অনবদ্য প্রয়াস- নেজ ম্যাজিক ল্যান্টার্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ সেরা ইউরোপিয়ান সিনেমার প্রদর্শন

Main দেশ বিনোদন ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

দুটি ম্যগাজিন ‘আর্টে’ এবং ‘বেভারলি হিলস স্টুডিও’ র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ
বিদেশি সিনেমাকে কলকাতায় স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ আমরাই করেছি- সুদীপ রঞ্জন সরকার
মোট দশটি ছবি দেখানো হবে
Published on: সেপ্টে ৯, ২০২৫ at ১২:১১
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৯ আগস্ট : কলকাতাকে বলা হয়ে থাকে আনন্দের শহর। সংস্কৃতির শহর। তা যে কতটা সত্যি সেটা আবারও প্রমাণিত হল। কলকাতা শুধু নিজের কথা ভাবে না। নিজের সংস্কৃতি নিয়ে থাকে না। কলকাতা সবাইকে নিয়ে থাকতে ভালবাসে। যা কিছু ভাল আছে তাই কলকাতা আপন করে নেয় নিজের মতো করে। তেমনই করেছে নেজ ফাইন্ডেশন। ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ এন্ড অ্যালায়েড আর্ট-এর সাথে যৌথভাবে নেজ ল্যাটার্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ সেশন অফ বেস্ট ইউরোপিয়ান সিনেমা উপস্থাপন করছে। যা সত্যি এক অনবদ্য প্রয়াস।

সোমবার কলকাতায় আইসিসিআর-এ এক সাংবাদিক সম্মেলন করে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা ঘোষণা করেন নেজ ফাউন্ডেশন কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা সুদীপ রঞ্জন সরকার। সঙ্গে ছিলেন ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রীতা শেওয়ার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ আন্ড অ্যালায়েড আর্ট-এর সাধারণ সম্পাদক রবীন ব্যানার্জি, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বরুন রায় সহ অন্যান্য চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের কলাকুশলীরা।

এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে  দুটি ম্যগাজিন ‘আর্টে’ এবং ‘বেভারলি হিলস স্টুডিও’ র উদ্বোধন করা হয়। নেজ ফাউন্ডেশনের মালিকানাধীন ‘আর্টে’ স্পেন থেকে এবং ‘বেভারলি হিলস স্টুডিও’ লস এঞ্জেলস থেকে প্রকাশিত হবে। ‘আর্টে’ ম্যগাজিনটা ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু কোভিডের সময় ম্যগাজিনটা বন্ধ হয়ে যায়।

নেজ ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা সুদীপ রঞ্জন সরকার বলেন- এই ‘আর্টে’ ম্যগাজিনের সম্পর্কে বলার বিষয় হল , এর সম্পাদক হলেন একজন স্প্যানিশ লেডি- মিকেলা সোলার অ্যাসটরগা। এই ম্যাগাজিনে আর্ট, ফ্যাশন, লিটারেচর আরও বিভিন্ন বিষয় থাকবে। সাধারণত, মিকি সোলার নামে পরিচিত। ওনেমা-থিয়েটার, উপন্যাস এবং মুদ্রণ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপকভাবে তিনি পরিচিত। মিকি নেজ-এর সাথে হাত মিলিয়েছেন। অপর ম্যাগাজিনটা হল- ‘বেভারলি হিলস স্টুডিও’। বিল রবার্টস যার ছবি প্রকাশিত হয়েছে প্রচ্ছদে তিনি সম্মতি দিয়েছেন। এই ম্যাগাজিনটা আমেরিকা ও স্পেন থেকে প্রকাশিত হবে। এরও সম্পাদক মিকেলা সোলার অ্যাসটরগা।

আর একটি বিষয় নিয়ে সুদীপ বলেন- আমরা যখন সাদা চামড়ার কিংবা তাদের দেশের থেকে স্বীকৃতি পাই তখন আমরা জাতে উঠি । সেটা আর্টের কিংবা সিনেমার ক্ষেত্রে কিংবা অন্য যেকোনও ক্ষেত্রেই। একপ্রকার জেদ করেই বলতে পারেন যে এই ম্যাজিক ল্যান্টার্ন কিংবা এই ই-ম্যাগাজিনগুলি ভারতে বসে আমি ইউরোপ এবং আমেরিকার মাটিতে এই ম্যাগাজিনগুলি লঞ্চ করেছি। যেখানে আমরা সবাই মিলে ওদেরকে সেই স্বীকৃতিটা দেব। যা বৃহত্তরভাবে ইন্ডিয়ার থেকে সেই স্বীকৃতি তারা পায়নি। হতে পারে এটা একটা’ রিভার্স জার্নি’।

সংবাদ প্রভাকর টাইমস এর পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল – একজন বাঙালি হিসাবে সুদীপ রঞ্জন সরকার নেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ইউরোপিয়ান ছবি নিয়ে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করার দিকে ঝুঁকলেন কেন?

জবাবে সুদীপ বলেন- সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনদের সারা পৃথিবী ব্যাপী মানুষেরা চেনেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন অনেক বাঙালি আছেন যাদের সিনেমা আমরা দেখে উঠতে পারি না। তাদের কাজ আমরা জানি না। সত্যজিৎ রায়ের জায়গাতেই আমরা বসে আছি। ঋত্বিক ঘটককে ইউরোপ, আমেরিকার মানুষ চেনেন। আমার মনে হয় তাদেরকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা বা জনসমক্ষে আনার স্পর্ধা আমার নেই। কিন্তু আপনার কথাকে সহমতি দিয়ে আমি বলছি- আমি তাদের সিনেমাকে টাইম-টু-টাইম তুলে ধরব। বৃহত্তর আগামিদিনের জেনারেশনের কাছে। এই নিয়ে আপনি খুব সুন্দর কথা বলেছেন- ফ্রেড্রিকো ফেলিনি, জন উপদায়কদের দেশে আমি তাদের সিনেমা আগামিদিনে নিয়ে যাব। আমাকে বরুণদা, রবীনদা সাহায্য করবেন। কিন্তু তার সাথে একটা গুরুদায়িত্ব আমি ঘাড়ে নিয়েছি এখানে কলকাতার অনেক বাঙালি ছেলে-মেয়ে, ডাইরেক্টর, অ্যাক্টর আছে যাদের সম্পর্কে আমরা জানি না। এই কলকাতাতেই তাদের প্রতিষ্ঠা নেই। আমার পরবর্তী পদক্ষেপ এই ম্যাজিক ল্যান্টার্ন এবং এই ম্যাগাজিনের মাধ্যমে তাদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া সেখানে প্রতিষ্ঠা কিংবা পরিচিতি দেওয়া। আমাদের মধ্য আছে- তন্বী চৌধুরী- একজন কত্থক শিল্পী, প্রিয়াঙ্কা উদীয়মান অভিনেত্রী যাকে আমি নিজের সিনেমায় প্রমোট করার চেষ্টা করেছি। রয়েছেন আর এক কত্থজক শিল্পী দেবশ্রী, শৈবাল সেন একজন স্যাক্সোফোন শিল্পী, আমি চেষ্টা করছি ওনার বিষয়ে আমি চেষ্টা করছি ওনাকে বিদেশের মাটিতে প্রোগ্রাম করানোর। একই সঙ্গে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা। রেশমি শর্মা কলকাতার মেয়ে। মেঘা গুপ্তা, মধুশ্রী, শর্মিষ্ঠা মজুন্দার। এরা সকলেই কৃতী শিল্পী। আমার প্রচেষ্টা রয়েছে আমি চেষ্টা করি ফোরামের সাথে মিলেমিশে শুধু ভাল সিনেমা দেখানো নয় এর নেটওয়ার্কিং করা।

আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিচ্ছি- কেন ইউরোপ

“আসলে এটা আমাদের দোষ। আমরা যতক্ষন পর্যন্ত কান, বার্লিন, ভেনিস থেকে ঘুরে না আসি আমরা জাতে উঠি না। ওটা দুঃখজনক ব্যাপার। ঐ সত্যজিৎ  রায়ের পথের পাঁচালিও কিন্তু কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ গিয়ে আরও পরিচিতি পায়। আমার একটাই কথা- সমালোচনা না করে আসুন আমরা কি করতে পারি তা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলি।“

“সারা পৃথিবীজুড়ে অনেক ফেস্টিভ্যাল আছে, ভারতে আছে কলকাতাতেও আছে। কিন্তু আমার এই প্রচেষ্টা – সিনেমার যে পীঠস্থান ইউরোপ এর যে একতা আলাদা সংস্কৃতি এটাকে আমি ভারতে বসে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। আমরা জানি হয় হলিউড না হয় বলিউড। এর বাইরেও যে একটা বড় দুনিয়া আছে এটাকে দেখানোর জন্য আমরা ইউরোপিয়ান সিনেমাকে আনার প্রয়াস করেছি। ভারতীয় সিনেমা ইউরোপে যায় এবং স্বীকৃতি পায়। কিন্তু বিদেশি সিনেমা কলকাতায় এসে এই স্বীকৃতি পাওয়া বা দেখানোর সুযোগটা আমার মনে হয় এটা এখনও অব্ধি কেউ করেনি। আমরাই চেষ্টা করেছি।“ যোগ করেন সুদীপ।

ফোরামের পক্ষে প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বরুন রায় বলেন- “ফোরাম যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালে। তারপর থেকে এগিয়ে চলেছে ফোরা,। প্রতি বছর আমাদের ইভেন্ট হয়ে থেকে। একটি হল নেজ-এর সাথে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল , যেখানে আমরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে থাকি।“

সুদীপ বলেন- “এখানে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইউরোপের সেরা সিনেমাগুলি দেখতে পাবে, আর কৃতিত্ব আমি বরুণদাকে দিতে চাই। আমি বলছিলাম না, সমালোচনা না করে আমাদের ভাবতে হবে যে আমরা কি করতে পারি। আমি দু’বছরে ওনাদের কাছ থেকে একতা জিনিসই শিখেছি যে সমালোচনা না করে কিভাবে জিনিস্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আমরা একন সোশয়াল মিডিয়ার যুগে ইন্সট্যান্ট রেজাল্ট চাই। কিভাবে একটা মুভমেন্টকে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শুধুমাত্র প্যাশন দিয়ে চালানো যায়।“

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রবীন ব্যানার্জি বলেন- “প্রথম দিন স্প্যানিশ ছবি দিয়ে সূচনা করা হয়। এছারাও আরও দশটি ছবি দেখানো হবে। আপনারা জানেন যে হলিউডের ছবি ছাড়া বিদেশি ছবি পাওয়া খুবই মুশকিল। এই ছবিগুলি কোনও বাণিজ্যিকভাবে রিলিজ হয় না। এই ছবিগুলি দেখানোর জন্য ভারত সরকারের থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে। বড় পর্দায় যারা ছবি দেখতে পছন্দ করেন যারা ভাল ছবি দেখতে চান তাদের কথা ভেবেই আমাদের এই উদ্যোগ।“

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। দুপুর রিনটে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই ছবিগুলি দেখানো হবে। যেগুলি দেখানো হবে সেগুলি হল-

  • সার্ডিটা (স্পেন)- পরিচালক কার্লোটা পেরেদা
  • এক্সটাসিস ( লাটভিয়া)- পরিচালক ডিই ডিলিংগার
  • উত্তর মেসিডোনিয়া – পরিচালক মিলচো মানচেভস্কি
  • স্টার এট নুন ফ্রান্স/পানামা/ইউএসএ- পরিচালক ক্লেয়ার ডেনিস
  • মেট্রোনোম (রোমানিয়া/ফ্রান্স)- পরিচালক আলিকজান্দু বেলক
  • বেবিগার্ল( নেদারল্যান্ডস/ ইউএসএ)- পরিচালক হালিনা রেজন
  • এ কাপ অফ কফি এন্ড নিউ সুস অন গ্রিস- পরিচালক জেন্তিয়ান কোকি
  • প্যারাডাইস অস্ট্রিয়া – পরিচালক এলেনা উলফ
  • দ্য হিল হয়্যার লাওনেস রোয়ার কসোভো/ফ্রান্স- পরিচালক লুয়ানা বজরামি
  • বর্ডারস অফ লাভ চেক রিপাব্লিক- পরিচালক টমাস উইনস্কি

Published on: সেপ্টে ৯, ২০২৫ at ১২:১১


শেয়ার করুন