বেলডাঙায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: তীব্র নিন্দা মমতা–রাজ্যপালের, সরব প্রেস ক্লাব

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জানু ১৬, ২০২৬ at ২৩:৪৮

এসপিটি নিউজ: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে একাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন; অন্তত ১২ জন সংবাদকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্র সাংবাদিক উল্লেখযোগ্যভাবে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি গভীর উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে সমর্থন করি না” — পাশাপাশি তিনি শান্তি বজায় রাখতে এবং প্ররোচনায় পা না দিতে সবাইকে আবেদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি রাজনৈতিক দিক থেকে উস্কানি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, “এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

রাজ্যের গভর্নর সি.ভি. আনন্দ বোস বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর সম্প্রত্যক্ষ আঘাত, এবং এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনায় “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে “সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন হামলা সর্বোচ্চ মাত্রায় নিন্দার যোগ্য।

এ ঘটনার পর কলকাতা প্রেস ক্লাবও একটি গভীর উদ্বেগসূচক বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে— সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ এবং এটি একটি অপরাধ। সংগঠনটি মুর্শিদাবাদ পুলিশ প্রশাসনের কাছে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং সংবাদকর্মীদের জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা উপশমের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

এই ঘটনা শুধু মুর্শিদাবাদের স্থানীয় ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তরভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদপত্রের ভূমিকার গুরুত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান তুলেছে।

উল্লেখ্য, বেলডাঙার পরিস্থিতি সেই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর জনস্বক্ষোভ থেকে শুরু হলেও একটি হার্ড-হিটিং বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধে রূপ নিয়েছিল। প্রেক্ষাপটটি সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সহমতের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

Published on: জানু ১৬, ২০২৬ at ২৩:৪৮

 


শেয়ার করুন