কর্মী আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনতেই বিজেপিকে মমতার শাসানি-সাহস থাকা ভাল দুঃসাহস ভাল নয়

Main রাজ্য
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা– বাপ্পা মণ্ডল

Published on: ডিসে ৩, ২০১৮ @ ১৮:০১

এসপিটি নিউজ, কেশিয়াড়ি, ৩ ডিসেম্বরঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে কেশিয়াড়িতে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজন্য স্থানীয় কিছু নেতার অপদার্থতাকেই দায়ী করেছেন। আজ কেশিয়াড়ির সভায় দাঁড়িয়ে সেকথা তিনি ভাবে-ভঙ্গিমায় বুঝিয়েও দিয়েছেন। আর এই সভার মাঝেই তাঁর কাছে দলীয় কর্মী আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। এরপর ক্ষিপ্ত মমতা সভাস্থলে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে শাসানি দেন- বলেন, সাহস থাকা ভাল দুঃসাহস ভাল নয়।

সভাস্থলে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “আমার কাছে খবর আছে- আমাদের এক কর্মী আজকে এই মিটিং-এ আসছিল। তাকে ধরে মারা হয়েছে। সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমি শুধু এদের বলি- সাহস থাকা ভাল দুঃসাহস থাকা ভাল না। যেখানে বসে খাচ্ছ, যাদেরটা বসে খাচ্ছ আর সেখানে কেন মিটিং-এ আসবে তা তুমি ঠিক করে দেবে? তুমি তৃণমূল কংগ্রেসের গায়ে হাত দিয়েছ। ভুল করেছো। মনে রাখবে- তোমাদের জ্বালিয়ে দেওয়া-পুড়িয়ে দেওয়ার রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আইন আইনের পথে চলবে। দিল্লির চোখ রাঙানি আমাদের দেখাবে না।”

মমতার হুঁশিয়ারি, “দিল্লি দুদিন বাদে শূন্য হয়ে যাবে। সারা ভারতবর্ষ থেকে বিজেপি বিদায় হবে। সিপিএমকে বিদায় দিয়েছি আমরা। বিজেপিকেও আগামিদিন বিদায় দেব। এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা। এটা আমাদের শপথ। এটা আমাদের অঙ্গীকার।”

এরপর  তিনি বলেন- “আমাকে অনেকে জিজ্ঞাসা করেছিল আপনারা তো কেশিয়াড়িতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হেরেছেন তা হলে কেশিয়াড়ি যাবেন কেন? আমি বললাম- হারিয়েছে বলেই তো আমাকে বেশি করে যেতে হবে। তার কারণ যারা মিথ্যে কথা বলে হারিয়েছে তাদের হারাতে হবে না! তাদের তো হারাতে হবেই। সুতরাং মনে রাখবেন ন’জন আমাদের আছে। কখনও কখনও দিল্লির কোনও নেতা আসে বসন্তের কোকিলের মতো আবার চলে যায় গালাগালি দিয়ে। আগুন লাগিয়ে যায়। আগুন লাগিয়ে দিলে আগুনটা আমাদের নেভাতে হয়। কারণ খাদ্যসাথীর দু’টাকা কিলো চাল পেতে গেলে রাজ্য সরকারকে লাগে।হাসপাতালে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পেতে গেলে রাজ্যকে লাগে। শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ পেতে গেলে রাজ্যকে লাগে। রাস্তা-ঘাট তৈরি করতে গেলে রাজ্যকে লাগে। শ্মশানঘাট তৈরি করতে গেলে রাজ্যকে লাগে। লোকপ্রসার শিল্পীদের ধামসা-মাদলকে সম্মান জানাতে গেলে রাজ্যকে লাগে। রাজ্য সাইকেল দেয়, রাজ্য ট্র্যাকটর দে, রাজ্য স্কলারশিপ দেয়, রাজ্য খাদ্য দেয়। রাজ্য বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য দেয়। রাজ্য ব্রিজ করে দেয়। রাজ্য ১০০ দিনের কাজ দেয়। টোটালটাই রাজ্য করে।আর কেন্দ্রীয় সরকার ঐ গেরুয়াগুলোর দালালি করে।”

Published on: ডিসে ৩, ২০১৮ @ ১৮:০১


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

92 − 83 =