ইন্দোনেশিয়ায় হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের ম্যাসকট, লোগো আর থিম সং নিয়ে নানা তথ্য

খেলা বিদেশ
শেয়ার করুন

Published on: আগ ১৪, ২০১৮ @ ২০:০২

এসপিটি নিউজ, জাকার্তা, ১ আগস্ট: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ান শহর জাকার্তা ও পালেমবাংয়ে এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে। এটি গেমসের ১৮তম আসর। সর্বশেষ দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়ান গেমস। ১৯৫১ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম অনুষ্ঠিত হয় এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এরপর প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর এশিয়ান দেশগুলোকে নিয়ে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে এই গেমস। এবারের আসরে ৪৫টি দেশ থেকে ৪০টি ক্রীড়ায় প্রায় ১০ হাজার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিত হচ্ছে এশিয়ান গেমস। এর আগে ১৯৬২ সালে প্রথমবার এই গেমস আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। তখন শুধুমাত্র রাজধানী জাকার্তায় আয়োজিত হলেও এবারই প্রথমবারের মত দু’টি শহরে এই গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন ১৯৬২ সালের গেমসের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যাবে ২০১৮’র আসর।
এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ১৮ আগস্ট জাকার্তার জেলোরা বুং কারনো মূল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানও একই জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে।
ম্যাসক
পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার বার্ড-অব-প্যারাডাইস খ্যাত ডেরাওয়ান পাখিটিকে প্রাথমিকভাবে এবারের গেমসের অফিসিয়াল ম্যাসকট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে ম্যাসকট উন্মোচন অনুষ্ঠানেও ডেরাওয়ানকে প্রকাশ করা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ান ক্রীড়ার একটি বিরাট ঐতিহ্য বহন করে মার্শাল আর্ট। সে কারণেই মার্শাল আর্টের পোশাকের আদলে ডেরাওয়ানকে পোষাক পড়িয়ে মাস্কটটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়ে মাস্কটটি। যে কারণে তা বাতিল করে পরবর্তীতে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন তিনটি ম্যাসকট উন্মোচন করা হয়-যাদের নাম দেয়া হয়েছে ভিন ভিন, অটাং ও কাকা। বার্ড-অব-প্যারাডাইসের সবচেয়ে বড় সদস্য হিসেবে ভিন ভিন, বাউইন হরিণ হিসেবে অটাং ও জাভান রাইনোসিরাস হিসেবে কাকা, এই তিনটি মাস্কটকে এবারের গেমসের অফিসিয়াল মাস্কট হিসেবে সকলের সাথে পরিচিত করে দেওয়া হয়। এই তিনটি মাস্কট দ্বারা ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয়, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের জীব বৈচিত্র্য সকলের সামনে উঠে এসেছে।
লোগো
প্রথম দিকের ম্যাসকটের যে পাখিটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল তার আদলে এশিয়ান গেমসের লোগো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মাস্কটের সাথে সাথে লোগোও পরিবর্তন করা হয়। ১৯৬২ সালে এশিয়ান গেমস আয়োজনের সময় জাকার্তায় বানানো হয়েছিল জেলোরা বুং কারনো স্টেডিয়াম। সেই স্টেডিয়ামটির এরিয়েল ভিউর আদলে নতুন লোগোটি তৈরি করা হয়েছে যার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘এনার্জি অব এশিয়া’। একইসাথে লোগোটি এশিয়ান গেমসের অংশগ্রহণকারী এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ককেও প্রকাশ করে। লোগোটির চারদিকে স্টেডিয়ামের আটটি গেট ও মাঝখানে গেমসের মাহাত্ম্যকে বোঝাতে সূর্যকে ব্যবহার করা হয়েছে।
ক্রীড়া
গত বছর মার্চে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জাকার্তা ও পালেমবাং এশিয়ান গেমসের জন্য ৪২টি ক্রীড়ার ৪৮৪টি ইভেন্ট চূড়ান্ত করে। যদিও পরবর্তীতে ক্রীড়ার সংখ্যা ৩৯’এ নেমে আসে। কার্যনির্বাহী বোর্ডের সভায় ক্রিকেট, সাম্বো ও সার্ফিংকে শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়। ক্রিকেট এর আগের দু’টি গেমসে থাকলেও সার্ফিং ও সাম্বোকে এবারই প্রথম অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ দেশের আপত্তিতে এই তিনটি ক্রীড়া বাদ পড়ে।
এবারের গেমসে নতুন ইভেন্ট হিসেবে ৩*৩ বাস্কেটবল ও বিএমএক্স ফ্রিস্টাইলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও পদক তালিকায় প্রথমবারের মত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইস্পোর্টস।
অফিসিয়াল সং
ইন্দোনেশিয়ান এশিয়ান গেমস আয়োজক কমিটি ২০১৮ এশিয়ান গেমসের টাইটেল ‘এনার্জি অব এশিয়া’ নামে অফিসিয়াল মিউজিক এ্যালবাম প্রকাশ করেছে। এই এ্যালবামে বিভিন্ন শিল্পীর ১৩টি গান রয়েছে।
স্থান, অবকাঠামো
আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রায় সব স্থান মধ্য জাকার্তার জেলোরা বুং কারনো স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জাকার্তা ও পালেমবাং শহরতলীর মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে অবস্থিত। মূলত জেলোরা বুং কারনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে ঘিড়েই পুরো আয়োজন সম্পন্ন হবে। এখানেই বিভিন্ন ধরনের মাল্টি-স্পোর্টস এর আগেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো ২০১১ সালে সাউথইস্ট এশিয়ান গেমস। যে গেমসে ১১টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রায় চার হাজার খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিল।
এবারের গেমসের এ্যাথলেট ভিলেজ উত্তর জাকার্তা ও মিডিয়া ভিলেজ দক্ষিণ জাকার্তায় অবস্থিত।

Published on: আগ ১৪, ২০১৮ @ ২০:০২


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

+ 56 = 63