“ভারতে যে থাকেন, তিনিই ‘হিন্দু’: মোহন ভাগবতের মন্তব্যে বিতর্ক”

দেশ ধর্ম রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ৮, ২০২৬ at ২৩:৫৫

এসপিটি নিউজ, মুম্বাই, ৭ ফেব্রুয়ারি :  রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে ভারতের প্রতিটি মানুষকে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগতভাবে “হিন্দু” বলা যায়, ধর্ম নির্বিশেষে। তাঁর এই মন্তব্যটি ‘100 Years of the Sangh Journey’ অনুষ্ঠানে এসে, যা সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে মুম্বাই-এ আয়োজন করা হয়েছিল।

মোহন ভাগবত বলেন, ‘হিন্দু’ শব্দটি কোনও ধর্মীয় বিশেষ্য নয়, বরং এটি একটি বিশেষণ (adjective) যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐক্য ও মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, যারা ভারতকে মাতৃভূমি মনে করে এবং এখানে মিলেমিশে থাকার স্বপ্ন দেখে, তারা সবাই “হিন্দু” — ধর্ম নির্বিশেষে।

ভাগবতের ভাষায়: “যে কেউ ভারতে বসবাস করে, যে ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি বা খাদ্য অভ্যাসই অনুসরণ করুক না কেন, তারা যদি এই দেশের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের সাথে মিলেমিশে থাকে — তারা হলো ‘হিন্দু’।”

চার ধরনের “হিন্দু” পরিচয়

ভারতের সমাজে লোকেরা কীভাবে নিজেদের ধারণা করে বা করেন না — তা বোঝাতে তিনি চার ধরনের হিন্দুর শ্রেণী কল্পনা করেছেন:

  1. গর্বের সাথে যারা বলেন: — “আমরা হিন্দু।”
  2. যারা বলেন: — “হিন্দু তো আমরা, কিন্তু এতে গর্ব করার কী আছে?”
  3. যারা ‘শান্তভাবে’ স্বীকার করেন: — “বাড়িতে বললে হিন্দু, বাইরে কম।”
  4. যারা ভুলে গেছেন বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে: — এই শ্রেণির লোকেরা এখন বা আগে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য-পরিচয় ভুলে গেছেন বা মনে করেন না।

তাঁর মতে, চার নম্বর শ্রেণি মানুষের মধ্যে আরো বেশি লোককে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে যাতে তারা “হিন্দুত্ব” বা ভারতের ঐতিহ্য সম্পর্কে ভুলে যায়।

ভাগবত এই কথাও বলেন যে হিন্দুত্ব মানতে হলে কেউ তার ধর্ম, ভাষা বা খাদ্যাভ্যাস ছাড়তে হবে না। তিন ব্যাখ্যা করেন:

  • আপনি আপনার ধর্ম বা ভাষা রাখতে পারেন
  • হিন্দুত্ব গ্রহণ করলে আপনার কোনও কিছু নেওয়া হয় না
  • এটি কেবল আপনার নিরাপত্তা ও পরিচয়ের স্বীকৃতি দেয়

এতে তিনি বলে দিয়েছেন যে এই ব্যাখ্যা কোনও ধর্মীয় চাপ নয়, বরং সামাজিক সংহতির কথা বলা হচ্ছে।

মোহন ভাগবত বলেন যে সাধারণভাবে “হিন্দু-মুসলিম ঐক্য” বলা ভুল ধারণা হতে পারে, কারণ ভারতের সমাজে সব সম্প্রদায়ের লোকেরা মিলেমিশে থাকে — ফলে একে আলাদা করে দুই গুটিতে ভাগ করা ঠিক নাও হতে পারে।

তার ভাষায়, ইসলাম বা খ্রিষ্টান ধর্ম থেকেও লোকেরা এখানে যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে এসেছে, এবং এই মিলিত সমাজই ভারতের আসল বৈশিষ্ট্য।

ঘটনাটি শুধু ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নয় — এটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চিন্তাধারার বক্তব্য, যা ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে একটি ঐক্যের দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে বলিউড অভিনেতা সলমান খান ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মোহন ভাগবত বলেছেন যে ভারতে যারা বসবাস করেন, ধর্ম, ভাষা বা সংস্কৃতি নির্বিশেষে, তারা সকলেই একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ — ‘হিন্দু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তিনি ‘হিন্দু’-কে ধর্ম নয়, বরং একটি সামগ্রিক, ঐতিহ্যিক ও দেশাত্মবোধক পরিচয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেই পরিচয়ের চারটি স্তর তুলে ধরেছেন।

Published on: ফেব্রু ৮, ২০২৬ at ২৩:৫৫


শেয়ার করুন