

Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৩০ মে : কলকাতার বিশিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ী এবং এআর–ইএস কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মহাদেব পাঞ্জাবির স্মরণে এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয় কলকাতার সিন্ধু ভবনের অমৃত ভেলা মন্দিরে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যিনি কর্ম, সততা ও মানবিকতার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, তাঁর স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আত্মীয়–স্বজন, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্মরণসভার অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল পুত্র অনিল পাঞ্জাবির বক্তব্য। পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন। কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে তিনি বলেন, “বাবা, তোমাকে হারানোর মধ্য দিয়ে আমার পৃথিবী চিরতরে বদলে গেছে। তবে তোমার কণ্ঠস্বর, তোমার অদম্য শক্তি আর তোমার ভালোবাসা—সবই আজও প্রতিদিন আমার অন্তরে বেঁচে আছে। তুমি হয়তো আমার চোখের আড়াল হয়ে গেছ, কিন্তু আমার হৃদয় থেকে তুমি কখনোই হারিয়ে যাবে না। তোমাকে আমি চিরকালই খুব মনে করব, বাবা।”
প্রকৃতির প্রতিকূলতাও যেন সেদিন মহাদেব পাঞ্জাবির প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে থামাতে পারেনি। প্রবল ঝড়–বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ৬০০ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁর স্মরণসভায়। যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁদের প্রত্যেকের স্মৃতিতে তিনি আজও একজন মহৎপ্রাণ, উদার ও সহৃদয় মানুষ হিসেবেই অম্লান।
গত ২৬ মে, ২০২৬ সালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহাদেব পাঞ্জাবি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। স্ত্রী মায়া পাঞ্জাবি, একমাত্র পুত্র অনিল পাঞ্জাবি, পুত্রবধূ নীতা, নাতি–নাতনি শরনা ও শবাদ, জামাতা যোগেশ এবং প্রপৌত্র–প্রপৌত্রী মিভান ও জিভিকাসহ পরিবারের সকল সদস্য আজও তাঁর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছেন।
একটি ছোট ঘর থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর সংগ্রামের পথচলা। সীমিত সামর্থ্য, অসীম পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পর্যটন সংস্থা এআর–ইএস। সেই সময় পুত্র অনিল ছিলেন খুবই ছোট। অসংখ্য প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, আজ তা দেশের পর্যটন ব্যবসার জগতে একটি সুপরিচিত নাম। শুধু একটি সফল প্রতিষ্ঠানই নয়, বহু পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যতের ভরসা হয়ে উঠেছে এআর–ইএস।
মহাদেব পাঞ্জাবির জীবন ছিল সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর শারীরিক উপস্থিতি আজ আর নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা এবং ভালোবাসা বেঁচে রয়েছে তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীর স্মৃতিতে এবং অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত স্মরণে।
মানুষের জীবন একদিন শেষ হয়, কিন্তু কিছু মানুষ তাঁদের কর্ম ও ভালোবাসার মাধ্যমে সময়কে অতিক্রম করে অমর হয়ে থাকেন। মহাদেব পাঞ্জাবি তেমনই এক মানুষ—যিনি চলে গিয়েও রয়ে গেলেন সকলের হৃদয়ের গভীরে।



