মালদার সভা থেকে মোদি বললেন কেন ‘তৃণমূল আর নয়’

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

‘অনুপ্রবেশ, লুট আর সিন্ডিকেট রাজে বাংলার ভবিষ্যৎ বিপন্ন’ — এবার “আসল পরিবর্তন” চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Published on: জানু ১৭, ২০২৬ at ২১:১৬

এসপিটি নিউজ, মালদা , ১৭ জানুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মালদার জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা এবং সিন্ডিকেট রাজনীতির অভিযোগ তুলে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের শাসনে ক্লান্ত। এবার বাংলায় আসল পরিবর্তনের সময়।”

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য,
“অনুপ্রবেশ আজ পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব শুধু নিরাপত্তায় নয়— সমাজ ও সংস্কৃতিতেও পড়ছে। অনেক জায়গায় তো ভাষাই বদলে যাচ্ছে।”

মোদির অভিযোগ, ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তৃণমূল সরকারকে “নির্মম ও অসহানুভূতিশীল” আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্র সরকার গরিব মানুষের জন্য টাকা পাঠায়, আর তৃণমূল সরকার সেই টাকা লুট করে।”

আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর না হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন তিনি। মোদির বক্তব্যে উঠে আসে সিন্ডিকেট রাজনীতির প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ্যে উন্নয়ন আটকে রেখেছে। যারা প্রশ্ন তোলে, তাদের ভয় দেখানো হয়।”

এই পরিস্থিতির কারণে শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থেকে পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “যাঁরা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে এসেছেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কোনও আপস হবে না।”

যুবসমাজের উদ্দেশে মোদি বলেন, “আজকের জেনারেশন-Z উন্নয়ন চায়, দুর্নীতি নয়।”

তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের তরুণরা বিজেপির উন্নয়ন মডেলের দিকে তাকিয়ে আছে এবং একটি স্থায়ী ও সুশাসনের সরকার চায়। সমগ্র ভাষণ জুড়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে। বিজেপিকে সুযোগ দিন, বাংলা এগিয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদার এই সভা থেকেই কার্যত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও বিভাজনের রাজনীতি বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে।

Published on: জানু ১৭, ২০২৬ at ২১:১৬

 


শেয়ার করুন