‘কানেক্ট বেঙ্গল’- বাংলার পর্যটন শিল্পের সাথে বিশ্বকে যুক্ত করার সফল উদ্যোগ TAAB-এর

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুলা ৯, ২০২৫ at ২৩:২৮
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৯ জুলাই : বাংলার পর্যটন নিয়ে সকলের আগ্রহ । দেশের ভিতর এবং বাইরে পর্যটন শিল্প ক্ষেত্রের সকলেই চায় বাংলার সাথে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে। আর সেই সুযোগ করে দিয়েছে বাংলার সবচেয়ে বড় ট্রাভেল এজেন্টদের অ্যাসোসিয়েশন টিএএবি বা ট্যাব ।  ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল। গত তিন বছরে সেই ধারাকে সুষ্ঠূভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে ‘ট্যাব’। আজ কলকাতায় অসাধারণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চতুর্থ বছরেই ‘কানেক্ট বেঙ্গল -৪ ‘ নামে এক সফল প্রয়াস নিল তারা। সেখানে বাংলার পর্যটন শিল্পের সাথে বিশ্বকে কিভাবে যুক্ত করতে হয় তা সুনিপুণভাবে দেখিয়ে দিল তারা।

এদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড় ট্যুরিজম বোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক আচার্য। ছিলেন ভারতীয় পর্যটন মন্ত্রকের পূর্ব ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস।  ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট এর ডিরেক্টর প্রফেসার ড. সত্যজিৎ চক্রবর্তী । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত মাজি এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি উত্তম দাস।

এদিনের অনুষ্ঠানে পর্যটন পাঁচশোরও বেশি এক্সিবিটর অংশ নিয়েছিল। যাদের মধ্যে ছিল- ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, হোটেলিয়ার্স, হোম-স্টে মালিক, ট্যুর অপারেটর্স, ক্রুজ কোম্পানি। এছাড়াও ছিল নেপাল, মিশর, ইউরোপের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে ব্যাবসায়ীরা।

কানেক্ট বেঙ্গ পর্যটন ক্ষেত্রের একটা মিলন মেলা- জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

ভারতীয় পর্যটন মন্ত্রকের পূর্ব ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন- “ট্যাব যে কানেক্ট বেঙ্গল –এর আয়োজন করেছে তাতে এখানে এসে দেখতে পাচ্ছি সমস্ত জায়গা থেকে পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকেই এখানে এসেছেন। একজন পর্যটন ব্যবসায়ী আর একজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলছেন। কিভাবে সে যুক্ত হতে পারে। সামনে যে দুর্গা পুজো সেই উপলক্ষে বাঙালিরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাবেন সেই যে তাদের একটা প্ল্যাটফর্ম করে দেওয়া সেই সাথে বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটন বোর্ডকে শোকেস করার জন্য এখানে এসেছে। এটা অত্যন্ত একটা ভাল মিলন মেলা। এখানে দেখা গিয়েছে প্রতি স্টলেই ভিড় বেশ চোখে পরার মতো। এটা বেশ ভাল বোঝা যাচ্ছে যে চার বছরের মধ্যে যথেষ্ট এদের ইভেন্টের অগ্রগতি হয়েছে। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক যা যা করার আমরা তা সমসটাই করব। আমরা চাই সব কটি রাজ্যই তাদের পর্যটন ক্ষেত্রগুলিকে বেশি করে প্রমোট করুক তাতে তাদের শ্রীবৃদ্ধি হোক। “

আমরা খুশি যে ট্যাব এখানে এমন সুন্দর একটা ইভেন্ট আয়োজন করেছে-বিবেক আচার্য

ছত্তিশগড় ট্যুরিজম বোর্ড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক আচার্য বলেন- “কানেক্ট বেঙ্গল ৪ যা এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা খুবই ভাল । বেশিরভাগই এখানে বাংলার ট্যুর অপারেটর আছে। যারা ট্যাব-এর সদস্য। এর পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য থেকেও অনেকে এখানে এসেছেন। ছত্তিশগড় এখানে পার্টনার স্টেট। আমাদেরও বেশ কয়েকজন ট্যুর অপারেটর এখানে এসেছেন। আমাদের রাজ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে এই বাংলা থেকেই। এরপর মহারাষ্ট্র, ওড়িশা থেকেও আসে। তাই আমাদের কাছে কলকাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুশি যে ট্যাব এখানে এমন সুন্দর একটা ইভেন্ট আয়োজন করেছে। ২০২৪ সালে আমাদের রাজ্যে পর্যটকের আগম হয়েছিল ২ কোটি। যা ২০২৫ সালে ইতিমধ্যে আরাই কোটি হয়ে গিয়েছে।“

ট্যাবের কানেক্ট বেঙ্গল আজ বড় আকার নিয়েছে- ড. কৌলেশ কুমার

অ্যাসোসিয়েশন অব বুদ্ধিস্ট ট্যুর অপারেটর্স (এবিটিও) র সেক্রেটারি জেনারেল ড. কৌলেশ কুমার বলেন_” আমি কেনেক্ট বেঙ্গল ১ থেকে এখানে আসছি। প্রথমে যখন শুরু হয়েছিল তখন ছিল ছোট। আজ তা বড় আকার নিয়েছে। এটা আজ ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে একটা মিনি কলকাতা হয়ে গিয়েছে। এখানে এমন নয় যে এ আসবে এ আসবে না। এখানে পর্যটনের ক্ষেত্রের সকলেই আসতে পারে। পর্যটনের ক্ষেত্রে এমনটাই হওয়া উচিত। যত বেশি সুবিধা দেবে তত বেশি প্রমোশয়ান হবে পর্যটনের। ট্রাভেলে এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (ট্যাব) যে কানেক্ট বেঙ্গল আয়োজন করেছে তা কানেক্ট ওয়ার্ল্ড হওয়া উচিত। কারণ, বাংলা তো আছেই। বিশ্বকে বাংলার সাথে যুক্ত করাই তো মূল লক্ষ্য। আমার মতে এখানে সকলেরই অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সময় কম হওয়ার কারণে আমাদের কম সদস্য এখানে এসেছে। বাংলা হল মূল কেন্দ্র। যারা বলে বাংলায় বুদ্ধিজম নেই তাদের যাদুঘর দেখিয়ে দিন। যত পুরনো যাদুঘর আছে সব দেখিয়ে দিন। দার্জিলিং-এ লিভিং বুদ্ধিজিম আছে। কালিম্পং দেখুন-কোথায় নেই বুদ্ধিজিম। এখানে বুদ্ধিজমের কেন্দ্র। য়ার তা সবাইকে বলতে হবে। জানাতে হবে। যে যত বলবে তত এর প্রমোশান হবে। এখানে দেখুন ২৫টিরও বেশি অ্যাসোসিয়েশন আজ এখানে এসেছে। ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। “

দেশের নানা প্রান্তের পর্যটন ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ট্যাব- প্রকাশ চন্দ্র

ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বিহার-এর প্রেসিডেন্ট প্রকাশ চন্দ্র বলেন- “আমরা বিহার থেকে কলকাতায় এসেছি। কলকাতায় ট্রাভেলে এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল যে ইভেন্ট আয়োজন করেছে তা এক কথায় অনবদ্য। কানেক্ট বেঙ্গল ৪ অতি সুন্দর। এখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকেই পর্যটন ক্ষেত্রের বহ মানুষ এসেছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক অসাধারণ সুযোগ করে দিয়েছে ট্যাব। আমি এজন্য ট্যাব-এর গোটা টিমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। “

কানেক্ট বেঙ্গল খুবই সফল- মদন আগরওয়াল

ট্রাভেল অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (তোয়া) র প্রেসিডেন্ট মদন আগরওয়াল বলেন- “কানেক্ট বেঙ্গল হল ট্যুরিজম ফেয়ারা-এর ছোট সংস্করণ।  ট্যুরিজম ফেয়ার তিন থেকে চারদিনের হয়। কিন্তু এটা একদিনের । তবু এটা খুবই কার্যকরী। এটা পর্যটক ব্যবসায়ীদের মধ্যেই হয়। আমি বলব –এটা খুবই সফল। ৪৫ থেকে ৫০টি স্টল অংশ নিয়েছে। বিটুবি কাজ যারা করতে চায় তারাই এখানে আসবে। সময় কম। তারা কাজ করতে পারবে। অল্প সময়ে অনেক কিছু হয় এই ইভেন্টে। সেক্ষেত্রে এটা খুবই সফল। “

তোয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন- “ট্যুরিজমকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে যে তার নাম ট্যাব- ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল। এখানে বিটুবি যে কাজ হচ্ছে খুব ভাল কাজ হচ্ছে। আমরাও চিন্তাভাবনা করছি যে ট্যুরিজমকে কিভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তার পথ দেখাচ্ছে ট্যাব। “

ট্যাব এভাবেই এগিয়ে চলুক- কৌশিক ব্যানার্জি

এন্টারপ্রাইজিং ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর ইস্টার্ন রিজিওনের চেয়ারম্যান কৌশিক ব্যানার্জি বলেন- “ট্যাব যে এই ইভেন্ট করছে মানে কানেক্ট বেঙ্গল-৪ খুবই ভাল। এখানে ৬০টিরও বেশি স্টল আছে। খুবই ভাল। শুধু বাংলাই নয় ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই এক্সিবিটররা এখানে এসেছেন। বিদেশের লোকজনরাও আছেন। এখানে ব্যবসা তো হচ্ছেই তার সাথে নিজেদের মধ্যে যে দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে এটা খুবই ভাল। আমার মনে হয় সম্পর্ক ভাল হলে ব্যবসা হবেই। এই উদ্যোগকে আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা চাই ট্যাব এভাবেই এগিয়ে চলুক। আরও বাড়িয়ে তুলিক। যাতে উভয় পক্ষই যাতে উপকৃত হয়।“

‘দেখো আপনা দেশ’ এর স্লোগান-এর সাথে ‘কানেক্ট বেঙ্গল’ একেবারে উপযুক্ত- মোহন বিনোদ

আন্দামান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্স-এর প্রেসিডেন্ট মোহন বিনোদ বলেন- “ আমার সঙ্গে ২৫ জনের এক প্রতিনিধি দল আন্দামান থেকে এসেছে। কানেক্ট বেঙ্গল ৪ এ যোগ দেওয়ার জন্য। আমি প্রথমেই ট্যাব-এর সভাপতি থেকে শুরু করে গোটা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাবো। এত সুন্দর এক ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য। এটা গোটা ভারতের স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত করে। আমি মানছি এই প্ল্যাটফর্ম ‘দেখো আপনা দেশ’ এর যে স্লোগান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন এই প্ল্যাটফর্ম তার জন্য একেবারে উপযুক্ত মনে হয়েছে। এই যে বিটুবি সেশন সকলের জন্য খুবই কার্জকরী হবে। “

আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কাশ্মিরের পর্যটনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে- ওমর শেখ

কাশ্মীর থেকে এসেছেন ট্রাভেল ব্যবসায়ী ওমর শেখ। তিনি বলেন- “এখানে এসে খুবই ভাল লাগছে। এখানে অনেক বেশি নেটওয়ার্কিং কানেকশান মিলেছে। গোটা বাংলা থেকেই ট্রাভেল এজেন্টরা এসেছে। তারা সকলেই কাশ্মীর সম্পর্কে জানতে চাইছে। আমরাও তাদের বিষয়ে জানতে চাইছি। এখানে বিভিন্ন ধরনের এজেন্ট এসেছে। আমাদের কাশ্মীরকে বাঙালি পর্যটকরা অনেক বেশি পছন্দ করে। আমাদের যখন পরিস্থিতি খারাপ থাকে তখন এই বাংলা থেকেই আমাদের ওখানে প্রচুর পর্যটক আসে। পহেলগাওয়ে এখন পর্যটক আসতে শুরু করেছে। এখান সেখানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমরা আশা করছি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তা পর্যটকদের ভ্রমণের অনুকূল হবে। “

ভ্রমণ ব্যবসায়ীদের আকাঙ্খা বাড়িয়ে দিয়েছে কানেক্ট বেঙ্গল- প্রশান্ত মাজি

ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর সভাপতি প্রশান্ত মাজি বলেন- “ এবার কানেক্ট বেঙ্গল ৪  এ আমরা খুবই ভাল সাড়া পেয়েছি। গত বছর যে সাড়া পেয়েছিলাম তার থেকেও অনেক বেশি সারা পেয়েছি। আমি যত টুকু এখানে ভিজিট করেছি তাতে সেলার ও বাইয়ার উভয়ের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি সবাই খুবই সন্তুষ্ট। তারা চাইছেন আমরা যেন এটাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারি। গত বছরের থেকে এটা আরও ভাল হয়েছে। তাদের আকাঙ্খা আমরা আরও বাড়িয়ে দিয়েছি। যাতে এর পরের বছর আরও ভাল কিছু আমরা করতে পারি। এই ভালবাসা আর বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটন ক্ষেত্রের মানুষের এখানে উপস্থিত হওয়া সেটাই কিন্তু আমাদের এই অনুষ্ঠানকে সাফল্যের দিকে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়ন করেছেন কিন্তু ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলিয়ার্স থেকে শুরু করে ছত্তিশগড় ট্যুরিজম বোর্ড, ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, গো এভরিওয়ার, ম্যাক্রুজ, বালি, মিশর আরও অনেকেই। সকলকে আমাদের ট্যাবের পক্ষ থেকে অ্সংখ্য ধন্যবাদ। “

আমরা চেষ্টা করব আগামিবার এর থেকেও আর ভাল করার জন্য- উত্তম দাস

ট্যাব-এর জয়েন্ট সেক্রেতারি উত্তম দাস বলেন-“ এটা ট্যাব-এর চতুর্থ কানেক্ট বেঙ্গল ইভেন্ট। আমরা তিনবার সাফল্যের সাথে সম্পূর্ণ করার পর এটা আমাদের চতুর্থ এডিশন। এবারের ইভেন্ট আমরা হায়াতে আয়োজন করেছি । এবার আমরা চেষ্টা করেছি ছত্তিশগড় ট্যুরিজম, ইন্ডিয়া ট্যুরিজম থেকে শুরু করে প্যান ইন্ডিয়া থেকে বিভিন্ন ডিএমসি-কে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এখানে আমরা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কোম্পানিও এখানে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বালি, মিশর, ইউরোপ আছে। আরও কারেন্সি, ভিসা সবই আছে। একই ছাতার তলায় এত সব কিছু আমরা আমাদের সদস্যদের দিতে পেরে খুবই খুশি। আমরা চেষ্টা করেছি ভারতের সমস্ত প্রান্ত থেকে সকলেই এখানে আসুক। সেই মতো এবার কাশ্মীর থেকেও ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা এসেছে। আমরা প্রত্যেকের প্রতিক্রিয়া নিয়েছি। অনেকে এমনও বলেছে আগা্মিবারের বুকিং এখনই নিয়ে নেওয়ার জন্য। আমরা চেষ্টা করব আগামিবার এর থেকেও আর ভাল করার জন্য।

নেপাল থেকে আসা রাধাকৃষ্ণ হলিডেজ প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অঙ্কিত কুমার জয়সওয়াল বলেন-“ আমরা নেপাল থেকে এসেছি। গত দুই বছর ধরে আমরা ট্যাব-এর প্রোগ্রাম এ আসছি। নেপাল, ভুটান এবং তিব্বত প্রমোট করে থাকে।কলকাতায় আমাদের অনেক ভাল ক্লায়েন্ট আছে। কলকাতা থেকে নেপাল যাওয়ার অনেক বেশি সুযোগ এসে গিয়েছে। এক আকাশ পথে এবং দুই, সড়ক পথে। রক্সৌল বর্ডার হয়ে নেপাল যেতে পারেন। এখানে অনেক কিছু দেখার আছে। ধর্মীয়স্থান যেমন আছে তেমন আছে ক্যাসিনো, আছে পর্বতশৃঙ্গ। ভগবান বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী আছে নেপালে। সেপ্টেম্বরে আমরা সরাসরি ফ্লাইট অপারেট করতে চলেছি। বুদ্ধ এয়ারের সাথে টাই-আপ হয়েছে। সপ্তাহে চারদিন থাকছে। আগামিদিনে এটা ট্যুরিজমের জন্য খুবই ভাল হবে। “

মিশরের গ্র্যান্ড মিউজিয়াম এর চেয়ারম্যান মামুদ সুলেমান বলেন- “আমরা খুবই খুশি এখানে কানেক্ট বেঙ্গল ইভেন্টে যোগ দিতে পেরে। কারণ এটা খুবই কার্যকর এবং অসাধারণ ইভেন্ট। এটা আমাদের কাছে খুবই ভাল সংযোগ। ব্যবসার জন্য যা খুবই কার্যকর। এজন্য আবারও কানেক্ট বেঙ্গল-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। “

বালি ট্রিপ-এর রেশমি ঠাক্কের বলেন-“ ট্যাব-এর এখানে লোকজনের আনাগোনা ভালোই আছে। অংশগ্রহণের পর বুঝলাম এখানে অনেক ট্রাভেল এজেন্ট এসছে। হোটেলিয়ার্সও এসছে। ইন্টারন্যাশনাল, ডোমেস্টিক করছে তারাও এসছে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি লাভ- যখন আমাদের কাছে ট্রাভেল এজেন্টরা আসে। আমরা গত দশ বছর ধরে শুধু বালি ট্যরের ব্যবস্থা করি। যারা বালি সেল করছে , প্রমোট করছে তারা এখানে এলেই আমাদের লাভ। এখানে যত ট্রাভেল এজেন্ট এসছে সেতাই আমাদের কাছে লাভ।“

ভ্রমণ ও পর্যটন বিশেষজ্ঞ শমিক রায় বলেন- “এই কানেক্ট বেঙ্গল প্রোগ্রামটা প্রত্যেক বছর ৯ জুলাই হয়। এই ভাবনাটা শুরু হয়েছিল যে বাংলাকে বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করানো। এবং বিশ্বকে বাংলার সাথে যোগাযোগ করানো। এই দুটোর কারণে এটা শুরু হয়েছিল। প্রথম বার যখন শুরু হয়েছিল তার থেকে এবার চতুর্থবারের ইভেন্ট অনেক প্রসার ঘটেছে। আমি দেখছি বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এখানে এসছেন। কেউ ক্রেতা কেউ বিক্রেতা। এর আগে ট্যাব একটা ভার্সান করেছিল –‘দেখো আমার বাংলা”। এই দুটো এক সাথে কানেক্ট করেছে কানেক্ট বেঙ্গল। আজ যা দেখছি তাতে আমি আশা করছি আগামিদিনে আরও বেশি করে লোকজন এখানে যুক্ত হবে। “

নেপচুন হলিডেজের ডিরেক্টর এবং ট্যাব-এর প্রাক্তব ভাইস প্রেসিডেন্ট চন্দ্র প্রকাশ ভট্টর বলেন- “ট্যাব যে এই কানেক্ট বেঙ্গ ৪ নামিয়েছে তা অসাধারণ। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল আজ পাচ্ছে ট্যাব। এজন্য আমি ট্যাব-এর বর্তমান কমিটিকে ধন্যবাদ জানাব। এখানে দেখছি দিল্লি থেকেও লোক এসেছে। ট্যাব-এর এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। এর ফলে উত্তর-পূর্বের পর্যটনের অগ্রগতি হবে। “

সুবিধা ট্যুরিজমের কর্ণধার হেমন্ত আগরওয়াল বলেন- আমি গতবারও এসেছিলাম। এবার এসে দেখলাম কানেক্টবেঙ্গল ৪ আরও বড় আকার নিয়েছে। এবার স্টল দেখতে পাচ্ছি। গত বার এত স্টল ছিল না। জায়গা অনেক বেড়েছে। মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এনার্জি অনেক বেড়েছে। এমনকি এখানে যিনি উপস্থাপকের কাজ করছেন তিনি খুবই ভাল ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি এখানে লাকি ড্র-এর আয়জন করা হয়েছে যে যারা এখানে ব্যবসা কিনতে এসেছে তাদের জন্যও থাকছে এই লাকি ডঃ এর ফলে তাদের মধ্যেও একটা আশার আলো জেগেছে যে তারাও কিছু উপহার পেতে পারে। আসলে নেটওয়ার্কিং ঠিক ভাবে হলে তবেই ব্যবসা আমরা একে অপরের সাথে করতে পারব। সেদিক থেকে এটা একটা খুবই ভাল প্ল্যাটফর্ম। “

ট্রিপএনকেয়ার এর কর্ণধার এম এফ ফজল বলেন- “ট্যাব-এর কানেক্ট বেঙ্গল ৪ এ এসে আমার খুবই ভাল লাগছে। কানেক্ট বেঙ্গল ১ এ আমি স্টল দিয়েছিলাম। এটা চতুর্থ ইভেন্ট। এখানে দেখছি ইভেন্ট এখন আরও অনেক বড় হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল স্টল দিয়েছে। আমি বলব এই ইভেন্টটা অনেক বেশি সফল হয়েছে। তবে আগামি ২৪,২৫ ও ২৬ এ বেঙ্গালুরুতে  অনুষ্ঠিত আইআইটিএম-এ আমরা স্টল দিয়েছি। আমরা চাই পর্যটনের প্রসারে আমাদের চেষ্টা সফল হোক। “

বুদ্ধগয়ার ট্রাভেল ব্যবসায়ী সুরেশ সিং বলেন-“ আজ গোটা দেশ কলকাতায় এসে এক হয়ে গিয়েছে। কলকাতায় সব প্রান্তের মানুষ ট্রাভেল এজেন্সি যত আছে সবাই আজ একত্রিত হয়েছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আগামিদিনে এই যে ট্রাভেল ব্যবসা আমরা সনাই খুব ভাল করব। কোভিডের পর আমরা যেভাবে হতাশ হয়ে পরেছিলাম এখন আমরা আবার উঠেছি। আজকের ইভেন্ট তো একেবারে সুপার। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাবো।“

স্টারলিং এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিজয় কুমার সিং বলেন- “এখানে এসে যেটা ভালো লাগলো তা হল অনেক এজেন্টের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হল। যাদের আমরা চিনতাম না। একই সঙ্গে ব্যবসার বিষয় অনেক সাপোর্টও পাচ্ছি এখান থেকে। এরকম প্রতি বছর হোক । আর প্রতিবারই অংশগ্রহণ করতে থাকব। ট্যাব-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই , তারা আমদের এখানে সুযোগ দিয়েছে।“

আন্দামানের ম্যাক্রুজ কোম্পানির পক্ষে দীপক ভার্মা বলেন- “আমাদের এই মুহূর্তে তিনটি ক্রুজ রয়েছে। এখন যে ক্রুজটা দেখছেন । এখানে এসে অনেক এজেন্টের সাথে পরিচয় হয়েছে। এটাই আমাদের কাছে একটা বড় প্রাপ্তি। “

আন্দামানের নৌটিকা ক্রুজের পক্ষে প্রযুক্তা হালদার বলেন– এটা ট্যাবের উদ্যোগে আয়োজিত কানেক্ট বেঙ্গল চতুর্থ বছরে পড়েছে। তাদের এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। এখানে যেটা উল্লেখযোগ্য , তা হল এখানে একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আর এক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথা হয়। সাধারণ রোড-শোএ আমরা দেখি সবাই আসে। কিন্তু এখানে কাজের কথাই বেশি হয়। এটা খুবই প্রাসঙ্গিক এবং খুবই কার্যকর ভবিষ্যত ব্যবসার জন্য। এবার যেটা হয়েছে তা হল অনেক বৃহত্তর আকারে হয়েছে। এখানে যা আয়োজন হয়েছে তা এককথায় অনবদ্য অসাধারণ। আশা করছি, আগামী বছরে এর চেয়েও আরও অনেক কিছু দেখতে পারব। এর আরও অনেক বেশি প্রসার হবে। “

গো এভিরিওয়ার ট্রাভেল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার পলাশ সেন বলেন- “ আমাদের নিজস্ব প্যাকেজ এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই যে একটা মিলন বাইয়ার এবং সেলারের মধ্যে , তা খুবই কার্যকর হয়ে উঠেছে। অনেক ডিএমসি ছাড়াও অনেক ডোমেস্টিক অপারেটরদের সাথেও সাক্ষাৎ করতে পারি। এটা সমভব হয়েছে ট্যাব-এর জন্যই। আমরা সাতটি মহাদেশেই মূলতঃ বিদেশের ট্যুর করি। আমরাই পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র ট্রাভেল কোম্পানি যারা আন্টারক্টিকায় ট্যুর করে থাকি। প্রতি বছরই আমরা ২০ জনের গ্রুপ নিয়ে যাই সেখানে। “

ইকোলাক্স হসপিটালিটির পক্ষে চন্দন মুখার্জি বলেন- এখানে ট্যাব-এর এই অনুষ্ঠনে এসে ভাল লাগছে। আমরা এখানে একই ছাদের তলায় একাধিক ট্রাভেল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলতে পারছি। আমাদের দার্জিলং এ প্রপার্টি আছে। আগামিদিনের রুটিনের ব্যাপারেও জানতে পারছি। আমরা এখানে এসে খুব প্রোডাক্টিভ একটা দিন কাটাচ্ছি। এই গোটা ব্যবস্থায় আমরা সকলেই উপকৃত হব।“

সুন্দরবনে মধুবন লেজারের কর্ণধার আর শ্রীনিবাস বলেন- এটা ট্যাবের চতুর্থ কানেক্ট বেঙ্গল। এখানে ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, চত্তিশগড় ট্যুরিজম এবং আমাদের রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছে। আমাদের সুন্দরবনে নিজেদের প্রপার্টি আছে। এটা সজনেখালি ফরেস্টের ঠি উল্টোদিকে আছে। দয়াপুর আইল্যান্ডে। আমরা সারা বছর ধরেই দু রাত তিন্দিনের প্যাকেজ করে থাকি। আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমাদের প্রপার্টি দেখুন এবং সুন্দরবনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিন।“

স্টার হলিডেজ এর অরিন্দম মজুমদার বলেন- আমাদের বিশেষ সৌভাগ্য কানেক্ট বেঙ্গল-এ আমরা অংশ নিতে পেরেছি। আমাদের স্টার হলিডেজ এবং ডিসকভারি দুটোই করে। আমাদের নিজস্ব কিছু প্রপার্টিজ আছে। যার মধ্যে শান্তিনিকেতনে ‘বেলা শেষে’ এবং ‘বেলা শুরু’র সিনেমা হয়েছিল। এছারা লাটাগুড়ি, কোলাখামে ইস্ট সিল্ক রুটেও আছে। কিন্তু সর্বোপরি যেতা আমি বলি- এরকম অনেকের আছে। আমাদের থেকে অনেক বেশি আছে। কিন্তু যেতা সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা এই ট্রাভেল ইন্ডস্ট্রির বন্ধুরা। যাদের সংগ ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। সেই দিকে তাকিয়ে আমি চাইব সবাই যাতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় এক সাথে থাকবে সাথে থাকবে। এবং পাশে থেকে একে অন্যের হাত ধরে আমাদের সবাইকে টেনে তুলবে।  “

বাংলার আর এক ট্যুর অপারেটর এবং উত্তরবঙ্গে একাধিক প্রপার্টির মালিক কাকলি সেন জানান- “কানেক্ট বেংগল ৪ ট্যাব-এর উদ্যোগে হচ্ছে। এটা চতুর্থ বছর। এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। মূলতঃ বিটুবি-র ক্ষেত্রে। এবার যারা আসতে পারেননি তারা পরের বার আসুন। এই ইভেন্ট আরও প্রসারিত হোক এটাই চাই।“

Published on: জুলা ৯, ২০২৫ at ২৩:২৮


শেয়ার করুন