
মণিপাল হাসপাতালের এমন উদ্যোগ যদি অন্যান্য হাসপাতালও করে দেখাতে পারে তাহলে খুবই ভাল লাগবে- অনন্যা ব্যানার্জি, কাউন্সিলার , কলকাতা পুরসভা
যারা সারা বছর ধরে আমাদের এলাকাকে পরিষ্কার রাখে তাদের “গ্রিন হিরোজ” আখ্যা দিয়ে মেমেন্টো দিয়ে সম্মান জানানোর উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতাল নিয়েছে তা আমাকে প্রভাবিত করেছে- অনন্যা ব্যানার্জি
Published on: জুন ৫, ২০২৫ at ১৯:৩৪
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৫ জুন : এক অভিনব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করল মণিপাল হাসপাতাল। যারা দিনরাত এক করে এলাকাকে পরিষ্কার রাখে তাদের “গ্রিন হিরোজ” আখ্যা দিয়ে বিশেষভাবে সম্মানিত করল ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এই হাসপাতালটি। তাদের হাতে গাছের চারা এবং মেমেন্টো তুলে দিয়ে এই “গ্রিন হিরো”দের সম্বর্ধিত করা হল। মণিপাল ইএম বাইপাসে এদিন এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা ব্যানার্জি। তিনি মণিপাল হাসপাতালের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন- আগামিদিনে অন্যান্য হাসপাতালও যদি এমন উদ্যোগ নেয় তাহলে খুবই ভাল হয়।
“গ্রিন হিরো” শব্দ্টাকে ভাইরাল করুন
এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মণিপাল হাসপাতালের এমন অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন কাউন্সিলর অনন্যা ব্যানার্জি। তিনি বলেন- “ ২০১৫ সাল থেকে আমার মণিপাল হাসপাতালের সঙ্গে সম্পর্ক। তখন এই হাসপাতালের পিছনে হোগলা বন। জল জমত। আমাদের তখন থেকেই চিন্তাভাবনা ছিল যে কিভাবে এই জায়গা পরিষ্কার রাখা যায়। বলা যেতে পারে তখন থেকেই আমাদের মিলিত যুদ্ধ। এখন সেই যুদ্ধের কিছুটা বিরতি হয়েছে। মানে লক্ষ্য করেছি কিছুটা হলেও এলাকাটা এখন পরিষ্কার হয়েছে। লোকনাথ বাবার তিরোধান দিবসে ভারী বৃষ্টি হলেও এলাকায় কিন্তু জল জমেনি। এই এলাকা পরিষ্কার রাখা যারা এর পিছনে অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন তারা এখানে এসেছেন। বিশেষ করে এটা একটা অভিনব উদ্যোগ। আমাকে স্বীকার করতেই হয়। কারণ ১০ বছর ধরে আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি। আজ একাধিক জায়াগায় দিনটি উদযাপনের কর্মসূচি আছে। কিন্তু সেখানে বৃক্ষ রোপণই মূল কর্মসূচি। এখন এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন হয় বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস আর বৃক্ষ রোপণ একে অপরের পরিপূরক হয়ে গিয়েছে। গাছ লাগানো খুব ভাল কথা। একটি গাছ একটি প্রাণ। এই স্লোগান শুনতে খুব ভাল লাগে। আমি মণিপালের কমল দশেরা এবং সোমা ম্যাডামকে বলছিলাম যে দেখুন শপথ গ্রহণ, অঙ্গীকার সবই ভাল। একটি গঠনমূলক কাজ। কিন্তু তারপর কি হয়, স্থায়িত্ব নিয়ে তো কেউ আলোচনা করেন না। তাই আজ যখন আমরা গাছ লাহগানোর কথা বলি সেটা কতদিনের জন্য? সেটা ৩৬৫ দিনের জন্য। আমি মনে করি পরিবেশ দিবস একট দিনের জন্য নয়। এর আগে আমি সত্যজিৎ কাননে গাছ লাগিয়েছিলাম। গাছ লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের নামও লিখেছিলাম। অন্তত তাতে যদি একাত্ম বোধ হয়। আসলে আমাদের উৎসাহ দিতে হবে। এদিক থেকে মণিপালকে আমি ধন্যবাদ জানাবো, যেখানে তারা অনুষ্ঠান করেছে যেখানে সারা বছর আমাদের এলাকাকে পরিষ্কার রাখে সেই ১০০ দিনের মানুষ জন তাদের আলাদা করে সম্মান জানানো , তাদের মেমেন্টো দিয়ে সম্বর্ধিত করা এটা সত্যিই দারুন ব্যাপার। তাদের যে “গ্রিন হিরোজ” বলা হয়েছে এটা আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছে। তাই আগামিদিনে এই “গ্রিন হিরো” শব্দটাকে ভাইরাল করতে হবে। “
‘মণিপালের মতো উদ্যোগ যদি আরও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করতে পারে’
এরপরই একটু অন্য দূরে সংবাদ মাধ্যমকে একটু ঠেস দিয়ে অনন্যা বলেন- এখন যদি অনুব্রত মন্ডলের কথা বলতাম তাহলে দারুনভাবে সবাই শেয়ার করত। কিন্তু এটা তো গঠনমূলক কাজ , কলকাতা কর্পোরেশনের একশো দিনের মানুষ । তাদের সম্মান জানানোর কাজ। তাই তাদের কথা না বললে তাদের উৎসাহ জানানোয় ভাটা পড়ে যায়। সেই জায়গা থেকে শিক্ষিত সমাজকে বলব , সংবাদ মাধ্যমকেও বলব আপনারা যদি এটি ভাল করে প্রচার করেন। যারা প্রতিদিন কাজ করছেন তাদের সম্মান জানানো এটা যদি করতে পারি তার সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে পারি তাহলে এই যৌথ প্রয়াস ভাল হবে। মণিপালের মতো উদ্যোগ যদি আরও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠজান করতে পারে তাহলেই কিন্তু পরিবেশটা ভাল থাকতে পারে। আসলে ঠিক করে নিতে হবে আমরা আগামিদিনে কোথায় থাকব- কংক্রিটের খাঁচা নাকি মুক্ত আকাশ। আমার মনে হয় উন্নয়ন মানে খোলা জমিতে দশ তলা বাড়ি করে দেওয়া নয়। যেখানে পায়ের তলা মাটি, ঘাস, মাথার পিছনে একটি গাছ তার নীচে একটা কংক্রিটের বেঞ্চ করে দিতে পারি তাহলে বোধ হয় উন্নয়ন যথার্থ হবে।“ যোগ করেন অনন্যা।
‘জলবায়ু বদল, আবহাওয়ার বদল এবং মানসিকতার বদল হওয়া দরকার’
অনন্যা আরও বলেন- “জলবায়ু বদল, আবহাওয়ার বদল এবং মানসিকতার বদল হওয়া দরকার। মনে হয় যদি আরজি করের মতো ঘটনা ঘতে তাহলেই আমরা রাস্তায় নামব। তাহলেই বোধ হয় বিপ্লব হবে। আমি বলছি- বিপ্লব নিঃশব্দে হয়। মণিপালের এই উদ্যোগকে সামনে রেখে আজ থেকে আমরা যদি নিজের বাসস্থানে একটি ছোট গাছ যদি টবে লাগাতে পারি , গাছের গোড়ায় জল জমলে তা ফেলে দিতে পারি, খাবার খেয়ে সেই প্যাকেট রাস্তায় না ফেলে পকেটে করে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিতে পারি তাহলেই আজকের এই অনুষ্ঠানের প্রয়াস সফল হবে। আজকে যে পথ মণিপাল হাসপাতাল দেখিয়েছে তা যদি অন্যান্য হাসপাতালও দেখাতে পারে খুবই ভাল লাগবে।“
”গ্রিন হিরো”দের সম্বর্ধিত করার উদ্যোগ
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে মণিপাল হাসপাতালের পক্ষে সোমা চক্রবর্তী বলেন, “আমরা এবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস একটু অন্যভাবে উদযাপনের উদয়োগ নিয়েছি, যেখানে আমরা আমাদের এলাকাকে সারা দিন ধরে পরিষ্কার রাখেন , সাফ রাখেন সেইসব মানুষগুলিকে আজ বিশেষভাবে সম্বর্ধিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। যাদের আমরা নাম দিয়েছি ”গ্রিন হিরোজ”।
মণিপাল হাসপাতালের পক্ষে কোমল দশেরা গ্রিন হিরোদের উদ্দেশে বলেন- “আপনারা সারাদিন ধরে যেভাবে এলাকাকে পরিষ্কার রাখেন তার জন্য এই এলাকা পরিষ্কার থাকে। এটা একটা বেশ বড় কাজ আপনারা করে চলেছেন। এজন্যই আমরা আপনাদের আজ সম্বর্ধিত করছি। কারণ, আপনারা এই সম্মানের যোগ্য। আপনাদের মতো আমাদের হাসপাতালের ‘গ্রিন হিরো”দেরও একইভাবে সম্বর্ধিত করব।“


Published on: জুন ৫, ২০২৫ at ১৯:৩৪



