
শ্রীমদ্ভাগবতগীতা শুধুমাত্র ঠাকুরঘরের জন্য নয় এই মহাগ্রন্থ জীবনের সর্বক্ষণের জন্য- স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ
গীতাপাঠের আয়োজনকে সার্থক করে তুলতে আট দিন ধরে রাজ্যের প্রতি গ্রামে ১০টি গাড়ি প্রচার করছে
৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গীতার তিনটি প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায় অর্থাৎ,আদি, মধ্য ও অন্ত পাঠ করা হবে

Published on: নভে ২৬, ২০২৫ at ২৩:২৭
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৬ নভেম্বর: গত তিন বছরের মতো এবারও কলকাতায় ব্রগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতাপাঠের আয়োজন হতে চলেছে। এবার পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে শ্রীমদ্ভাগবদগীতা পাঠ হবে বলে সনাতন সংস্কৃতি সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে এবারের গীতাপাঠের আয়োজন হতে চলেছে আগামী ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫। সারা দেশ থেকে প্রায় দু’হাজারেরও বেশি সাধু-সন্তরা উপস্থিত থাকবেন। এই গীতাপাঠের আয়োজনকে সার্থক করে তুলতে আট দিন ধরে রাজ্যের প্রতি গ্রামে ১০টি গাড়ি প্রচার করছে। রোজ ৩৫টি করে সভা হচ্ছে।
উজ্জ্বল উপস্থিতি
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন – স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ, স্বামী নির্গুণানন্দ জি মহারাজ এবং স্বামী বন্ধুগৌরব ব্রহ্মচারী। এছাড়াও ছিলেন- জগদ্ধাত্রীয়া দাস এবং বিপ্লব রায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতায় গীতাপাঠের আসরে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। শিলিগুড়িতে হয়েছিল ১ লক্ষ ২৫ হাজার এবং এবার তাদের লক্ষ ৫ লক্ষ মানুষের সমাগম।
এদিন গীতাপাঠের প্রসঙ্গিকতা ও বর্তমান সময় তার তাৎপর্য নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ। তিনি বলেন- “গীতা এমনই একটি গ্রন্থ যেখানে সব মত-পথ আছে। আমাদের সনাতনীদের মধ্যে যত সম্প্রদায় আছে তারা সকলেই গীতাকে মেনে নিয়েছেন। শ্রীমদ্ভাগবতগীতা শুধুমাত্র ঠাকুরঘরের জন্য নয় এই মহাগ্রন্থ জীবনের সর্বক্ষণের জন্য । বিশ্বে সমস্ত মানুষের মনে যত প্রশ্ন আছে তার সব উত্তর শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় পাবেন।“
“শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাকে অনেকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন”
“শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাকে অনেকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। মায়ের কাছে গেলে সন্তানের যেমন ভয়-ভীতি কাটিয়ে আশ্রয় লাভ ঘটে তেমনই শ্রীমদ্ভাগব্দগীতাকে আশ্রয় করলে তেমনই অনুভূতি হয়। শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার যা অবদান তা হল ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণ। এই শ্রীমদ্ভাগবদগীতাকে কেন্দ্র করে বাংলায় একটা নবজাগরণ ঘটেছিল। মুখে ছিল বন্দেমাতরম আর হৃদয়ে ছিল শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা। সারা দেশে বিশেষ করে আমাদের বাংলায় যে অবক্ষয় সারা দিক থেকে বিশেষ করে যুব সম্প্রদায় যে ভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে তার থেকে বের হতে হলে শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাকে আশ্রয় করতে হবে।“ জানান প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ।
১ ডিসেম্বর শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার জন্মজয়ন্তী
এরপর গীতাপাঠের আয়োজন নিয়ে সবিস্তারে জানান স্বামী নির্গুণানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন- “আমরা যে এই গীতাপাঠকে বয়ে নিয়ে চলেছি এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ বছর আমাদের গীতাপাঠের চতুর্থ বর্ষপূর্তি। শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা পাঠের যে মহাসংকল্প আমরা গ্রহণ করেছিলাম মায়াপুর থেকে। আগামী ৭ ডিসেম্বর এই গীতাপাঠের আয়জন করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার জন্মজয়ন্তী। বিশ্বে এই একটি গ্রন্থ আছে যার জন্মজয়ন্তী পালন হয় তার নাম শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা। আনুমানিক ৫১২৬ তম বর্ষপূর্তি। (যদিও মায়াপুর ইসকনের পক্ষ তঘেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আজ থেকে ৫১৫৮ বছর পূর্বে শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার দিব্যজ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে প্রদান করেছিলেন।) সেজন্য ১ ডিসেম্বর বিধিবত মণ্ডপ নির্মাণের কার্যক্রম আমরা শুরু করছি।“
১০০৮ কলস যাত্রা
“কলকাতার দইহাট থেকে ১০০৮ কলস যাত্রা হবে। সনাতন মত অনুযায়ী ব্রাহ্মণ, পুরোহিত, বেদবাক্য পাঠ করবেন। নাম সংকীর্তন করবেন। একটি শোভাযাত্রা সহকারে পবিত্র গঙ্গাজল পূজন করে আমরা হাজার কলসে জল ভরে সেই পবিত্র জল ব্রিগেডে দিয়ে আসব। সেখানে বিধিবত বাস্তু পুজো হবে। সকাল ন’টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। বাস্তু পুজোর পর শ্রীজগন্নাথ ক্ষেত্র থেকে প্রভুর মহাধ্বজ এসে গিয়েছে। সেই মহাধ্বজকে আমরা স্কলে মিলে ব্রগেডে মন্ডপ নির্মাণের জায়গায় স্থাপনা করব। সেই দিন থেকে আমাদের এই অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে।“
গীতাপাঠ শুরু সকলা ৯টা থেকে
“৭ ডিসেম্বর মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ন’টা থেকে। সেখানে আমরা মেইন পয়েন্ট থেকে মঞ্চ পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রা হবে। তাতে শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাকে একটি রথের উপর স্থাপনা করে আমরা নাম-সংকীর্তন, পুষ্প বৃষ্টির মাধ্যমে শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতকে মূল মঞ্চে স্থাপনা করব। সেখানে আরতি হবে। সারা দেশ থেকে আগত প্রায় দু’হাজার সাধু-সন্ত তাদের যথাযথ রীতি মেনে বরণ করে নেওয়া হবে। তারপরই গীতাপাঠ শুরু হবে।“
গীতাপাঠের জন্য নির্মিত হচ্ছে চারটি মঞ্চ
গীতাপাঠের জন্য মঞ্চ নির্মাণ নিয়ে স্বামী নির্গুণানন্দ মহারাজ বলেন- “এ বছর গীতাপাঠের তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। মূলতঃ চারটি মঞ্চ। মূল মঞ্চের নাম দেওয়া হয়েছে- পার্থসারথি মঞ্চ। এছাড়াও আরও দু’টি মঞ্চ রয়েছে- প্রেমাবতার শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু মঞ্চ, শঙ্করাচার্য মঞ্চ থাকছে।এর পাশে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ থাকছে। যেখানে আমাদের ধর্মীয় সঙ্গীত এবং গীতাপাঠ সংঘটিত হবে। এই তিনটি মঞ্চে শুধুমাত্র আমন্ত্রিত সাধু-সন্তদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বছর পূর্বাভারতের সর্ব্বৃহৎ গীতাজয়ন্তী আয়োজন করতে চলেছি। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গীতার তিনটি প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায় অর্থাৎ,আদি, মধ্য ও অন্ত পাঠ করব ।“
যেসব সন্তরা উপস্থিত থাকবেন
“এই গীতাপাঠের পূর্বে আমরা পাঁচ লক্ষ মানুষকে সনাতন ধর্ম রক্ষার জন্য একটি সঙ্কল্প করব যেখানে আগামিদিনে কিভাবে আমরা সনাতনী ধর্মকে রক্ষা করব। এখানে রাষ্ট্রীয় স্তরে যে সমস্ত সন্তরা আসছেন তারা হলেন- স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ, সাধ্বী ঋতাম্ভরা, বাগেশ্বরের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী এবং যোগগুরু রামদেবজি। এছাড়াও বাংলা, বিহার, ওড়িশা, আসাম, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্নাটক থেকেও সাধু-সন্তরাও আসার জন্য নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এভাবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলবে। এই অনুষ্ঠান এ আগত স্কলকে সাদা পোশাক পরে আসার কথা বলা হয়েছে আমাদের সনাতনী রীতি মেনে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক মহিলাকে বাড়ি থেকে শঙ্খ নিয়ে আসতেও বলা হয়েছে। সনাতনে শঙ্খনাদ একটা বড় বার্তা বহন করে।“ যোগ করেন নির্গুণানন্দ মহারাজ।


Published on: নভে ২৬, ২০২৫ at ২৩:২৭



