Featured Video Play Icon

রাজস্থান পর্যটন TTF 2024 কলকাতায় আকর্ষণীয় সম্ভার নিয়ে নজর কাড়ল

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

 Published on: জুলা ২০, ২০২৪ at ২৩:৩৭
Reporter: Aniruiddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২০ জুলাই : কলকাতা টিটিএফ ২০২৪ শেষ হয়েছে কিছুদিন হল। ১২ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ভ্রমণ বাণিজ্য মেলায় রাজস্থান পর্যটন তার বিপুল সম্ভার আর আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য স্থান, সাংস্কৃতিক আর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নিয়ে ভ্রমণপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ‘সোনার কেল্লা’ খ্যাত জয়শলমীর কিংবা রণথম্বোরের মতো জাতীয় উদ্যান কিংবা প্যালেস অব হুইলস সবই যেন ভ্রমণপ্রেমী দর্শকদের আকর্ষণ করেছে টিটিএফ-এ অসাধারণ শৈলীতে সজ্জিত রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগমের প্যাভেলিয়নকে।গ্রুপ অংশগ্রহণ পুরস্কার জিতে নিয়েছে রাজস্থান পর্যটন।

টিটিএফ কলকাতায় রাজস্থানের প্যাভেলিয়নে মধুসূদন সিং ও হিংলাজ দন রতনু।

শুধু ভারত নয় বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে রাজস্থান এক বড় নাম। পর্যটকদের আগমনের নীরিখে রাজস্থান দেশের অন্য সব রাজ্যের চেয়ে এগিয়ে । বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে রাজস্থান বরাবরই প্রিয় জায়গা। এ বছর কলকাতা টিটিএফ ২০২৪-এ রাজস্থান প্যাভেলিয়ন প্রতিদিনই ছিল ভ্রমণপ্রেমী দর্শকদের আনাগোনায় মুখর। বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম সবেতেই যেন একটা রাজস্থান যোগ রয়েছে। তা সে স্বামী বিবেকানন্দ হোক কিংবা’ সোনার কেল্লা’ সত্যজিৎ রায়। তাই রাজস্থান যেন ভ্রমণপ্রেমী বাঙালির কাছে তাদের দ্বিতীয় ঘর হয়ে উঠছে।

রাজস্থান এমনই একটা রাজ্য যেখানে শুধু পর্যটনই নয় রয়েছে সিনেমার শ্যুটিং করার অসাধারণ সব স্থান। রাজস্থান শুধুমাত্র বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি নয়, এটি সিনেমায় সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ধরা পড়ে। বিশাল বাজেটের ব্লকবাস্টার থেকে শুরু করে জুতোর বাজেটে তৈরি ডকুমেন্টারি পর্যন্ত, রাজস্থান সব ধরনের ফিল্মমেকার এবং সিনেমার জেনারের জন্য বিস্তৃত লোকেশন এবং সুবিধা প্রদান করে। প্রকৃতপক্ষে, ক্রিস্টোফার নোলান, ওয়েস অ্যান্ডারসন, সঞ্জয় লীলা বনসালি, করণ জোহর এবং আরও অনেক কিছুর মতো ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে এটি একটি পছন্দসই স্থান হয়েছে!  টিটিএফ-এ দর্শকদের রাজস্থানের প্যাভেলিয়নে ভিড় যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়ে গিয়েছে।

১৯৬৫ সালে ‘গাইড’, ২০০৬ সালে ‘দিল্লি ৬’, ওই বছরেই ‘রঙ দে বাসন্তী’, ২০০৯ সালে ‘দিল্লি ৬’, ২০১৩ সালে ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’, ২০১৫ সালে তামিল ফিল্ম ‘আই’, ২০১৫ সালে ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ , ২০১৫ সালে ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ২০১৬ সালে কানাড়া ফিল্ম ‘মাঙ্গুরু মেল ২’, ২০১৭ সালে হিন্দি ছবি ‘ বদ্রীনাথ কি দুলহানিয়া’,  সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এই রাজস্থানে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ফিল্ম- এর একাধিক সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এখানে।

এছাড়াও রাজস্থানে রয়েছে অসাধারণ সব গন্তব্য। আছে দুর্গ, প্রাসাদ, বন্যপ্রাণ, মরুভূমি, লেক, মিউজিয়াম, ধর্মীয় স্থান, দেবস্থান মন্দির সহ আরও কত কি।

আছে আগামী ৭-৮ আগস্ট তিজ ফেস্টিভ্যাল, ২২-২৩ আগস্ট কাজলি তিজ ফেস্টিভ্যাল, ৪-৫ অক্টোবর আভানেরি ফেস্টিভ্যাল, ১২-২৯ অক্টোবর পর্ন্ত চলবে দশেরা ফেস্টিভ্যাল, ১৬-১৭ অক্টোবর মারওয়ার ফেস্টিভ্যাল, ৩-৫ নভেম্বর হবে মোমাসর উৎসব, ৯-১৫ নভেম্বর হবে পুস্কর ফেয়ার,  ১৪-১৬ নভেম্বর চন্দ্রভাগা ফেয়ার, ১৮-২০ ্নভেম্বর বুন্দি ফেস্টিভ্যাল, ২৫-২৬ নভেম্বর হবে মৎস্য ফেস্টিভ্যাল, ১-৩ ডিসেম্বর হবে কুম্ভলগড় ফেস্টিভ্যাল। এমন এক উৎসবের রাজ্যে যেতে ভ্রমণপ্রেমীরা সব সময় মুখিয়ে থাকে। টিটিএফ কলকাতায় তাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছিল।

টিটিএফ কলকাতায় এসেছিলেন রাজস্থান পর্যটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর মধুসূদন সিং। সংবাদ প্রভাকর তাইমস-কে তিনি জানান- বাংলার সঙ্গে রাজস্থানের সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য সবেতেই এক যোগসূত্র আছে। এই দুই রাজ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই পরম্পরা আজও বয়ে নিয়ে চলেছে দুই রাজ্যের মানুষ। বাংলা থেকে প্রতি বছরই সব চেয়ে বেশি মানুষ রাজস্থান ভ্রমণ করে। তিনি আরও জানান যে পশ্চিম রাজস্থানে যে ডেজার্ট পার্ট অর্থাৎ মরু অঞ্চল আছে- জয়শলমীর, যোধপুর, উদয়পুর সেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ এখান থেকে যায়। রাজস্থান পর্যটন সর্বদা তাদের স্বাগত জানাতে তৈরি আছে।

“এখন তো দুর্গা পুজোর সময় রাজস্থানের একাধিক জায়গায় দুর্গা পুজো শুরু হয়েছে। এমনকি, জগন্নাথের রথযাত্রাও হচ্ছে এখন রাজস্থানে।“ জানালেন রাজস্থান পর্যটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর। “এটা এক ধরনের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন গড়ে উঠতে শুরু করেছে। এটা খুব ভাল লক্ষণ।“

রাজস্থান পর্যটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর মধুসূদন সিং জানান, রাজস্থানে এখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গত দুই বছরে অনেকটাই উন্নতি করেছে। তা সে ন্যাশনাল হাইওয়ে, এক্সপ্রেস হাইওয়ে কিংবা স্টেট হাইওয়ে সবেতেই প্রভূত উন্নতি করেছে। এজন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে, তাতে ন’টি এক্সপ্রেসওয়ে করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন বছরে রাজস্থানে বিশ্ব মানের যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ মিলবে।

অফবিট জায়গাও ধীরে ধীরে আবিষ্কার হচ্ছে রাজস্থানে। দেবপুরে সম্বর লেক তেমনই একটি নাম। এটি দীর্ঘ সল্ট প্রটেকশান লেক।  সেখানে ফ্লেমিংগো বার্ড প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। ব্রিটিশ পিরিয়ডে সেখানে যে ট্রেন চালানো হতো তারও সংস্কার করা হয়েছে। উদয়পুরেও একটি নতুন স্পট হয়েছে। সেখানে একটা বিশালাকার স্ট্যাচু মুক্ত করা হয়েছে দর্শকদের জন্য। যোগ করেন শ্রী সিং।

“একইভাবে বন্যপ্রাণ গন্তব্যের জন্য রণথম্বোরের পাশে তিন ন্যাশনাল পার্ক ঘোষণা করা হয়েছে।রণথম্বোরের পাশে এক রামগড়, বিস্তারি এবং কুন্দ্রা ঢোলপুরে। এক্ষেত্রে ইকো ট্যুরিজম এবং ওয়াইল্ডলাইফ ট্যুরিজম উন্নয়ন করেছি। “

“পশ্চিম রাজস্থানে জয়শলমীরে আমরা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং বর্ডার ট্যুরিজম অ্যাক্টিভিটি আমরা শুরু করেছি। এতে চার জেলা আছে- গঙ্গানগর, জয়শলমীর, বিকানের ও বারমের। এখানে গেলে আপনারা যে পাঞ্জাবে আটারি ওয়াগা বর্ডারে সারিমনি দেখে থাকেন ঠিক তেমনই এখানেও তেমনটা দেখতে পাবেন।“ যোগ করেন মধুদূদন সিং।

কলকাতায় রাজস্থান সরকারের তথ্য ও জনংযোগ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর এবং কলকাতার আরটিডিসি-র ভারপ্রাপ্ত পর্যটন আধিকারিক হিংলাজ দন রত্নু সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে জানান- টিটিএফ শেষ হওয়ার পরই এই রাজ্য থেকে রাজস্থান ঘুরতে যাওয়ার জন্য বুকিং-এর গতি বেড়ে যাবে। তারা রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগমের হোটেলকেই পছন্দ করেন। এজন্য আরটিডিসি বিশেষ ছাড় দেয় পর্যটকদের। এর মধ্যে সিনিয়র সিটিজেনদের ২০ শতাংশ, সরকারি কর্মীদের ৩০ শতাংশ, মহিলারা কোনও গ্রুপে গেলে ২৫ শতাংশ, এরকম বহু সুযোগ আছে। রাজস্থান হল নিরাপদ ও সুরক্ষিত বেড়ানোর জায়গা।

Published on: জুলা ২০, ২০২৪ at ২৩:৩৭


শেয়ার করুন