

Published on: জানু ১৮, ২০২৬ at ২০:৫৫
এসপিটি নিউজ, সিঙ্গুর , ১৮ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন করে আগুন ধরালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হুগলির সিঙ্গুরে এক বিশাল জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেন, রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের “মেগা জঙ্গলরাজ” থেকে মুক্তি পেতে প্রস্তুত এবং পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে বাংলা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙন ঘটেছে। দুর্নীতি, হিংসা ও ভয়-ভীতির রাজনীতি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে উন্নয়ন থমকে গেছে, যুবসমাজ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে রাজনৈতিক কারণে আটকে রাখা হচ্ছে।
মোদির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় রাজ্যের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সংক্রান্ত ইস্যু। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না এবং কেন্দ্রের উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁর কথায়, “একদিকে দেশ সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করছে, অন্যদিকে তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে।”
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেল পরিষেবা, আমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প। মোদির দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে বিজেপির কোনও নৈতিক অধিকার নেই। তারা বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চাইছে।”
তৃণমূলের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজ্যে সামাজিক প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করতে চায় না।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিঙ্গুর এখন কার্যত রাজনৈতিক হটস্পট। প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিজেপি ও তৃণমূল—দু’পক্ষই সিঙ্গুরকে প্রতীকী রাজনীতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সভা বিজেপির তরফে শক্তি প্রদর্শনেরই অংশ। একদিকে বিজেপি ‘পরিবর্তন’ ও ‘উন্নয়ন’-এর বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো করতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাই আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই টানাপোড়েন আরও তীব্র হবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
Published on: জানু ১৮, ২০২৬ at ২০:৫৫



