

Published on: সেপ্টে ২৪, ২০২৫ at ২১:০০
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর : শুরু হয়েছিল গত বছর ২০২৩ সালে। কলকাতার মহানাগরিকের হাত ধরেই আলিপুর চিড়িয়াখানার ১৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠান। এক বছর ধরে চলেছে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বার্ষিকী উদযাপনের পর আজ বুধবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে তার সমাপ্তি অনুষ্ঠান উদযাপিত হল নতুন কলেবরে। সেই উপলক্ষে এদিন ইন্ডিয়া পোস্টের সহযোগিতায় একটি বিশেষ প্রচ্ছদ ‘উইথ মাই স্ট্যাম্প’ প্রকাশ করা হয়। রাজ্যের ব্নদফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার উপস্থিতিতে।
এদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বন দফতরের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) বীরবাহা হাঁসদা, ডঃ মারিয়া ফার্নান্দেজ, ভাইস চেয়ারম্যান, WBFDCL, দেবল রায়, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, বন বিভাগ এবং PCCF HOFF, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সৌরভ চৌধুরী, সদস্য সচিব, পশ্চিমবঙ্গ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ, সুপ্রিয় ঘোষ, পোস্ট মাস্টার জেনারেল (মেইল এবং বিডি), পশ্চিমবঙ্গ সার্কেল, আলিপুর জুওলজিক্যাল গার্ডেনের সিএফ এবং পরিচালক তৃপ্তি সাহ এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক এবং রিফাইনারি প্রধান অতনু সান্যাল।
এদিনের অনুষ্ঠানে সপ্তম চিড়িয়াখানা উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সিট অ্যান্ড ড্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বনবিভাগের নানা উন্নয়নমূলক কাজের বিষয় বলেন। বনকর্মীদের ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সর্বদা চিন্তা করেন তাদের জন্য ভাল কিছু করার চেষ্টা করছেন সেকথাও উল্লেখ করেন।
আলিপুর চিড়িয়াখানা ২০২৩ সালে তার ১৫০তম জন্মদিন উদযাপন করেছে। এই উপলক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও পরিবর্তন হয়েছে। নিচে কিছু তথ্য দেওয়া হলো:
* নতুন গেট: চিড়িয়াখানার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন করে দুটি গেট তৈরি করা হয়েছে। প্রধান ফটকটি প্রায় দোতলা সমান উঁচু করা হয়েছে এবং এর উপরে হাতির মাথার অবয়ব রয়েছে।
* নতুন প্রাণী: ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চিড়িয়াখানায় তিনটি বাঘ, সাদা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ সহ মোট ১১ ধরনের নতুন প্রাণী আনা হয়েছে। এর মধ্যে মালায়ান টাপিরও রয়েছে, যা ভারতের অন্য কোনো চিড়িয়াখানায় নেই।
* বই প্রকাশ: চিড়িয়াখানার ইতিহাস ও পরম্পরার উপর একটি বিশেষ বই প্রকাশিত হয়েছে।
* কর্মচারীদের জন্য সুবিধা: বনমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে চিড়িয়াখানার কর্মীদের জন্য বিমার ব্যবস্থা করা হবে।
* গ্রন্থাগার উন্মুক্তকরণ: চিড়িয়াখানার গ্রন্থাগারে প্রায় ১৪০০-রও বেশি দুষ্প্রাপ্য বই রয়েছে, যা সাধারণত সাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
* রাম ব্রহ্ম সান্যালের মূর্তি: চিড়িয়াখানার প্রথম ভারতীয় সুপারিনটেন্ডেন্ট রাম ব্রহ্ম সান্যালের একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে।
* উৎসব ও প্রতিযোগিতা: ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, যেমন জু ফেস্টিভ্যাল, কুইজ প্রতিযোগিতা, অঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়েছে।
* ঐতিহাসিক গুরুত্ব: আলিপুর চিড়িয়াখানা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি ভারতের প্রাচীনতম বিধিবদ্ধ চিড়িয়াখানা। এটি শুধু একটি বেড়ানোর জায়গা নয়, বরং কলকাতার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের একটি অংশ।
২০২২ সালে সেন্ট্রাল জু অথোরিটির দ্বারা প্রকাশিত র্যাঙ্কিং-এ দেশের ১৫৫টি চিড়িয়াখানার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর জুওলজিক্যাল গার্ডেন বা আলিপুর চিড়িয়াখানা চার নম্বর স্থানে আছে। প্রথম স্থানে আছে দার্জিলিং-এর পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক। এই তথ্যকে সামনে এনে গত বছরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের বন দফতরের তৎকালীন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল মিজের অভিমত ব্যক্ত করে বলেছিলেন- “আলিপুর চিড়িয়াখানা যেভাবে উন্নতি করে চলেছে, তাতে আগামিদিনে এটি দেশের মধ্যে এক নম্বর স্থানে চলে আসতে পারে। আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।“
১৮৭৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আলিপুর চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৪১ সালের জুলাই মাসে ক্যালকাটা জার্নাল অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি পত্রিকায় কলকাতায় চিড়িয়াখানা স্থাপনের পক্ষে সওয়াল করা হয়। ১৮৭৩ সালে লেফটানেন্ট-গভর্নর স্যার রিচার্ড টেম্পল কলকাতায় একটি চিড়িয়াখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন। সরকার এশিয়াটিক সোসাইটি ও এগ্রি-হর্টিকালচার সোসাইটিকে যৌথভাবে চিড়িয়াখানা স্থাপনের জমি প্রদান করে। তবে ১৮৭৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রিন্স অব ওয়েলস সপ্তম এডওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চিড়িয়াখানাটির উদ্বোধন করেন। প্রথমদিকে চিড়িয়াখানা গঠিত হয়েছিল ভারতীয় রেলওয়ে স্টেশনে বৈদ্যুতিককরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত জার্মান ইলেকট্রিশিয়ান কার্ল লুইস সোয়েন্ডলারের ব্যক্তিগত পশু উদ্যানের পশুপাখি নিয়ে।
প্রথমদিকে একটি সাম্মানিক ম্যানেজিং কমিটি এই চিড়িয়াখানা চালাতো। এই কমিটির সদস্য ছিলেন সোয়েন্ডলার ও বিখ্যাত উদ্ভিদবিদ জর্জ কিং। চিড়িয়াখানার প্রথম ভারতীয় সুপারইনটেনডেন্ট ছিলেন রাম্ব্রহ্ম সান্যাল । তিনি এই চিড়িয়াখানার অনেক উন্নতি করেছিলেন এবং সেই যুগে বন্দী প্রজননে সাফল্য অর্জন করেছিলেন।


Published on: সেপ্টে ২৪, ২০২৫ at ২১:০০



