ্ধ ভিত্তি তৈরি করে।

* প্রতীকী তাৎপর্য: এই অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপকরণ মেশানো হয় ঐক্য, সম্প্রীতি, প্রাচুর্য এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে। অনেকে এই সময় মনের ইচ্ছা বা শুভ কামনাও করে থাকেন।

এই অনুষ্ঠানটি ক্রিসমাস উৎসবের জন্য একটি উষ্ণ এবং মজাদার সূচনা করে, যেখানে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একসঙ্গে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়।

Published on: নভে ২৭, ২০২৫ at ২৩:৩৫


শেয়ার করুন