বাংলাদেশে ১৫ মাসে হত্যা, খুন, আর লাশ, প্রশ্নের মুখে ইউনুস সরকার

Main দেশ বাংলাদেশ বিদেশ
শেয়ার করুন

গত ১৪ মাসেই ৪,১৭৭টি খুনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশে
আইন কি শুধু আওয়ামী লীগের জন্য? এই প্রশ্নে তোলপাড় গোটা বাংলাদেশ

Published on: নভে ২০, ২০২৫ at ২০:২৩

এসপিটি নিউজ ডেস্ক : কি হবে বাংলাদেশে? সেদেশের মানুষ কি শান্তিতে আছে? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করার পরেও কি সেদেশে স্বস্তি ফিরল না? আদৌ কি বাংলাদেশ হাসিনাকে ফেরত পাবে? এই সব প্রশ্নকেও ছাপিয়ে গিয়েছে আরও একটি প্রশ্ন। তা হল- “আইন কি শুধু আওয়ামী লীগের জন্য?” এই প্রশ্ন তুলে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াহেদ জয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মিডিয়া সেল সারা বিশ্বের সামনে রীতিমতো কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে ইউনুস সরকারকে।  কারণ, বাংলাদেশে ১৫ মাসে হত্যা, খুন, আর সন্ত্রাসে জর্জরিত। যার মধ্যে গত ১৪ মাসেই ৪,১৭৭টি খুনের অভিযোগ উঠেছে।যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিরাট প্রশ্নের মুখে ইউনুস সরকার।

যেখানে বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের কর্মকর্তারা পূর্বের হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ত’ তকমা তুলে ধরে দেশবাসীর কাছ থেকে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছিল , আজ তাদের ক্ষমতায় বসার পর গত ১৪ মাসে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা যে কোথায় নেমে গিয়েছে সংখ্যার তথ্য তুলে ধরে সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সমাজমাধ্যমে তুলে ধরা সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে-  “একজন সুদখোরের ১৫ মাস, নর্দমা, নদী আর রাস্তায় লাশ- সারা দেশে ১৪ মাসে ৪,১৭৭টি খুন” । এরপর তারদের প্রশ্ন- “আইন কি শুধু আওয়ামী লীগের জন্য?” তাদের তোলা এই প্রশ্নে তোলপাড় গোটা বাংলাদেশ।

১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনার নিরুদ্ধে ফাঁসির সাজা ঘোষণার পর থেকে যেভাবে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সাধারণ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছে। সমাজমাধ্যমে একের পর এক পোশট করে চলেছে তাতে একটা ছবি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে বাংলাদেশে না থেকেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আজও সেদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে রয়ে গিয়েছেন। তা না হলে সেদেশের রিকশওয়ালা প্রকাশ্যে হাসিনার পক্ষ নিয়ে বলতে পারেন যে হাসিনার আমলে আমরা অনেক ভাল ছিলাম। সেদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে মোটেই ভালো নেই তা কিন্তু একটি পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-র তথ্যকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে- “  ‘সুদখোর’ ইউনূসের শাসনামলে পনেরো মাস কেটে গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অবৈধ সরকারের ১৪ মাসে কেবল ঢাকায় ৪৫৬টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এই অক্টোবর পর্যন্ত, ডিএমপি প্রতি মাসে গড়ে ৩৩টি খুনের মামলা নথিভুক্ত করেছে। দেশব্যাপী ৪,১৭৭টি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং এটি কেবল মামলার সংখ্যা। আরও অনেক হত্যাকাণ্ড রয়েছে যা কখনও মামলায় পরিণত হয়নি। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি বলছে যে এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে ২১৬ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে যে ৫ আগস্ট থেকে লুট হওয়া ২৫ শতাংশ অস্ত্র, যার মধ্যে মারাত্মক অস্ত্রও রয়েছে, এখনও নিখোঁজ থাকার কারণে অপরাধ বেড়েছে। ক্ষমতায় আসার পর, ইউনূস শীর্ষ অপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছেন এবং পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।“

তাদের আরও অভিযোগ- “এটি বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি অংশ মাত্র। ইউনূসের আমলে নদীতে মাছের চেয়ে বেশি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অক্টোবর মাসের নদী পুলিশের তথ্য অনুসারে, খুলনায় এক বছরে ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে সাংবাদিকও আছে। ডয়চে ভেলে বাংলা জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে নদীতে প্রতি মাসে গড়ে ৪৩টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে।“

এরপর আওয়ামী লীগ প্রশ্ন তুলেছে- “এত খুন, এত মৃতদেহ। পুলিশ কতজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে—অথবা শনাক্তও করেছে? এই হার ২০ শতাংশেরও কম। তবুও পুলিশ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ভিন্নমতের জন্য লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং কর্মীকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। মিথ্যা মামলা একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, এবং ইউনূসের সমর্থকরা তাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করছে, পুড়িয়ে দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে এবং লুটপাট করছে। আইনটি কেবল আওয়ামী লীগ কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য বলে মনে হচ্ছে।“

আজ বহু মানুষ প্রাণ রক্ষার তাগিদে বাংলাদেশ ছেড়ে গোপনে ভিন দেশে আশ্রয়ের খোঁজে পালাচ্ছেন। যাসের সামর্থ্য আছে তারা দেশ ছাড়ছেন আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই পড়ে আছেন। প্রতি নিয়ত তাদের উপর নেমে আসছে নির্মম অত্যাচার। অনেকেই আজ পরিবার-পরিজন- ব্যবসাপত্র ছেড়ে বিদেশে পড়ে আছেন। এরা সকলেই কি অপরাধী, নাকি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করলেই সে হয়ে যাবে অপরাধী? এটিয়া কি ইউনুস সরকারের নীতি? এই প্রশ্ন আজ উঠতে শুরু করেছে।

“জুলাইয়ের জঙ্গি হামলার আগে, তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং তাদের নাগরিক সমাজের পৃষ্ঠপোষকরা বড় স্বপ্ন বিক্রি করেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন যে পরিবর্তন আসছে, বিবিএ স্নাতকরা দেশ পরিচালনা করবেন। তারা দলবদ্ধভাবে গান গেয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তারাই উত্তম বিকল্প, তারাই জাতির সাহসী সন্তান। সেই “সাহসী পুত্ররা” – তাদের নির্বাচিত শাসক, ইউনূস এবং আসিফ নজরুল – এখন মানুষ হত্যা করছে এবং নদী ও ড্রেনে লাশ ফেলে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ দিনরাত কাঁদছে, যখন “বিবিএ বিকল্প” জনতা বিলাসবহুল গাড়ি, নতুন অ্যাপার্টমেন্ট এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা রেখে আরাম করছে। আর সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বদের উপদেষ্টা পদ, সরকারি ভূমিকা এবং অর্থ দিয়ে চুপ করে রাখা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যথায় গত ১৫ বছরে আমরা তাদের কাছ থেকে এই ধরণের নীরবতা দেখিনি।“–বলছে আওয়ামী লীগ।

Published on: নভে ২০, ২০২৫ at ২০:২৩


শেয়ার করুন