‘দুয়ারে পর্যটন’ নিয়ে পূর্ব বর্ধমানে আয়োজিত হতে চলেছে বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ডিসে ৩, ২০২৫ at ২৩:৪২

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৩ ডিসেম্বর : বাঙালি ঘুরতে ভালোবাসে। ্তা সে নিজের ঘরের কাছে হক কিংবা দেশ-বিদেশ। ভ্রমণপ্রেমি বাঙালি পর্যটনকে আঁকড়ে এগিয়ে চলতে পছন্দ করে। আর তাদের সেই পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল বা এটিএসপিবি এবার এক নতুন ভাবনাকে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছে। ‘দুয়ারে পর্যটন’ নিয়ে তারা এবার পূর্ব বর্ধমানে আগামী ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট আয়োজন করতে চলেছে। গত দশ বছর ধরে তারা রাজ্যের সবচেয়ে বড় পর্যটন মেলা বিটিএফ কলকাতায় করে আসছে। এবার কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেও পর্যটনের ভাবনাকে ছড়িয়ে দিতে তাদের এই নয়া উদ্যোগ।

এটিএসপিবি-র বর্ষীয়ান সদস্য অভিভাবক প্রধান উপদেষ্টা সমর ঘোষ সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে জানিয়েছেন, তারা পর্যটন মেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত থাকেন। কিভাবে এই পর্যটন মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভ্রমণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় তারা সেই চেষতাই করছেন। সেই মতো পূর্ব বর্ধমানে তাদের এই বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট-এর আয়োজন। আগামিদিনে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই পর্যটন মেলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভাবনাও তাদের মাথায় আছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াসও তারা নিয়েছে। যাতে মানুষ নিজের জেলায় বসেই ভ্রমণের নানা প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে পারবে। আর তা বেছে নিয়ে নিজের পছনের গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবে।

কলকাতার বাইরে এই পূর্ব বর্ধমানে টাউনহল মাঠে এই পর্যটন মেলা আয়োজিত হতে চলেছে। আগামী ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট। বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এই পর্যটন মেলা ঘুরে দেখতে পারবেন। মেলায় দেশ-বিদেশের পর্যটনের সম্ভার নিয়ে স্টল থাকছে। থাকছে ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের ব্যবসায়ীরা। এখানে কলকাতা, উত্তরবঙ্গ, আসাম, আন্দামান সহ ভিন রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাদের আকর্ষণীয় ভ্রমণ প্যাকেজ নিয়ে হাজির থাকছেন।

আয়োজক সংগঠনের সহকারী সম্পাদক ভোলানাথ ঝা এবং দেবব্রত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন-“এক জায়গায় পর্যটকরা দেশ-বিদেশে ভেরানো সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এবং নিজেদের পছন্দ মতো বাজেট ট্যুর খুঁজে পাবেন।“

পাশাপাশি, বর্ধমানের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। আয়োজকদের দাবি, বর্ধমান রাজবাড়ি, ১০৮ শিব মন্দির, কার্জঙ্গেট, সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দির, মেঘ্নাদ সাহা প্ল্যানেটোরিয়াম, রমনার বাগান, কমলাকান্ত কালীবাড়ি, কঙলেশ্বরী কালীবাড়ি, শের আফগানের সমাধি- এ সব মিলিয়ে বর্ধমানকে ঘিরে দু’রার তিনদিন কিংবা তিন রাত চারদিনের প্যাকেজ তৈরি হলে জেলা, রাজ্য ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তের ভ্রমণপ্রেমীরাও লাভবান হবেন। এমন  প্রস্তাবও মেলায় তোলা হবে। এর পাশাপাশি, জেলা নিয়ে তথ্যচিত্র আলোচনাসভায় থাকছে মেলায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গনে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সদস্য নিলয় নস্কর ও সৌমাল্য রায় বলেন, “বর্ধমান পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিকেশন হাব। এখানকার ব্যবসায়ীরা একত্রিত হলে বর্ধমানকে পরিচিত পর্যটন হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এই মেলার লক্ষ্য- বর্ধমানবাসীকে পর্যটন শিল্পের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। একই সাথে জেলার জন্য আলাদা ট্যুরিজম সার্কিট তৈরি কথাও ভাবা হচ্ছে।“

Published on: ডিসে ৩, ২০২৫ at ২৩:৪২


শেয়ার করুন