

Published on: ডিসে ৩০, ২০২৫ at ১৬:৪৯
এসপিটি নিউজ, ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ পরলোকগমন করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি যুগের অবসান ঘটল।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামীকাল সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আজ থেকে পরবর্তী তিন দিন দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
এক নজরে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার সংগ্রামের অন্যতম প্রধান মুখ। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই নেত্রী ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে পা রাখেন।
স্মরণীয় কর্ম ও রাজনৈতিক মাইলফলক:
তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে—মোট তিন মেয়াদে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দেন।
১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটে।
নারী শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করা তাঁর আমলের অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
‘বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর আপসহীন ভূমিকা তাঁকে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে দেয়।
স্মরণীয় জীবনলেখ্য: বেগম খালেদা জিয়া (১৯৪৫–২০২৫)
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিচে তুলে ধরা হলো:
- জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
- রাজনীতিতে অভিষেক: ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর দলের ঐক্যের প্রয়োজনে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
- গণতন্ত্রের রাজপথ: আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ ও গৃহবন্দি হয়েও তিনি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি, যার ফলে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পান।
- নারীর ক্ষমতায়ন: তাঁর শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং নারী শিক্ষার প্রসারে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটে। মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ তাঁর অন্যতম সেরা সাফল্য।
- আঞ্চলিক রাজনীতি: সার্ক (SAARC)-কে শক্তিশালী করতে এবং মুসলিম উম্মাহর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শোকাতুর নেতা-কর্মীদের ভিড় জমতে থাকে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক শোকবার্তায় তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজা শেষে তাঁর দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটলেও বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।
Published on: ডিসে ৩০, ২০২৫ at ১৬:৪৯



