স্বপ্ন হবে সত্যি: মুড়িগঙ্গার ওপর ৪ লেনের দীর্ঘ সেতুর শিলান্যাস করছেন মুখ্যমন্ত্রী

Main দেশ ধর্ম ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জানু ৪, ২০২৬ at ২৩:১৯

এসপিটি নিউজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৪ জানুয়ারি: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাবাসীর দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামীকাল, ৫ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে সাগরের হেলিপ্যাড প্রাঙ্গণ থেকে ‘গঙ্গাসাগর সেতু’-র শুভ শিলান্যাস ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর তৈরি হতে চলা ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি মূল ভূখণ্ডের কাকদ্বীপের সঙ্গে সাগর দ্বীপের কচুবেড়িয়াকে সরাসরি যুক্ত করবে।

প্রকল্পের এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর এই মেগা প্রজেক্টটি ‘ইপিসি’ (EPC) চুক্তির অধীনে নির্মিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে মেসার্স লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড (L&T) সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

  • প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১৬৭০ কোটি টাকা।
  • নির্মাণকাল: কাজ শুরুর পর থেকে ৪ বছর।
  • সেতুর ধরন: অত্যাধুনিক ‘এক্সট্রা ডোজড কেবল স্টেড টাইপ’।
  • লেন বিন্যাস: ফুটপাতসহ ৪-লেনের বিভক্ত রাস্তা (Carriageway)।
সেতুর বিস্তারিত পরিমাপ (দৈর্ঘ্য মিটারে)
বিবরণ দৈর্ঘ্য (মিটারে)
মূল সেতু ৩১৯৮.০০০
কাকদ্বীপ ভায়াডাক্ট ৩০৯.৩৫৪
কচুবেড়িয়া ভায়াডাক্ট ৩০০.৭১৯
সংযোগ সড়ক (উভয় প্রান্ত) ৯৪৮.৯২৭
মোট দৈর্ঘ্য ৪৭৫৭.০০০ (.৭৫ কিমি)
উন্নয়নের নতুন দিগন্ত: কেন এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ?

এই সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে:

১. যাতায়াতে বিপ্লব: বর্তমানে ভেসেলের ওপর নির্ভরশীল তিন লক্ষ স্থায়ী বাসিন্দা এবং প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলায় আসা প্রায় ৫০ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটকের যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।

২. কৃষি ও বাণিজ্য: সাগর দ্বীপের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিজাত ও শিল্পজাত পণ্য দ্রুত মূল ভূখণ্ডের বাজারে পৌঁছাবে।

৩. বিপর্যয় মোকাবিলা: ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এই দ্বীপে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরবর্তী উদ্ধারকার্য ও ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ অনেক বেশি গতিশীল হবে।

৪. নতুন বন্দর: ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে একটি নদী বন্দর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে।

প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ১২.৯২২৩৯ একর জমির প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি জমি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাতে আসবে বলে আশা করছে পূর্ত বিভাগ।

মুড়িগঙ্গা নদীর উপর এই সেতুটি নির্মিত হলে তা কেবল একটি পরিকাঠামো হিসেবে নয়, বরং সুন্দরবনের প্রবেশপথের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাগর ও কাকদ্বীপ চত্বরে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Published on: জানু ৪, ২০২৬ at ২৩:১৯


শেয়ার করুন