বাবা লোকনাথের জন্মস্থান চাকলাধামে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফুল-মিষ্টি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ্য

Main দেশ ধর্ম ভ্রমণ
শেয়ার করুন

হাজার হাজার ভক্তের মঙ্গল প্রদীপের প্রজ্জ্বলনে চাকলা ধাম হয়ে ওঠে যেন এক ‘স্বর্গীয় আলোকপুরী’
রাজ্যের মানুষের মঙ্গল কামনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাবা লোকনাথের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে
Published on: নভে ১৬, ২০২৫ at ২৩:২৩
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, চাকলা (উত্তর ২৪ পরগনা), ১৬ নভেম্বর:  ঢাকার বারদীতে বাবা লোকনাথের ভক্তরা এই মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন শুরু করেছিলেন। সেই থেকে এই প্রথা হয়ে আসছে বছরের পর বছর। তারই অঙ্গ হিসাবে বাবা লোকনাথের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চাকলাধামে প্রতি বছর কার্তিক মাসের শনি অথবা মঙ্গলবার এই রীতি উদযাপন হয়ে থাকে। এ বছর ১৫ নভেম্বর চাকলা ধামে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে মহাসমারোহে। হাজার হাজার ভক্তের মঙ্গল প্রদীপের প্রজ্জ্বলনে চাকলা ধাম হয়ে ওঠে যেন এক ‘স্বর্গীয় আলোকপুরী’। এই অনুষ্ঠানের প্রাক মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার সদস্য সুজিত বসুর মাধ্যমে বাবা লোকনাথের চরণে ফুল-মিষ্টি দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর  নামে পুজো দেওয়া হয়।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকলা ধামে বাবা লোকনাথের চরণে ফুল-মিষ্টি দিতে আসেন রাজ্যের দকল বভাগের মন্ত্রী সুজিত বসু। মন্দিরের পুরোহিত মুখ্যমন্ত্রীর নামে পুজো দেন। রাজ্যের মানুষের মঙ্গল কামনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাবা লোকনাথের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

সুজিত বসু নিজের বক্তব্যে জানান– ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার হাত দিয়ে বাবা লোকনাথের প্রতি ফুল-মিষ্টি পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি এভাবেই লোকনাথ বাবার চরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন।‘ ‘মুখ্যমন্ত্রী এখানকার বহু উন্নয়নের কাজ তিনি সম্পন্ন করেছেন। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক। বাংলায় যেভাবে উন্নয়ন করছেন সেটা সাধারণ মানুষ জানে সেই জন্য তারা তাকে পছন্দ করে।‘ যোগ করেন সুজিত বসু।

অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল উপস্থিতি : এদিনের মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা বিবি, নারায়ণ সাহা, আনিসুর রহমান, জয়া দত্ত সহ অন্যান্যরা। সকলেই এক বাক্যে বাবার জন্মস্থান চাকলাধামের উন্নয়নের পিছনে মুখ্যমন্ত্রীর অবসানের কথা উল্লেখ করেন।

কলকাতায় হবে লোকনাথ ভক্তদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন : এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক চাকলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রত্যেক সদস্যের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন-  “এখানে উপস্থিত চাকলা লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘের সভাপতি নবকুমার দাস সহ অন্যান্য কর্মকর্তারদের বলব যে এখানে যে অসমাপ্ত কাজ রয়েছে তা আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বাবার আশীর্ব্বাদ থাকলে সব কাজ সুসম্পন্ন হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই আমি এখানে এসেছি। তিনি আমাকে বলেছেন আমি যেন বাবা লোকনাথের চরণের ফুল পাই। তুমি  আমার কাছে সেই ফুল পৌঁছে দেব।  সারা বিশ্বজুড়ে লোকনাথ বাবার যত আশ্রম আছে তাদের সবাইকে নিয়ে কলকাতায় একটা সম্মেলন করব। আগামী বছর এটি আমরা আয়োজন করব বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।“

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা: এদিনের অনুষ্ঠানে চাকলা লোকনাথ ধামের ট্রাস্টি বোর্ডে সভাপতি নব কুমার দাস সহ মোট ন’জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- সুব্রত হাজরা, স্বপন সেন অশোক বিশ্বাস রিনা দত্ত দীপক সেন সুমিত কুমার রায় সুদামা সিং মধুসূদন রায়।

সভাপতি নবকুমার দাস বলেন- “চাকলাধামের ৫১ বছর। সারা বিশ্ব জানে লোকনাথ বাবার জন্মস্থান চাকলাধাম। সেখানে আজ সংসার ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য এই মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। ঢাকার বারদীতে বাবা লোকনাথ এই মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন শুরু করেছিলেন ভক্তদের মঙ্গলের জন্য। সেই থেকে সারা বিশ্বজুড়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বাবার জন্মস্থান চাকলাধামেও তেমনই প্রতিবারের মতো এবছরও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার ভক্ত সেখানে সমবেত হয়েছিলেন।“

শঙ্খ বাজিয়ে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের শুভ সূচনা : কলকাতায় মহানির্বাণ মঠের শঙ্কর মহারাজ শঙ্খ বাজিয়ে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের শুভ সূচনা করেন। একই সঙ্গে চাকলা মন্দিরের দুই পুরোহিতের কণ্ঠে পবিত্র বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের সাথে চলতে থাকে মঙ্গল প্রদীপের আরতি। বাবা লোকনাথের কাছে সকলে প্রার্থণা জানান- বাবা, তুমি সকলের মঙ্গল করো। স্কলের জীবন শান্তিময় হয়ে উঠুক। কার্তিক মাসের হিমেল সন্ধ্যায় চাকলা ধামে বাবা লোকনাথের মন্দির প্রাঙ্গনে এক ঐশ্বরিক অনুভূতি প্রকাশ পায়। হাজার হাজার বক্তের হাতে ধরে থাকা মঙ্গল প্রদীপের জ্যোতি আর স্কলের এক যোগে প্রার্থণা গোটা এলাকা পজিটিভ এনার্জিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। চাকলা ধাম হয়ে ওঠে এক “স্বর্গীয় আলোকপুরী”।

সব শেষে বাবা লোকনাথের নামে জয়োধ্বনি দিয়ে সমাপ্ত হয় এই পবিত্র অনুষ্ঠান।

Published on: নভে ১৬, ২০২৫ at ২৩:২৩


শেয়ার করুন