সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হামলা: সিডনিতে প্রবাসী সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ

Main দেশ বিদেশ
শেয়ার করুন

Published on: ডিসে ২৩, ২০২৫ at ২২:৪৬

এসপিটি নিউজ, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া- বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সাংবাদিকদের ওপর হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সিডনি। গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ABJA) এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের এক ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত: বক্তাদের ক্ষোভ

সংগঠনের সভাপতি মহম্মাদ আবদুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ ও আকিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত হামলা ও লুঠপাট কেবল গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নয়, এটি মুক্তচিন্তা ও গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরার এক সুসংগঠিত অপচেষ্টা। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, দেশে এখন মুক্তবুদ্ধি ও সংস্কৃতির চর্চাও হুমকির মুখে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্র কি তবে পর্দার আড়ালে থেকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নীরব পৃষ্ঠপোষকতা করছে?

প্রধান দাবিগুলো:

প্রতিবাদ সভা থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক সমাজ সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন:

  • সুষ্ঠু তদন্ত: প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা এবং সাংবাদিক হত্যার চেষ্টার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত।
  • বিচারের দাবি: গণআন্দোলনের যোদ্ধা হাদি-র নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
  • নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: সংবাদকর্মী ও প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন।
  • ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় দেশ-বিদেশের সকল বিবেকবান মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।
‘জঙ্গিবাদী রূপান্তরের অশনিসংকেত’

বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং একের পর এক অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলছে, তা দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য ‘জঙ্গিবাদী রূপান্তরের’ আগাম সতর্কবার্তা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেলাল হোসেন ঢালী, মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, হাজী মোঃ দেলওয়ার হোসেন, এহতেশামুল মুজিব মৃদুল, আতাউর রহমান, অর্ক হাসান, দিলারা জাহান, মোঃ রেজাউল করিম, শরিফুল ইসলাম স্বপন, শাকিল সিকদার, সামসুল আরেফিন রিয়াদ প্রমুখ। সভা শেষে সাংবাদিক সমাজ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, ভীতি প্রদর্শন করে কলম থামানো যাবে না।

বক্তারা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, আগুন ধরিয়ে দেওয়া, অফিস ভাঙচুর, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরঞ্জাম লুটপাট এবং মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে দেশজুড়ে ভয়ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবাদিকতা দমন করার একটি সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে হামলার মতো ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়—এটি কেবল গণমাধ্যম নয়, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির ওপরও আক্রমণ।

সভায় বলা হয়, হামলার সময় বহু স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ। বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্র কি তবে সন্ত্রাসী শক্তির নীরব পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হচ্ছে? দেশে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সাংবাদিকদের টার্গেট করা জঙ্গিবাদী রূপান্তরের অশনিসংকেত বহন করছে।

Published on: ডিসে ২৩, ২০২৫ at ২২:৪৬


শেয়ার করুন