

Published on: ডিসে ২৩, ২০২৫ at ২০:৫৪
এসপিটি নিউজ, ভোপাল: মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের নেতৃত্বে মধ্যপ্রদেশ এক বিশাল সাংস্কৃতিক ও পর্যটন বিপ্লবের পথে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে সঙ্গী করে ‘বিকশিত মধ্যপ্রদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে পর্যটন ও সংস্কৃতি বিভাগ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। সম্প্রতি ভোপালের কুশভাউ ঠাকরে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিগত দুই বছরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন পর্যটন ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) ধর্মেন্দ্র ভব সিং লোধী এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শিও শেখর শুক্লা।
পর্যটনে জোয়ার: ১৪ কোটি পর্যটকের রেকর্ড
বিগত এক বছরে মধ্যপ্রদেশে পর্যটকদের সংখ্যায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। গত বছর ১৪ কোটিরও বেশি পর্যটক এই রাজ্য ভ্রমণ করেছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকারের লক্ষ্য হলো রাজ্যের জিডিপিতে (GDP) পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী দিনে ২০,০০০ কক্ষবিশিষ্ট ৫০০টি নতুন হোটেল এবং ৫০০টি হাইওয়ে অ্যামেনিটি সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সাংস্কৃতিক নবজাগরণ ও ‘লোক’ প্রকল্প
রাজ্যের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি ‘লোক’ প্রকল্পের কাজ চলছে।
- অদ্বৈত লোক (ওমকারেশ্বর): আদি শঙ্করাচার্যের ১০৮ ফুট উঁচু মূর্তি স্থাপনের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে ২,৪২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অদ্বৈত লোক নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- রাম পথ ও কৃষ্ণ পথ: ভগবান শ্রী রামের স্মৃতিবিজড়িত ‘শ্রী রামচন্দ্র বন গমন পথ’ এবং ভগবান শ্রী কৃষ্ণের লীলাস্থলী নিয়ে ‘শ্রী কৃষ্ণ পথে’ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
- সাংস্কৃতিক বিশ্ব রেকর্ড: মধ্যপ্রদেশ ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ৮টি বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান মজবুত করেছে।
বিশ্বমঞ্চে মধ্যপ্রদেশ: ইউনেস্কো ও হেরিটেজ
বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের ১০টি স্থান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য আরও ১৫টি স্থানকে সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোপাল, ইন্দোর ও মহেশ্বরকে ‘সৃজনশীল শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এছাড়াও ওড়ছা, মাণ্ডু এবং সাতপুরা টাইগার রিজার্ভকে বিশ্ব ঐতিহ্যের পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারী ক্ষমতায়ন
পর্যটনকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে সরকার ১,০০০টি হোমস্টে তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যার মধ্যে ৪০০টি ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলো ৭ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে। পাশাপাশি, নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে ৫০,০০০ নারী ও মেয়েকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আধুনিক পরিষেবা: পিএম শ্রী পর্যটন বিমান ও হেলিকাপ্টার
যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ‘পিএম শ্রী পর্যটন বিমান পরিষেবা’ চালু করা হয়েছে, যা ইন্দোর, ভোপাল, গোয়ালিয়র এবং খাজুরাহোর মতো প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করেছে। পর্যটকদের জন্য হেলিকাপ্টার পরিষেবাও শুরু হয়েছে।
ধর্মীয় সেবা ও মন্দির সংস্কার
‘মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ দর্শন’ প্রকল্পের অধীনে গত দুই বছরে ২৫,০০০-এর বেশি মানুষ বিমান ও ট্রেনের মাধ্যমে তীর্থযাত্রা করেছেন। ১৩২টি সরকারি মন্দিরের সংস্কার কাজ অনুমোদিত হয়েছে এবং পুরোহিতদের সম্মানভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিগত দুই বছরে পর্যটন বিভাগ শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ১৮টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন ‘পর্যটন নীতি ২০২৫’ এবং ‘চলচ্চিত্র পর্যটন নীতি ২০২৫’ বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, যার ফলে আগামী দিনে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
Published on: ডিসে ২৩, ২০২৫ at ২০:৫৪



