

Published on: জানু ১৯, ২০২৬ at ১৭:১০
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর ব্লকের বাখারপুর গ্রামে অবস্থিত অখণ্ড শ্রী ক্রিয়াযোগ সাধন মন্দির সেবাশ্রমে আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আশ্রমের ২১তম বাৎসরিক মহোৎসব। শুক্ল ষষ্ঠী পুণ্যলগ্নে শুরু হয়ে ছ’দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে অখণ্ড মহাযজ্ঞের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এই সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী—যিনি একাধারে একজন প্রথিতযশা জ্যোতিষাচার্য, তান্ত্রিকাচার্য, বাস্তু পরামর্শদাতা ও হস্তরেখাবিদ। জ্যোতিষশাস্ত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘ ২১ বছরেরও বেশি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক সম্মানে ভূষিত আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোলজি ফেডারেশন ইনক., ইউএসএ-র একজন পেশাদার শিক্ষক সদস্য হিসেবেও যুক্ত।
আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি মানবসেবা ও লোককল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সেবাশ্রমকে একটি সমাজমুখী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, ২৪ জানুয়ারি, শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে এই মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর দ্বীপ প্রজ্বালন, মঙ্গলাচরণ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ছ’দিনের ব্যাপী বিশাল কর্মসূচি।
ছ’দিনের বিস্তৃত কর্মসূচি
ছবিতে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলবে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- শতাবৃত্তি শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ
- গীতা পাঠ, জপ ও যজ্ঞ
- অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্তন
- মহাকাল মহামৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ
- ধর্মসভা ও শাস্ত্র আলোচনা
- সাধু-সন্ত ও সাধ্বীদের উপস্থিতিতে আধ্যাত্মিক সমাবেশ
- সাধু ভাণ্ডারা, অন্নদান
- দুঃস্থদের জন্য কম্বল ও বস্ত্র দান
- শিশু ও কিশোরদের জন্য অঙ্কন প্রতিযোগিতা
- নৃত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
- গুণীজন সংবর্ধনা
- সন্ধ্যায় নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে প্রসাদ সেবনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
দেবী জগজ্জননী জগদম্বা শ্রীশ্রী মা কনকেশ্বরী এবং বাবা কাল ভৈরব শ্রীশ্রী নাগেশ্বর মহাদেবের কৃপায় অনুষ্ঠিত এই মহোৎসবে বহু জ্ঞানী-পণ্ডিত, সাধু-সন্ত ও ভক্তসমাগমে আশ্রম প্রাঙ্গণ এক অপার্থিব আনন্দধারায় মুখরিত হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ি মহাশয়ের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে সংসারী মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর সাধনার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা সকলেই জানি – মানুষ সমাজশৃঙ্খল আবদ্ধ জীব, সংসার তার বড় প্রিয়। শাস্ত্র-দৃষ্টিতেও চতুরাশ্রমের মধ্যে সংসারাশ্রমকেই শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। তাই সে সংসারে থেকেই ঈশ্বর সাধনা করতে চায়। এসব তার স্বভাব জাত বলিয়া সহজ পথ। যে মহত্মারা সেই সব সংসারী মানুষের মতো জীবন-যাপন করে সংসারী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের আলোকে তাদের পথ দেখিয়ে থাকেন, সংসারী মানুষ তাঁর আদর্শকেই জীবনের পাথেয় বলে নিরূপণ করে। সেইদিক দিয়ে এই মহাযোগীর আদর্শ সকল গৃহী মানুষের নিকট আদরণীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। পুরাকালে ঋষিরাও তাই করেছেন। সেই ধারা আজও স্রোতস্বিনী মা গঙ্গার মত বয়ে চলেছে নীরবে, নিস্তব্ধে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রামনগরের গুরুজি আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী। এমন এক সুন্দর আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক ও লৌকিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মানবকল্যাণে বিকশিত করেছেন।সংসারাশ্রমে থেকেও যে আত্মোন্নতি ও মানবকল্যাণ সম্ভব—এই দর্শনই তাঁর সাধনা ও কর্মসূচির মূল ভিত্তি।
এই মহোৎসব উপলক্ষে সেবাশ্রম কর্তৃপক্ষ সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষকে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক এই বিরল আধ্যাত্মিক উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।
Published on: জানু ১৯, ২০২৬ at ১৭:১০



