
Published on: জানু ১৬, ২০২৬ at ২২:৩৮
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে ১৭তম ট্রাইবাল ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। মেরা যুব ভারত, পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এবং মেরা যুব ভারত, কলকাতার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রোগ্রামে সহযোগিতা করছে ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অংশগ্রহণকারীদের থাকা–খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য দেশের প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া আদিবাসী এলাকার তরুণদের সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করা। সেই উদ্দেশ্যেই কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, এক্সকারশন ট্যুর এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. তীর্থ কুমার দত্ত, বেলুড় মঠের স্বামী ভূপালানন্দ, ডিরেক্টর (রিসার্চ ফার্ম) অধ্যাপক শুভাশীষ বটকব্যাল, ডেপুটি ডিরেক্টর ড. কেশব চন্দ্র ধারা, রেজিস্ট্রার ড. পার্থ দাস, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি (আইএফডি) বিশ্বজিৎ সরকার, আন্ডার সেক্রেটারি রাজ কুমার, সীমান্ত বোরোসাইকিয়া কনসালটেন্ট (আইএফডি), মেরা যুব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামানের ডিস্ট্রিক্ট ইউথ অফিসার প্রিয়াঙ্কা ঘোষ এবং ইন্দ্রজিৎ কুমার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি রাজ কুমার জানান, প্রতি বছর এই ধরনের ২৫টি প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ২০০ জন আদিবাসী তরুণ অংশ নেয়। তবে চলতি বছরে প্রোগ্রামের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩১টি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে মোট ৬,২০০ জন তরুণ অংশগ্রহণ করেছে। অক্টোবর–নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে এই কর্মসূচি ফেব্রুয়ারি–মার্চ পর্যন্ত চলে।
প্রোগ্রামের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের বহু উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছায়নি। এখন সেখানে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু তার প্রভাব মানুষের মনে পড়তে হবে। এই তরুণরা যখন শহরে এসে উন্নয়ন, প্রযুক্তি, উন্নত রাস্তাঘাট ও সামাজিক পরিকাঠামো দেখে, তখন তাদের মনে নতুন স্বপ্ন জাগে। কেউ জীবনে প্রথমবার ট্রেনে উঠছে, কেউ প্রথমবার বাসে চড়ছে। এই অভিজ্ঞতাই তাদের ভাবনায় পরিবর্তন আনে।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে এই প্রকল্পে অন্তত পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেছে। “যদি আমরা এই পিছিয়ে থাকা এলাকার তরুণদের এগিয়ে নিতে পারি, তবেই উন্নত ভারত গড়া সম্ভব,” বলেন রাজ কুমার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ সরকার জানান, এই প্রোগ্রাম দেশের প্রতিটি রাজ্যেই আয়োজন করা হচ্ছে। “আমরা এমন তরুণদেরও পেয়েছি যারা কোনওদিন ট্রেন দেখেনি। ছত্তিশগড়ের দণ্ডকারণ্য অঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তর–পূর্ব ভারত— নানা জায়গা থেকে তরুণরা এসে দেশের উন্নয়ন নিজের চোখে দেখছে। আমাদের লক্ষ্য তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা।”
সীমান্ত বোরোসাইকিয়া কনসালটেন্ট (আইএফডি) জানান, ‘ভারত দর্শন’ সহ একাধিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এলাকার তরুণদের ভারতের উন্নয়ন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো হচ্ছে।
মেরা যুব ভারতের স্টেট ডিরেক্টর অশোক সাহা বলেন, “এটা শুধু ট্রাইবাল এক্সচেঞ্জ নয়, ইন্টার স্টেট ও ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামও রয়েছে। যেমন নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশের তরুণরা পশ্চিমবঙ্গে আসছে, আবার এখানকার তরুণরাও অন্য রাজ্যে যাচ্ছে।”
নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন, “১৯৯৭ সালে কান্দামাল জেলায় পোস্টিংয়ের সময় সেখানে মাত্র একটি পেট্রোল পাম্প ছিল, নিকটতম রেলস্টেশন ছিল ২০০ কিলোমিটার দূরে। আজ সেখানে একাধিক পেট্রোল পাম্প, কলেজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এই পরিবর্তনের ছবিটাই প্রত্যন্ত এলাকার তরুণদের দেখানো দরকার, আর সরকার সেটাই করছে।”
প্রোগ্রাম শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক তরুণের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেওয়া হবে এবং তা সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সেই ফিডব্যাকের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
গ্রাম, জঙ্গল আর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে শহরের আলোয় দেশের উন্নয়নের ছবি দেখা— এই ট্রাইবাল ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আজ বহু তরুণের চোখে দেখাচ্ছে উন্নত ভারতের নতুন স্বপ্ন।


Published on: জানু ১৬, ২০২৬ at ২২:৩৮



