
Published on: সেপ্টে ৯, ২০২৫ at ১৮:৪৬
Reporter: Aniriddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর : প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীত শিল্পী ড. ভূপেন হাজারিকার শতবর্ষ জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হল কলকাতায়। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কলকাতায় ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে ব্যতিক্রমী গ্রুপের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীতশিল্পী, সাংবাদিক থেকে শুরু করে গুনীজনরা স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা জানান। যাদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউল, শ্রীকান্ত আচার্য, লোপামুদ্রা মিত্র, সাংবাদিক স্নেহাশিস সুর সহ অনেকে। আবেগ ভরা কণ্ঠে ভূপেন হাজারিকার স্মৃতিচারণ করেন বাউল সম্রাট।
বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন- “দাদা, ভূপেনদা। আমার বাবা বলতেন দাদা বলবে। আমি ভূপেনদা বলে ডাকতাম। প্রতিটি জায়গায় এবং খুব বড় অনুষ্ঠান হলে সেই জায়গায় ভূপেনদা আগেই বলত, তোমার নাম দেওয়া হয়েছে। তুমি সেখানে পৌঁছবে। যেকোনওভাবেই হোক সেখানে পৌছতেই হবে। আমেরিকায় যখন যান সেই সময় আমার বন্ধু বাদলের বাড়িতে থেকে আমরা অনুষ্ঠান করেছি। যত প্রোগ্রাম করেছি বেশির ভাগ প্রোগ্রাম আসামে। শুধু একটা জায়গাতেই নয় প্রতিমা বড়ুয়ার পরিবার আমাকে খুব ভালবাসেন এবং নিজের মনে করেন। আমি বিশেষভাবে ভূপেনদাকে আমার শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি যারা সঙ্গী ছিল যন্ত্র নিয়ে সব জায়গায় অনুষ্ঠান করা হয়েছে। আমাকে গোটা আসাম ঘুরিয়েছে আমার ভূপেনদা। সেখানে বড় বড় জায়গায় অনুষ্ঠান হলেই আগেই আমার নাম করতেন। আর সেই জায়গায় আমি পৌঁছে যেতাম। এবং তিনি খুবই খুশি হতেন। এত ভাল লাগত আমার যে কিছু বলার নেই)। অন্তর থেকে বলতাম ভূপেনদা চলে গেছেন। ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমার বয় এখন ৯৪ বছর হচ্ছে। এত দিন দাদার সঙ্গে সঙ্গ লাভ হয়েছে।“
কল্কাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর বলেন- “আমি ব্যতিক্রমের ড. সৌমেন ভারতীয়কে ধন্যবাদ জানাই। এই কলকাতায় ভূপেনদার একটা কর্মক্ষেত্র ছিল। সেখানে এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান করার জন্য। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূপেন হাজারিকা সম্পর্কে একটা দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন যারা সেটা পড়েছেন যে ভূপেন হাজারিকার সঙ্গীত প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই সঙ্গীত শুনে বড় হয়েছে। আজকে যেটা ভাল লাগছে এখানে আগামী প্রজন্মের অনেকে এসেছেন যারা ভূপেনদার সঙ্গীতের ধারক ও বাহক হবেন। আমি সঙ্গীতের লোক নই। কিন্তু আমি পেশায় সাংবাদিক। সাংবাদিকতাকে এখন যেখানে মাস কমিউনিকেশন বলা হয় বিশ্বাস ক্রুন এই মাস কমিউনিকেশন শব্দটা প্রথম শুনি যখন আমাদের বেড়ে ওঠা ভূপেন হাজারিকার গান শুনে, যখন ওনাকে বলা হত ড. ভূপেন হাজারিকা। আমাদের মনে হত উনি কিসে ডক্টরেট। তারপর জানা গেল উনি মাস কমিউনিকেশনে ডক্টরেট। তখনই আমি প্রথম মাস কমিউনিকেশন শব্দটা শুনি। উনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশনের অধ্যাপক। তার আগে বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল সংস্কৃতি ও সংগীতের ব্যপ্তি। মানে একটা ভৌগলিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সঙ্গীত সীমাবদ্ধ থাকে না। সঙ্গীত ছড়িয়ে পরে সারা বিশ্বে। উনি সারা জীবন সেই কাজটা করে গেছেন। সারা বিশ্বে উনি ছড়িয়ে পরেছিলেন।“
“ শুধু অসম এবং কলকাতা নয় । বিদেশে যখন পড়তেন তখন পল রবসনের সঙ্গে ওনার যোগাযোগ হয়। সেই যে অহমিয়া লোকসংগীতের সুরটায় বিভিন্ন কথা , উনি কিন্তু তিনটি ভাষায় গান লিখেছেন। ছ’টি অহমিয়া ছবি করেছেন। দুটি বাংলা চলচ্চিত্রর উনি ছিলেন নির্দেশক। এই গণসংযোগে তার একতা বিচরণ ছিল তিনি ছিলেন গাবের মাধ্যমে বিশ্বপথিক। তার গানের কথার বিশ্লেষণ করার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু কথাটা আসে সুর আর কণ্ঠের মধ্য দিয়ে। তাঁর গান শুনলে আমাদের হৃদয় স্পন্দিত হয়। প্রতিটা ঝংকার মূর্ত বাস্তব হয়ে ওঠে। যখন দুঃখের কথা বলেন, যখন উনি গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা দেশ ভাগের সেই যে দুঃখ-দুর্দশাটা মনে হয় ঝংকৃত হচ্ছে তার এই গানের কথায়। তারঁ প্রতিটি গান আমাদের হৃদয়্কে স্পর্শ করে। অনেক প্রজন্ম বড় হয়েছে আরও অনেক প্রজন্ম ভূপেন হাজারিকার সংগীতকে নিয়েই অন্তরের অন্তস্থল থেকে হৃদ্য হবেন।“
এদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এনএএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস কলকাতার শিক্ষার্থীদের ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত ‘মানুষ মানুষের জন্য’ গানটি দিয়ে। এরপর গুনীজন সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে পদ্মশ্রী বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউলকে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁর হাতে স্মারক তুলে দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সম্বর্ধিত করা হয় বাংলার জনপ্রিয় দুই সংগীত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য ও লোপামুদ্রা মিত্রকে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন অতিথিকে বিশেষভাবে সম্বর্ধিত করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীকান্ত আচার্য, লোপামুদ্রা মিত্র, ডলি ঘোষ, মিঠুন ধর, কাশ্মীরী কতকি মালিক সহ আরও অনেকে।





Published on: সেপ্টে ৯, ২০২৫ at ১৮:৪৬



