
Published on: ফেব্রু ৪, ২০২৬ at ১১:০৮
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৪ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২০২৭-এ পর্যটন খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (TAFI)-র পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি। তাঁর মতে, এই বাজেট উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন মানচিত্রকে নতুন করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে বড়সড় সুযোগ তৈরি করবে।
বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের ছয়টি রাজ্য—অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা জুড়ে একটি নতুন বৌদ্ধ পর্যটন সার্কিট প্রকল্প। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বৌদ্ধ স্থানগুলির উন্নয়ন ও পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনিল পাঞ্জাবির বক্তব্য অনুযায়ী, “বৌদ্ধ পর্যটন সার্কিট শুধু পর্যটন বৃদ্ধির মাধ্যম নয়, এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।” তিনি মনে করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলির পর্যটকদের কাছে এই সার্কিট বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
পর্যটন পরিকাঠামো ও সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের সম্প্রসারণ, বিশেষত RCS-UDAN প্রকল্পের মাধ্যমে আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা বৃদ্ধির ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গন্তব্যগুলি আরও সহজলভ্য হবে বলে মত টাফি’র এই শীর্ষ কর্তার। পাশাপাশি রেল সংযোগ প্রকল্পগুলি গোটা অঞ্চলের ভ্রমণ পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করবে।
তিনি আরও জানান, গত এক দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যটকের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নত পরিকাঠামো ও সরকারি উদ্যোগের ফলে লক্ষ লক্ষ দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহও ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটনকে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসা, আতিথেয়তা ও পরিবহণ খাতকে চাঙ্গা করছে।
স্বদেশ দর্শন প্রকল্প ও বিভিন্ন সার্কিট উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন অনিল পাঞ্জাবি। তাঁর মতে, থিমভিত্তিক পর্যটন পথ—যেমন ঐতিহ্য, প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী ও সংস্কৃতি—উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন মার্ট ও ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে এই অঞ্চলের পরিচিতি বাড়ানো হচ্ছে।
টেকসই ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের উপর সরকারের জোরকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরিবেশ-পর্যটন, ঐতিহ্যবাহী গ্রাম, উপজাতীয় সংস্কৃতি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের জন্য লাভজনক হবে বলেই তাঁর মত।
সব মিলিয়ে অনিল পাঞ্জাবির এককথায় মূল্যায়ন, “পরিকাঠামো, ঐতিহ্যবাহী সার্কিট, সংযোগ ও আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটি সম্ভাবনাময় বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে চাইছে। ২০২৬ সালের বাজেটে ঘোষিত বৌদ্ধ পর্যটন সার্কিট সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।”
Published on: ফেব্রু ৪, ২০২৬ at ১১:০৮



