
Published on: ডিসে ২৯, ২০২৫ at ২৩:২৪
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, মায়াপুর, ২৯ ডিসেম্বর: গঙ্গার শীতল হাওয়া আর হরিনাম সংকীর্তনের মধুর ধ্বনিতে মুখরিত আকাশ-বাতাস। শীতের মিঠে রোদে মায়াপুরের মাটি যেন আজ এক পরম তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৫-এর বিদায়বেলায় শ্রীধাম মায়াপুরে ভক্তির এমন এক অভূতপূর্ব ছবি ধরা পড়ল, যা সাম্প্রতিক কালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এ কেবল পর্যটন নয়, এ যেন এক আধ্যাত্মিক মহাসম্মিলন।
রেকর্ড ভাঙা ভক্ত সমাগম
ইসকন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। গত ২৭ ডিসেম্বর, শনিবার মায়াপুরে পদার্পণ করেছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার মানুষ। কিন্তু রবিবারের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই সেই ভিড় জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ২৮ ডিসেম্বর ভক্তের সংখ্যা পৌঁছায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩০০-এ। মন্দির চত্বরে তিল ধারণের জায়গা নেই, চারদিকে শুধু ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি আর অগণিত ভক্তের ভিড়।
আধ্যাত্মিক টানে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা
মায়াপুর কেবল একটি ভ্রমণের স্থান নয়; এটি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের জন্মভূমি, প্রেম ও ভক্তির প্রাণকেন্দ্র। শীতের ছুটি আর মনোরম আবহাওয়ার টানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে ছোট গাড়িতে, কেউ আবার বড় বাস ভাড়া করে দল বেঁধে আসছেন এই পবিত্র ধামে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের কাছেও কলকাতার কাছে এটিই এখন সেরা গন্তব্য।
তবে এই ভিড় কেবল বেড়ানোর আনন্দ নয়, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক গভীর আধ্যাত্মিক আকুতি। বছরের শেষ দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ যখন কোলাহলে মেতে থাকেন, তখন মায়াপুরের এই জনজোয়ার প্রমাণ করে দেয় যে, মানুষ আজও শান্তির খোঁজে, কৃপা লাভের আশায় মহাপ্রভুর চরণেই আশ্রয় চায়।
“ভক্তের এই ঢল দেখে মনে হচ্ছে, শ্রীধাম মায়াপুর আজ এক বিশ্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মহাপ্রভুর প্রেম যেন জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে।” — রসিক গৌরাঙ্গ দাস, জনসংযোগ আধিকারিক, ইস্কন মায়াপুর।
আসছে ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি: অপেক্ষায় নতুন রেকর্ড
ইসকন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের ধারণা, ভিড়ের এই গ্রাফ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি আরও উঁচুতে উঠবে। বছরের শেষ রাত এবং নতুন বছরের প্রথম সূর্যকে সাক্ষী রেখে ভক্তরা মহাপ্রভুর আরতিতে সামিল হতে চাইছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিপুল নিরাপত্তা ও ভক্তদের সুযোগ-সুবিধার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
মায়াপুরের ধুলোয় আজ যেন কেবল ভক্তির ঘ্রাণ। যে দিকেই চোখ যায়, কেবল শ্বেতশুভ্র মন্দির আর অগণিত ভক্তের প্রাণের স্পন্দন। এই জনসমুদ্রই বলে দিচ্ছে, সময়ের চাকা ঘুরলেও মহাপ্রভুর প্রেমের টানে টান পড়েনি এতটুকুও।

Published on: ডিসে ২৯, ২০২৫ at ২৩:২৪



