ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা: নয়া দিল্লিতে পা রাখলেন পুতিন, প্রোটোকল ভেঙে স্বাগত জানালেন মোদি !

Main দেশ বিদেশ ভ্রমণ
শেয়ার করুন

— চার বছর পর বিশেষ সামরিক অংশীদারিত্বের সম্পর্ক জোরদারে পুতিনের দু’দিনের ভারত সফর শুরু —

Published on: ডিসে ৪, ২০২৫ at ২০:৫৪

এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ০৪ ডিসেম্বর: দীর্ঘ চার বছর পর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতে পা রাখলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রুশ নেতার এই সফর শুধু ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের জন্যই নয়, বিশ্ব ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রোটোকল ভাঙা উষ্ণ অভ্যর্থনা

রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে এদিন সাধারণ প্রোটোকল ভেঙে নয়া দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাধারণত, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা জানান বিদেশমন্ত্রী বা বিদেশ প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু মোদীর এই বিরল উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যেকার ‘বিশেষ এবং সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ এবং দুই নেতার ব্যক্তিগত দৃঢ় সম্পর্ককেই তুলে ধরেছে।

বিমান থেকে নামার পর পুতিনকে লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই নেতা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। এরপর তারা একসঙ্গে একই গাড়িতে সওয়ার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে রওনা হন। এই দৃশ্যগুলি কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রথম দিনের প্রধান কর্মসূচী: নিবিড় নৈশভোজ কূটনীতি

সফরের প্রথম দিন পুতিনের মূল কর্মসূচী ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত নৈশভোজ।

  • গভীর আলোচনা ও বোঝাপড়া: নৈশভোজের ফাঁকে দুই নেতা নিজেদের মধ্যে একান্তে আলোচনা করেন। এই ব্যক্তিগত বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যা শুক্রবারের মূল শীর্ষ বৈঠকের জন্য ভিত্তি তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত এজেন্ডা নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
  • ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা: ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব ও আঞ্চলিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি এবং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে জোর দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে আশা করা যায়।
 লক্ষ্য: কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন গতি

প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হল:

  1. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি: ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা, এবং জ্বালানি, প্রযুক্তি, পরিবহন ও ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানো।
  2. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন সামরিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা।
  3. নতুন উদ্যোগ: রুশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকের নতুন ভারত-কেন্দ্রিক চ্যানেল ‘নতুন ভারত-এর উদ্বোধন কর্মসূচীতে পুতিনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ

দু’দিনের এই সফরের মূল কর্মসূচীগুলি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার:

  • সকালে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
  • রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা।
  • হায়দরাবাদ হাউসে ২৩তম ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন।
  • ভারত-রাশিয়া বিজনেস ফোরামে অংশগ্রহণ।
  • রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান।

সব মিলিয়ে, পুতিনের ভারত সফরের প্রথম দিনটি উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং দুই বিশ্বনেতার মধ্যে নিবিড় কূটনীতির মাধ্যমে সুসম্পর্কের বার্তা দিয়ে শুরু হয়েছে। আগামীকালের শীর্ষ বৈঠকের দিকেই এখন সবার নজর।

Published on: ডিসে ৪, ২০২৫ at ২০:৫৪


শেয়ার করুন