

Published on: জুন ১৮, ২০২৬ at ২৩:৪৯
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৮ জুন: বাঙালির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলীর অনন্য স্বাদ আর স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা— এই দুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতা। ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (টাফি)-এর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ সভায় একদিকে যেমন পরিবেশিত হল বিরল ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পদ, অন্যদিকে সদস্যদের জন্য চালু করা হল স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিশেষ প্রিভিলেজ কার্ড।
দক্ষিণ কলকাতার লেক প্লেস রোডের ‘লস্ট অ্যান্ড রেয়ার রেসিপিজ’-এর প্রি-বুক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন টাফির সদস্য, পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা এবং ওয়েলনেস হাইভ-এর কর্ণধার। সভায় ভিসা পরিষেবা, ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল টাফি সদস্যদের হাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিশেষ প্রিভিলেজ কার্ড তুলে দেওয়া। টাফি (পূর্ব ভারত)-এর চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি জানান, সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ওয়েলনেস হাইভ পরীক্ষার নির্ধারিত মূল্যের উপর প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেবে।
শুধু তাই নয়, রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হলে রোগীর বাড়িতেই কর্মী পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকবে। ওয়েলনেস হাইভ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর দেবস্মিতা চট্টোপাধ্যায় জানান, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তারা এই পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও যাদবপুরে অবস্থিত তাদের কেন্দ্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থোপেডিক, গাইনোকলজি, সাইকিয়াট্রি, সাইকোলজি-সহ একাধিক বিভাগের প্রায় ১৫ জন চিকিৎসক সেখানে নিয়মিত পরিষেবা দিয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্য সচেতনতার এই বার্তার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল বাঙালির হারিয়ে যাওয়া রেসিপির সম্ভার। ‘লস্ট অ্যান্ড রেয়ার রেসিপিজ’-এর কর্ণধার শুভজিৎ ভট্টাচার্য জানান, কোভিড অতিমারির সময় ২০২০ সালের আগস্ট মাসে মূলত একটি খাদ্য-আর্কাইভ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাঁদের যাত্রা শুরু। বাংলার বিস্মৃতপ্রায় ও দুর্লভ রেসিপিগুলিকে সংরক্ষণ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই উদ্যোগই আজ জনপ্রিয় রেস্তোরার রূপ নিয়েছে।
সভায় উপস্থিত অতিথিদের জন্য পরিবেশিত হয়েছিল একের পর এক ঐতিহ্যবাহী পদ। শুরুতেই ছিল অমৃত ধারা- এতা আদতে ময়মনসিংহের একটি পদ। এটি আমসত্ত, ডাবের জল, ডাবের শাঁস দিয়ে এই সরবত তৈরি করা হয়।এর পর মটরশুঁটির চপ। তার পরেই পরিবেশন করা হয় মাছের তক্তি কাবাব, মটন জালি কাবাব এবং ঠাকুরবাড়ির রান্নার ধাঁচে তৈরি মোচার শামি কাবাব। ভাজা মশলা ও আমসত্ত্বের চাটনির সঙ্গে পরিবেশিত এই পদগুলি রীতিমতো প্রশংসা কুড়ায়।
মুখ্য আহারে ছিল ভাত, পটল-চিংড়ি বাটা, আমের আচারের ছোঁয়ায় ডালশুক্ত, লেবুপাতা দেওয়া কাঁচা মুগ ডাল, পোস্তর আলুভাজা, দুধ পাবদা, ধোকার ডালনা, সাদা পোলাও, কমলালেবুর রসে রান্না করা কাতলা মাছ এবং মটন সিলঙ্কারি। শেষ পাতে ছিল আমকোড়া চাটনি, ডাবের পায়েস, এলাচ-সুগন্ধি ভাপা ডাল এবং আমার দিদিমার হাতের স্বাদের স্মৃতি জাগানো গোকুল পিঠে। সবশেষে পরিবেশন করা হয় মিষ্টি পান।
একদিকে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া খাদ্যঐতিহ্যের পুনরাবিষ্কার, অন্যদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধার উদ্যোগ— দুইয়ের সমন্বয়ে টাফির এই বিশেষ সভা সদস্যদের কাছে হয়ে উঠল যেমন উপভোগ্য, তেমনই কার্যকর। রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই কথাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল এই আয়োজন।









Published on: জুন ১৮, ২০২৬ at ২৩:৪৯



