দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১.১০ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুলা ৩১, ২০২৫ at ২৩:২১
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৩১ জুলাই : এক বছরে দুর্গাপুজো কমিটির অনুদানের টাকা লাফিয়ে বাড়ল ২৫ হাজার টাক। এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শারদীয়া উৎসব উপলক্ষে প্রশাসনিক ও সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন –এবার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। গতবার যা ছিল ৮৫ হাজার টাকা।

এদিন নিজের বক্তব্যের একেবারে শেষে এই ঘোষণা করেন। তার আগে তিনি রীতিমতো খোশ মেজাজেই পুজো কমিটিগুলির কাছে প্রশ্ন রাখেন- এবার কত? আগের বার ৮৫ হাজার দিয়েছিলাম, এবার ৯০ করি। কারা কি চায়? ৯০? ৯৫? ১? ১লক্ষ ১০ হাজার। খুশি তো? পুজোতে যেন খুশিতে ভরপুর থাকে। জয় মা দুর্গা, জয় মা দুর্গা, জয় মা দুর্গার জয়। সবাইকে নিয়ে চলবেন। এটাই সম্প্রীতির বাংলা। এরপরই গোটা স্টেডিয়ামে করতালি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান উপস্থিত সকলে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় স্কল পুজো কমিটি এদিন খুবই খুশি।

এর আগে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন- “যখন কোন বড় কাজ করতে হয় তখন কিন্তু সকলের আশীর্ব্বাদের প্রয়োজন হয়। আমাদের এটা প্রাণের উৎসব। ইউনেস্কো আমাদের কালাচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটিজ হিসাবে মর্যাদা দিয়েছে সেটা ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।  আমি যখন দুর্গা পুজোর মিটিং করি তখন কেউ কেউ বলে বলে কেন এদের সাহায্য করা হবে। আরে, এটা একটা উৎসব। তারা পুজোটা করে বিনিময়ে কত শ্রমজীবী মানুষ সেখানে কাজকর্ম করে। তাদের উপার্জন হয়। আজ ছ’মাস ধরে পাড়ার ছেলেমেয়েরা ঘরবাড়ির কাজ ছেড়ে কি থিম হবে , কখন কি করবে তারা তিন-চার মাস আগে থেকে কিভাবে পুজোকে সাফল্যমন্ডিত করবে তার পরিকল্পনা করে।“

“ আমাদের এখানে বড় –মাঝারি-ছোট পুজো মিলিয়ে ৪৫ হাজার পুজো হয়। এছাড়াও বাড়ির পুজো, ফ্ল্যাটের পুজো আছে।  পুজো কার্নিভাল হবে। বিসর্জনের জন্য আপনারা তিনদিন পাবেন। শুধু বিসর্জ্নের দিনটি হবে ২,৩,৪ অক্টোবর। কারণ লক্ষ্মীপুজোর আগে একটা দিন পাব, ওইদিনটা পুজো কার্নিভাল থাকবে। এখন তো দ্বিতীয়া থেকেই পুজো শুরু হয়ে যায়। এবার তো বিশ্বকর্মা পুজো আর দুর্গাপুজোর মধ্যে মাত্র চারদিনের ব্যবধান। এবার এমনভাবে পড়েছে। জেলা গুলিতেও এখন খুব ভাল পুজো হয়। জেলার প্রত্যেকটা পুজো আমি দেখতে পাই। তারা এত ভালো পুজো করছে আজকাল যে তাদেরও ভিড় বাড়ছে। জেলার পুজোর চাহিদা খুব বেড়েছে এবং ওদের থিমও খুব ভাল। “

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সকল পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশ্যে বলেন- “বিদেশি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেটা দেখবেন। পুজো মন্ডপে কি করবেনব কি করবেন না সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট একটা গাইডলাইন রাখা দরকার। তাদের দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা পথ রাখবেন। অগ্নি নির্বাপকের ব্যবস্থা রাখবেন।“  ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পরিবহন দফতরকে পুজোর দিনগুলিতে বেশি গাড়ি চালাতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিন তিনি বলেন- “১৭ তারিখ বিশ্বকর্মা পুজো। মহালয়া ২১ তারিখ। টিভি মিডিয়াকে অনুরোধ করব- আপনারা ভিড়ের প্রতিযোগিতা না করে আপনারা মানুষ দেখান। সব পুজোই তো পুজো। শুধু ববি, অরূপ আর সুজিতের পুজো দেখাতে হবে তার কি মানে আছে! শুধু চারজনই থাকে আর বাদবাকিরা আর সুযোগ পায় না। এটা একটু মাথায় রাখবেন।“

এদিন মুখ্যমন্ত্রী পুজো কমিটিগুলির  সমস্ত সরকারি ফি মুকুব করে দেওয়া হল বলে ঘোষণা করেন।

Published on: জুলা ৩১, ২০২৫ at ২৩:২১


শেয়ার করুন