বঙ্কিম ভবন সযত্নে রক্ষিত আছে- জানিয়ে দিলেন অধ্যক্ষ ড. রতন নন্দী

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

“বঙ্কিমচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পুত্র, ছোট ভাই এরাও বঙ্কিমচন্দ্র-বন্দেমাতরম সম্পর্কে লিখেছিলেন। সেখানে তারা দেখিয়েছেন বন্দেমাতরম গানটা নৈহাটির এই ভবন থেকেই লেখা হয়েছে।”

Published on: ফেব্রু ২৩, ২০২১ @ ২০:৩৩

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, নৈহাটি, ২৩ ফেব্রুয়ারি:    “বঙ্কিম ভবন ভেঙে তো পড়েইনি। বরং সযত্নে রক্ষিত আছে। এখানে গবেষণামূলক কাজকর্ম করা হয়। অসংখ্য পুঁথি আমরা সংগ্রহ করছি। প্রতিদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার জন্য বহু ছাত্র-ছাত্রী এখানে আসেন।” বঙ্কিম-ভবন গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. রতন নন্দী একথা জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, খুব ভালোভাবেই যে নৈহাটিতে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটা তাঁর বন্দেমাতরম লেখা পবিত্র স্থান ও বাসভবন সুন্দরভাবে সুরক্ষিত রয়েছে তা আজ সচক্ষে আপনারা দেখে নিন। এমনকী সাহিত্যসম্রাটের ব্যবহৃত ঘরে বসেই সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলেন ঐতিহাসিক বন্দেমাতরম রচনার সেই কাহিনিও। কেমন আছে বঙ্কিম ভবন? চলুন এখানকার অধক্ষ্যের মুখ থেকেই শুনে নেওয়া যাক।

বঙ্কিম-ভবন বেশ সুরক্ষিত

গতকাল হুগলিতে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলে ফেলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যেখানে বসে বন্দেমাতরম রচনা করেছিলেন সেই বঙ্কিম ভবনের আজ বেহাল অবস্থা। এ রাজ্যের সরকারের সেদিকে কোনও খেয়ালই নেই। কিন্তু তথ্য যে ঠিক নয় তা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে চাউর হয়ে যায় চারিদিকে। বিশেষ করে এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সরব হয় নৈহাটির মানুষ। কারণ, নৈহাটি হল সাহিত্যসম্রাটের জন্মভিটে। এখানে বসেই তিনি বন্দেমাতরম গান রচনা করেছিলেন। কাজেই নৈহাটিতেই আজ বঙ্কিম-ভবন বেশ সুরক্ষিত সুন্দর ভাবে রয়েছে।

কোথায় বসে লেখা হয়েছিল বন্দেমাতরম

আর সেটাই তুলে ধরেন বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. রতন নন্দী। রতনবাবু এজন্য সর্বপ্রথম বন্দেমাতরম গানের প্রসঙ্গ টেনে সেটা কোন সময় কোথায় বসে লেখা হয়েছিল সেকথা তুলে ধরেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে। রতনবাবু বলেন-  “এই ভবন আজ সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও ভগ্নদশা কিংবা জরাজীর্ণ অবস্থার চিহ্নমাত্র দেখতে পাবেন না। এখানে বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যবহৃত পাগড়ি, তাঁর যে লেখার জায়গা সব সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে।”

ঐতিহাসিক সময়ের কথা তুলে ধরেন

রতনবাবু বলতে থাকেন সেই ঐতিহাসিক সময়ের কথা। “বঙ্কিমচন্দ্রের বঙ্গদর্শনে প্রথম যে আনন্দ মঠ প্রকাশিত হয় তাতে বন্দেমাতরম সঙ্গীতটি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আনন্দমঠ সঙ্গীত রচনার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। বঙ্কিমচন্দ্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখা লিখেছেন। যেগুলো লোকরহস্য বা কমলাকান্তের দফতরে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন তথ্যে দেখেছি, এখানে যখন বঙ্গদর্শন প্রকাশ করা হত তার একজন প্রুফ রিডার ছিলেন। একদিন সেই প্রুফ রিডার কিছু পেজে লেখা অল্প হয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বঙ্কিমচন্দ্রকে একটা লেখা দিতে বলেন। এমনটা এর আগেও হয়েছে। তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে লেখা দিয়ে দিতেন। কিন্তু সেইদিন তিনি তা করলেন না। লেখা লিখে তা টেবিলে রেখে দিলেন। তখন ওই ভদ্রলোক সেই লেখাটা দেখে বলে উঠলেন – বাঃ, লেখেটা তো ভারী সুন্দর। আমি তো এটা ছাপাতে পারি। বঙ্কিমচন্দ্র লেখাটা সেদিন ছাপাতে দেয়নি। বললেন, এটার গুরুত্ব অপরিসীম।তুমি এখন বুঝবে না। ২০-২৫ বছর বেঁচে থাকলে তখন বুঝবে। আশ্চর্যের বিষয় – এর মধ্যে কিন্তু বন্দেমাতরম গানটা ছিল।”

‘নৈহাটিতে বসেই যে বঙ্কিমচন্দ্র বন্দেমাতরম রচনা করেছিলেন’

নৈহাটিতে বসেই যে বঙ্কিমচন্দ্র বন্দেমাতরম রচনা করেছিলেন সেই তথ্য তুলে ধরে রতনাবাবু বলে চলেন- “বঙ্কিমচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পুত্র, ছোট ভাই এরাও বঙ্কিমচন্দ্র-বন্দেমাতরম সম্পর্কে লিখেছিলেন। সেখানে তারা দেখিয়েছেন বন্দেমাতরম গানটা নৈহাটির এই ভবন থেকেই লেখা হয়েছে। ওনার (প্রধানমন্ত্রীর) বক্তৃতায় যে বাড়িটার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে হুগলিতে বঙ্কিমচন্দ্র কিছুদিনের জন্য সেই বাড়িটি ভাড়া করে ছিলেন ঠিকই কিন্তু বঙ্গদর্শনে যে প্রকাশিত গান তার যে প্রাথমিক প্রস্তুতি তৈরি হয়ে গেছিল সেটা আমরা জানি কমলাকান্তের দফতরে ঠিক একই বিষয় নিয়ে তিনি কিন্তু একটা লেখা লিখে গেছেন। লেখাটা ওখান থেকেই প্রকাশিত হয় এবং ছাপানো হয়।”

‘বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম এই ঘরে বসেই লেখা হয়েছিল’

রতনবাবু জোর দিয়ে বলেন- “বিভিন্ন জনেই বলে থাকেন বন্দেমাতরম তাদের জায়গা থেকে লেখা। আমাদের গবেষকরা বিশদ আলোচনা করেছেন এবং আমরা নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করতে পারি যে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম এই ঘরে বসেই লেখা হয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন বন্দেমাতরম যে ভবনে বসে লেখা হয়েছিল সেই বাড়িটা ভেঙে পড়ে গেছে তা হল এটা অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। ভারতবাসীর কাছে একটা খারাপ বার্তা যাবে।কারণ, নৈহাটিতে বঙ্কিম ভবন সম্পুর্ণ সুরক্ষিত ও অটুট আছে। আর সেখানে গবেষকরা আজও নিরলসভাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে গবেষণার কাজ করে চলেছেন।”

কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও এই ভবন দেখে প্রশংসা করে গেছেন

“আপনাদের জানার জন্য বলছি- কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরাও এখানে এলে বঙ্কিমভবনে আসেন।এটা দেখে তারা প্রশংসা করে গেছেন। এর মধ্যেও এখানে রাজনাথ সিং এসছিলেন। কাজেই বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ি ভেঙে গেছে এই তথ্যটা যারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তারা অত্যন্ত গুরু সংবাদ পরিবেশন করেছেন। আর তার উপর ভিত্তি করে এরকম একটা খবর সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া নৈহাটিবাসী থেকে শুরু করে বঙ্কিম অনুরাগী এবং বঙ্কিম গবেষকদের কাছে অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনাদায়ক।” বলেন বঙ্কিম-ভবন গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. রতন নন্দী।

Published on: ফেব্রু ২৩, ২০২১ @ ২০:৩৩


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

62 − = 53