অভিষেক না আমি? মমতাকে কড়া বার্তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তৃণমূলে জল্পনা তুঙ্গে

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ১১, ২০২৬ at ১৬:১৫

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা টানাপোড়েনের আবহে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমার মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে।

সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি দলের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করে আসছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে নেতৃত্বের পাশে থেকেছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আচরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দলের মধ্যে কিছু নেতারঅহংকারএবংএকচ্ছত্র প্রভাবকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে।

এবিপি আনন্দের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে বলেছেন-“ ওর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ আর খারাপ ব্যবহার এর জন্য এই অবস্থা। আজকে আমি জোর গলায় বলছি- আমার সৎ সাংসদ ক’জন আছে। সেই আমাকেও শুধু ওর জন্য ‘চোর’ অপবাদ শুনতে হচ্ছে। এসব কেন হবে। আমি তো মমতাদিকে ২০২২ সালেঈ বলে দিয়েছিলাম- ওকে দিয়ে হবে না। ওকে পদ থেকে সরাতে হবে। মমতাদিকে ঠিক করতে হবে, কাকে উনি রাখবেন- অভিষেক না আমি। ও থাকলে আমাকে দলটা ছেড়ে যেতে হবে। জষ্ট হলেও আমাকে তা করতে হবে। এটা মমতাদির উপরেই নির্ভর করছে। “

অন্যদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। একাধিক সাংসদের বিদ্রোহী অবস্থান, রাজ্যসভার সদস্যদের পদত্যাগ এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের কারণে দলকে চাপে পড়তে হয়েছে। এমনকি দলের একাংশ দাবি করেছে যে লোকসভার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরে চলা ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর দলের পুনর্গঠন নেতৃত্বের প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তারই একটি প্রকাশ্য রূপ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দলের সাংসদ Shatrughan Sinha প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা জানিয়ে দলের ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

Published on: জুন ১১, ২০২৬ at ১৬:১৫


শেয়ার করুন