
দ্য উইক-এ প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ব-এক্সক্লুসিভ নিবন্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন

Published on: নভে ১৪, ২০২৫ at ১৭:৩১
এসপিটি নিউজ ডেস্ক : ভারতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য উইক-এ সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশ্ব-এক্সক্লুসিভ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের গভীর ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরেছেন।
মূল প্রবন্ধের নির্যাস: গণতন্ত্র বিপন্ন, দেশ শাসনে জবাবদিহিহীন এলিট
নিবন্ধটিতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর মূল বক্তব্যগুলি নিম্নরূপ:
- গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের অভাব: তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, “নির্বাচিত ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনে বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র থাকতে পারে না।” বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, এবং তাঁর শাসনে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নষ্ট হচ্ছে।
- জবাবদিহিহীন এলিটদের শাসন: শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশকে এখন এক জবাবদিহিহীন এলিট গোষ্ঠী শাসন করছে, যারা নিজেদের মধ্যে দেশকে ভাগ করে নিচ্ছে।” তিনি মনে করেন এই এলিটরা গণতন্ত্রের কথা মুখে বললেও দেশের প্রকৃত পরিস্থিতিতে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
- আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা: নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে, যা লক্ষ লক্ষ নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি: তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে “মুক্ত, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য হাহাকার চলছে।”
- সংবিধানের প্রতি হুমকি: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘অসাংবিধানিক সনদ’ (চার্টার) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা তিনি মনে করেন ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনকে বৈধতা দিতে তৈরি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার মাত্র।
- অর্থনৈতিক সাফল্য ও গর্ব: তিনি তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন, যেখানে দেশ দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি হয়ে উঠেছিল এবং মহামারীর আগে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছিল।
- ভবিষ্যতের প্রতি আশা: এত কিছুর পরেও তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তার “গণতান্ত্রিক অখণ্ডতা, সাংবিধানিক স্বাধীনতা এবং মৌলিক মানবাধিকারের জন্য লড়াই করে” একদিন আবার সত্যিকারের গণতন্ত্রে ফিরবে।
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শেখ হাসিনা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন:
- মিডিয়া দমন ও রাজনৈতিক হয়রানি: তিনি অভিযোগ করেন যে মিডিয়াকে নীরব করে দেওয়া হচ্ছে, তাঁর রাজনৈতিক মিত্রদের জেলে ভরা হচ্ছে এবং সংখ্যালঘু ও বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখানো হচ্ছে।
- চরমপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা: তিনি ড. ইউনূসের প্রশাসনকে “চরমপন্থীদের” মন্ত্রিসভার পদে স্থান দেওয়া, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা সহজ করা এবং পরিচিত অপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ করেন।
- ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি: তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের ‘ভারত-বিদ্বেষী’ নীতি দুই দেশের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর দেশে ফেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো “অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র” পুনরুদ্ধার করা। তিনি চান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন অবিলম্বে আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক এবং “মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক” নির্বাচনের ব্যবস্থা করুক।
এই নিবন্ধটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে।
Published on: নভে ১৪, ২০২৫ at ১৭:৩১



