
ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের সহযোগিতায় কলকাতায় এটিএসপিবি-র চোখধাঁধানো বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন
শতাধিক স্কুল পড়ুয়াকে নিয়ে স্বচ্ছতা অভিযান ও সচেতনতায় এক পথনাটিকা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে
সকলের হাতে গাছের চারা বিতরণ করে পরিবেশ রক্ষার আবেদন
বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে কলকাতায় তিনটি সেরা বনেদি বাড়ির বাড়ির দুর্গাপুজো ভ্রমণ


Published on: সেপ্টে ২৮, ২০২৫ at ১২:৪৩
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর: সময় থেমে নেই। পরিবর্তন হয়েছে জলবায়ুর। রূপান্তর ঘটেছে সর্বত্র। পর্যটনেও ঘটে গিয়েছে কত কিছু। সেই দিকে খেয়াল রেখে এবার বিশ্ব পর্যটন দিবসে স্লোগান ছিল- “পর্যটন এবং টেকসই রূপান্তর”। এই স্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল বা এটিএসপিবি অসাধারণ উপায়ে দিনটি উদযাপন করে। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের অধীন কলকাতায় ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের সহযোগিতায় তারা তুলে ধরে কিভাবে পরিবেশে স্বচ্ছতা রক্ষা করে পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। স্কুল পড়ুয়াদের একটি দল এই বিষয়ে এক পথনাটিকাও উপস্থাপন করে। সকলের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পরে বনেদি বাড়ির পুজো ভ্রমণে বের হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলা ঢাকিদের উপস্থিতি ছিল রীতমতো চোখে পড়ার মতো।
প্রদীপ জ্বালিয়ে গাছের চারি বিলি করে অনুষ্ঠানের সূচনা
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কলকাতায় ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের অফিস থেকে। সেখানে সমবেত হয়েছিল উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে পার্ক ইনস্টিটিউশন ও দক্ষিণ কলকাতার খানপুর নির্মলা বালা সরকার গার্লস প্রাইমারি স্কুলের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা। সকলের হাতেই তুলে দেওয়া হয় গাছের চারা। এরপর প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস, আর এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর রোশনি থাপা তিরকে। এটিএসপিবি-র পক্ষ থেকে বিশেষ স্মারক দিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাদের। স্কুলের শিশুরা তাদের নিজের হাতে করা অঙ্কন চিত্র তুলে দেন ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টরের হাতে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএসপিবি-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অভিভাবক সমর ঘোষ, সভাপতি সাগর গুহ, যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য ও তারক সাহা এবং এটিএসপিবি-র অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান সৌমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।
এদিনের অনুষ্ঠানে যে বিষয়গুলি ছিল
এটিএসপিবি-র অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান সৌমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন- “আমরা ৪৬তম বিশ্ব পর্যটন দিবস নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করছি। এখানে ১৩০জনের বেশি স্কু্লের ছাত্র-ছাত্রী আছে। এদিন স্বচ্ছতার উপর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে এক পথনাটিকার আয়োজন করা হয়েছে। সবশেষে আমরা সকলকে সাথে নিয়ে বাসে চেপে কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।
“প্রতিবছর ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের সহযোগিতায় এটিএসপিবি বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করে। ক্রমশ এর পরিধি আরও বড় হচ্ছে। এখানে পরিবেশ স্বচ্ছতার পাশাপাশি বনেদি বাড়ির পুজো ভ্রমণেরও আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে স্কুলছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে একটা আলাদা মাত্রা দিয়েছে।“ বলে এটিএসপিবি-র সভাপতি সাগর গুহ।
‘পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য’
ইন্ডিয়া ট্যুরিজম (পূর্ব ভারত) এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন- “এবার বিশ্বপর্যটন দিবসের থিম হল পর্যটন এবং টেকসই রূপান্তর। এর অর্থ হল- আমরা কোথাও যাচ্ছি সেখানে গিয়ে সেখানকার স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে যাতে সুরক্ষিত রাখতে পারি , তার ব্যাপারে যাতে আমরা সচেতন হতে পারি এবং আগামী প্রজন্ম যাতে সেই জায়গাটিকে ভালভাবে দেখতে পারে আমাদের দায়িত্ব হল- আগামি প্রজন্মের ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে যেমন পরিবেশ সচেতনতা , স্বচ্ছতার দিকিটিও তুলে ধরা হচ্ছে তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
‘পরিবেশ বাঁচাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে’
ইন্ডিয়া ট্যুরজমের আর এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর রোশনি থাপা তিরকে এদিনের অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন-“ এই অনুষ্ঠান আমরা এটিএসপিবি-র সাথে যৌথভাবে করছি। এবছর পরিবেশকে বাঁচাতে তার স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই কাজে এখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত হয়েছে। এটা খুবই উল্লেখযোগ্য একটা দিক। “
ঢাকের বাদ্যিতে পুজোর আমেজ, পর্যটনের জন্য হাঁটল স্কুলছাত্র-ছাত্রীরা
এরপর ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের অফিস থেকে পায়ে হেঁটে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সহ সকলে পরিবেশ বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে রওনা হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উদ্দেশে। এই যাত্রায় উল্লেখযোগ্য দিক ছিল – মহিলা ঢাকিদের উপস্থিতি। একেবারে পুরোভাগে দুইজন মহিলা ঢাকি শারোদৎসবের মুহূর্তকে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। এটিএসপিবি-র পক্ষ থেকে সকলকে এদিন তাদের এবং ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের লোগো লাগানো সাদা রঙের টুপি দেওয়া হয়।
পরিবেশের স্বচ্ছতা রক্ষায় স্কুল পড়ুয়াদের পথনাটিকা
এরপর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে এসে সকলে সমবেত হয়। এখানে দক্ষিণ কলকাতার খানপুর নির্মলা বালা সরকার গার্লস প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রীরা পরিবেশের স্বচ্ছতা রক্ষার উপর এক সচেতনতামূলক পথনাটিকা প্রদর্শন করে। সেখানে তারা বোঝানোর চেষ্টা করে যে পরিবেশ ও প্রকৃতি আমাদের কাছে সব কিছু। এই পরিবেশকে রক্ষা না করলে আমাদের সমূহ বিপদ। আতি সবার আগে স্বচ্ছতা আনতে হবে আমাদের মনে, আমাদের চিন্তাধারায়। কোথাও আবর্জ্জনা রাখা যাবে না। আমাদের যা কিছু চিরন্তন, প্রকৃতির দান তা নষ্ট করা যাবে না। এখানে আমাদের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরার চেহটা করেছে। একজন বাপুজি হয়ে এই পথনাটিকার মাধ্যমে মানুষের কাছে বার্তা দিয়েছেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতা এবং স্থায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের নজর কেড়েছে।
ঝাঁটা হাতে স্বচ্ছতা অভিযান
এই পথনাটিকার শেষে স্কুলের পড়ুয়াদের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস, সমর ঘোষ, সাগর গুহ, স্বরূপ ভট্টাচার্য সহ অনেকেই ঝাঁটা হাতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে স্বচ্ছতা অভিযানে নামেন। এরপর চারটি বাসে করে স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে কলকাতায় বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো ভ্রমণে রওনা হয়ে যায়।
স্কুলছাত্রীর অসাধারণ প্রতিক্রিয়া
শ্যামবাজার পার্ক ইনস্টিটিউশনের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী ইন্ডিয়া ট্যুরিজম এবং এটিএসপিবি-র এমন সুন্দর সুন্দর আয়োজনকে দারুবভাবে নিয়েছে। ছাত্রীটি বলে- এটা আমাদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। এর আগে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।এটা খুবই সুন্দর। এর মাধ্যমে আমরা আজ কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো দেখা এবং তার ইতিহাস জানা হয়ে গেল। এটা একটা বড় পাওয়া আমাদের কাছে।
রাস্তায় ব্যাপক যানযটের কারণে সর্বমোট মোট তিনটি বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো ঘুরিয়ে দেখানো হয়। এগুলি ছিল যথাক্রমে- যানবাজারে রানীরাসমনীর বাড়ির দুর্গাপুজো, শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এবং সবশেষে লাটুবাবুর বাড়ির দুর্গাপুজো।












Published on: সেপ্টে ২৮, ২০২৫ at ১২:৪৩



