

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৮ জানুয়ারি : প্রতি বছরের মতোই মানবতার সেবায় নিজের অঙ্গীকার আরও একবার দৃঢ়ভাবে পূরণ করল খিদিরপুর উৎসব। ১৮ জানুয়ারি, রবিবার, কলকাতার ২৪এ হরিসভা স্ট্রিট, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত রক্তদান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরে অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনার সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। নতুন বছর ২০২৬-কে সামনে রেখে মানবতার সেবার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই শিবিরে রক্তদান করেন মোট ২০২৬ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা—যা এক অনন্য নজির।
সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে রক্তদাতাদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। তরুণদের পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে দেয় বিশেষ মর্যাদা ও গভীর সামাজিক তাৎপর্য। শুধু রক্তদানই নয়, শিবির সংলগ্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে শত শত মানুষ উপকৃত হন—যেখানে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
খিদিরপুর উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজেশ সাও বলেন, “এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি নিরন্তর প্রয়াস। রক্তদান হোক বা স্বাস্থ্য পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই আমরা চাই সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হোক।”
রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশাল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, যেখানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সের হাজার হাজার অংশগ্রহণকারী তাদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ ঘটান। থিম, বয়স বিভাগ ও মাধ্যমভিত্তিক (পেন্সিল, ক্রেয়ন, জলরং ইত্যাদি) এই প্রতিযোগিতাগুলি শুধু শিল্পচর্চার সুযোগই দেয়নি, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বীজ বপন করেছে।
এছাড়াও সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খিদিরপুর উৎসবের পক্ষ থেকে প্রায় দশ হাজার দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল ও মহিলাদের শাড়ি বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগ শীতের সময় অসহায় মানুষের জীবনে এনে দেয় কিছুটা উষ্ণতা ও স্বস্তি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর, সহ-সভাপতি শুভদ্যুতি দত্ত, কোষাধ্যক্ষ অরিজিৎ দত্ত সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রবীণ নেতা। তাঁদের উপস্থিতি এই সামাজিক উদ্যোগকে আরও গুরুত্ব ও স্বীকৃতি দেয়।
খিদিরপুর উৎসব কমিটি জানিয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যেখানে রাজ্য ও ভিনরাজ্যের ক্রীড়াবিদরা অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে ক্রীড়া ও সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
রক্ত, স্বাস্থ্য, শিল্প, সহমর্মিতা ও ক্রীড়া—সব মিলিয়ে খিদিরপুর উৎসব আবারও প্রমাণ করল, উৎসব মানে শুধু আনন্দ নয়, উৎসব মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানবতার হাত শক্ত করে ধরা।



