
পুজোর আগে ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন দিশা, ছোট ও মাঝারি পর্যটন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্ল্যাটফর্ম বিটিএফ ২০২৬

Published on: জুন ১৯, ২০২৬ at ০৯:২৫
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৯ জুন: পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এবং বহুল প্রতীক্ষিত পর্যটন মেলা বেঙ্গল ট্রাভেল মার্ট (বিটিএফ) ২০২৬–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে আজ। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এক ছাতার তলায় এনে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যেই আয়োজিত হচ্ছে এই মেলা। আয়োজকদের দাবি, রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে এটি বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ, ভারত পর্যটনের পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক অধিকর্তা পণব প্রকাশ, বিহার ট্যুরিজমের জয়েন্ট ডিরেক্টর রাজেশ রোশন, বোরোল্যান্ড ট্যুরিজমের এক্সিকিউটিভ মেম্বার কনসুলা বাসুমাতাজি, কাকডি আলাং ট্যুরিজমের এক্সিকিউটিভ মেম্বার রীতেশ ইঙ্গি এবং এটিএস পিবি–র প্রেসিডেন্ট সাগর গুহ সহ পর্যটন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
এবারের মেলায় থাকছে মোট ১২০টি স্টল। অংশ নিচ্ছেন ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), হোটেলিয়ার্স, হোমস্টে মালিক এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা ও উদ্যোক্তারা। পুজোর মরশুমের আগে এই মেলা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন গন্তব্য, বিশেষ প্যাকেজ এবং ভ্রমণ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
বিটিএফ–এর প্রেসিডেন্ট সাগর গুহ জানান, “প্রায় এক দশক আগে আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ–এর চিন্তাভাবনা থেকেই বিটিএফ–এর সূচনা। ছোট ও মাঝারি মাপের ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী এবং হোমস্টে উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই মেলার জন্ম। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রচারের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করি।”
ভাইস প্রেসিডেন্ট সমর ঘোষ বলেন, “গ্রাসরুট স্তরে যাঁরা পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিটিএফ সেই উদ্দেশ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি স্বরূপ ভট্টাচার্য এবং তারক সাহা জানান, “এই মেলায় পর্যটন শিল্পের প্রায় সব ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে বিটিএফ আজ রাজ্যের একটি পরিচিত এবং সম্মানজনক পর্যটন মেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।”
সংস্থার আর এক সদস্য সোমনাথ বলেন, “অনেকেই মনে করেন এই মেলা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিটিএফ থেকে যে আয় হয়, তা সারা বছর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়। লাভ–ক্ষতির হিসাব নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের উদ্যোগ। এটিই অ্যাসোসিয়েশন অব সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গলের মূল বৈশিষ্ট্য।”
পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভ্রমণের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত বিটিএফ ২০২৬ ইতিমধ্যেই পর্যটন মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। আয়োজকদের আশা, এবারের আয়োজন আগের সব রেকর্ড ভেঙে পর্যটন শিল্পের জন্য আরও বৃহত্তর সুযোগ তৈরি করবে।
Published on: জুন ১৯, ২০২৬ at ০৯:২৫



